আদর্শ নরপতি- শেখ সাদির গল্প

এক যুবরাজ পিতার ওয়ারিশসুত্রে বিপুল ধনসম্পদের অধিকারী হয়েছিলোন,অন্যান্য যুবরাজের মত তিনি বিলাসী ও ক্ষমতা প্রিয় ছিলেন না। তার অন্তঃকরণটা ছিল আকাশের মত উদার এবং দয়া মহত্ত্বে ভরপুর। জনসেবা করে মানুষের হৃদয় জয় করাই ছিল তাঁর আদর্শ এবং উদ্দেশ্য। সিংহাসনে বসেই তিনি দান করতে শুরু করতেন। সেনাবাহিনী থেকে শুরু করে পথের ভাখারী পর্যন্ত সবাইকে তিনি অর্থদান করতেন। অযাচিত দান পেয়ে আপামর জনসাধারন তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে উঠল এবং আল্লাহর দরবারে তাঁর মঙ্গল ও দীর্ঘায়ু কামনা করতে লাগল।

শাহজাদার এক দরবারী ছিলেন ভারী হীনমনা ও অদূরদর্শী। তিনি বাদশাকে বুঝাতে শুরু করলেনঃ আপনার পূর্ব পুরুষেরা কোন মহান উদ্দেশ্যে এই ধনরত্ন সঞ্চয় করে রেখে গেছেন। সেই অর্থ এভাবে অকাতরে ব্যয় করা বুদ্ধিমানের কাজ হচ্ছে না। দরবারে দানের হাত একটু খাটো করুন। সামনে বিপদাপদের সম্ভাবনা এবং পেছনে শত্রু রয়েছে। খোদা না করুক, প্রয়োজনের সময় অর্থাভাব দেখা দিতে পারে।

মন্ত্রীর এই যুক্তি বাদশার মনঃপুত হল না। তিনি বিরক্ত হয় মন্ত্রীকে তিরষ্কার করে বললেনঃ দয়াময় আল্লাহ দয়া করে আমাকে এই ধনভান্ডারের মালিক করেছেন এই জন্য যে, আমি নিজে খাব অপরকে খাওয়াব। আর দীন দরিদ্রদেরকে দান করে দুঃস্থ মানবতার সেবা করবো। এগুলো শুধু পাহারা দেব সে জন্য দেয়া হয় নি।

শিক্ষাঃ জ্ঞানী ব্যক্তিরা সম্পদ হাতে আসলে অকাতরে দান করতে থাকেন। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেন না। আল্লাহপাক সম্পদ দিয়েছেন, তা থেকে তারা গরীব-দুঃখীদেরকে বিতরণ করতে থাকেন। হীনমনা ব্যক্তিরা উক্ত দান সহ্য করতে পারে না।

You may also like...

Skip to toolbar