অন্যায়ের উৎস- শেখ সাদির গল্প

বিখ্যাত ন্যায়পরায়ন বাদশা নওশেরোয়া একবার জংগলে হরিণ শিকারে গিয়েছিলেন। হরিণ শিকার করে তার মাংস দিয়ে কাবাব তৈরী করতে হুকুম দিলেন। ঘটনাক্রমে তাদের সঙ্গে লবণ ছিল না। লবণ আনার জন্য এক ভৃত্যকে গ্রামে পাঠানো হলো। বাদশাহ বলে দিলেনঃ খবরদার লবণ যেন দাম দিয়ে কিনে আনা হয়। আমার খাতিরে কেউ যদি খুশি হয়ে দেয়, তবুও বিনা মূল্যে আনবে না। তাতে একটা কুপ্রথা চালু হয়ে যাবে।
সঙ্গীরা বললেনঃ সামান্য একটু লবণ আনবেন তাতে কি এমন মারাত্নক ক্ষতি হবে।
বাদশাহ বললেনঃ অন্যায়ের ভিত্তি প্রথমত খুব ক্ষুদ্রই থাকে। পরে যে আসে সে একটু বাড়ায়, এমনি করে গোটা দুনিয়া অন্যায়ে ছেয়ে যায়।

“রাজা যদি খায় প্রজার গাছের
একটি মাত্র কুল,
ভৃত্যেরা তার ফেলিবে উপড়ি
সেই বৃক্ষের মূল।
বাদশা অর্ধেক ডিমও যদি কারে
অন্যায় ভাবে লয়।
হাজার মুরগি জোর করে নিতে
সেনারা পাবেন ভয়।”
শিক্ষাঃ রাজা বাদশাহরা মোবাহ কাজ করলে প্রজা সাধারণ তা ফরযের ন্যায় করার জন্য উতসাহবোধ করে। সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা কোন ছোট গুনাহ করলে সধারণ লোকেরা তা দ্বিগুন উতসাহের সাথে করতে থাকে। তাই তাদের এমন কোন অপরাধ করা উচিত নয়; যা সাধারন মানুষকে পাপের দিকে ধাবিত করে।

You may also like...

Skip to toolbar