আবু লুবাবা (রা)

হযরত আবু লুাবাবরা (রা) আসল নামের ব্যাপারে যথেষ্ট মতেভেদ আছে। মুসা ইবন উকবা ও ইবন হিশাম বলেন, তাঁর নাম বাশীর। আর ইবন ইসহাকের মতে রাফা’য়া। তাফসীরে তাঁর নাম সারওয়ান বলে উল্লেখ করেছেন।১ বালাজুরঅর মতে রাফা’য়া হচ্ছে আবু লুবাবার ভাই তিনি আকাবার শেষ বা’ইয়াতে অংশ গ্রহণ করেন। বদরেও অংশ গ্রহণ করেন এবং খাইবার যুদ্ধে শহীদ হন। আল আবু লুবাবার নাম বাশীর।২  তাঁর আসল নাম যাই হোক না কেন, ইতিহাসে তিনি আবু লুবাবা নামেই খ্যাত। তাঁর পিতার নাম ‘আবদুল  মুনজির ইবন যুবাইর। মদীনার বিখ্যাত আউস গোত্রের বনু আমর ইবন আওফ শাখার সন্তান। তিনি আকাবার শেষ বাইয়াতে (শপথ) অংশ গ্রহণ করেন এবং নিজ গোত্রের ‘নাকীব’ (দায়িত্বশীল) মনোনীত হন।৩

তিনি রাসূলুল্লাহর (সা) সাথে অধিকাংশ যুদেআধ অংশ গ্রহণ করেন। বদর যুদ্ধের সময় বিশেষ সম্মান ও লাভ করেন। এ সফরে প্রতিটি উটের ওপর তিনজন করে আরোহী ছিলেন। রাসূলুল্লাহর (সা) উটের ওপর আবু লুবাবা ও আলী ইবন আবী তালিব (রা) ছিলেন। তার পালাক্রমে উটের পিঠেই ওফানাামা করছিলেনম ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি উটের পিঠেই থাকুন আমরা হেঁটে চলছি। কিন্তু রসূল (সা) বলছিলেন, তোমরা আমরা চেয়ে বেশি শক্তিশালী নও। আর এমনও নয় যে তোমাদের চেয়ে বেশী সওয়াবের প্রয়োজন আমার নেই।৪

ইবন ইসহাক বলেনঃ অনেক বলেছেন, আবু লুবাব ও আল হারিস ইবন হাতিব, রাসুল্লাহর (সা) সাথে বদরে দিকে যাত্রা করেন। কিছু দূর যাওয়ার পর পর থেকে রাসূল (সা) তাঁদের দুজনকে আবার মদীনায় ফেরত পাঠান। রাসূল (সা) আবু লুবাবকে মদীনার ইমারাতের দায়িত্ব ও দান করেন। যুদ্ধ শেষে রাসুল (সা) তাঁদের দুজনকেই  গনীমতের অংশ দেন এবং আসহবে বদরের মতোই তাঁদের সাথে আচারন করেন। মুসা উবন উকবা আবু লুবাবকে বদরীদের মধ্যে উল্লেখ করেছেন।৫ ইবন হিশাম বলেনঃ রাসূল (সা) আর রাওহা নামক স্থানে তাদের দজনকে ফেরত পাঠান।৬

হিজরী ২য় সনের শাওয়াল মসে মদীনার ইহুদী গোত্রের বনু কায়নুকার সাথে সংঘটিত যুদ্ধে এবং এই সনের জ্বিলহাজ্জ মাসে সংঘটিত সাবীক যুদ্ধে তিনি যোগদান করেননি। এ সময় রাসূল (সা) তাঁকে মদীসায় স্থালভিষিক্ত করে যান। রাসূল (সা) পনেরো দিন যাবত বনু কায়নুকা অবরোধ করে রাখেন্ এ সময় আবু লুবাবা মদীনায় ইমারাতের দায়িত্ব পালন করেন।৭

হিজরী ৫ম সনে খন্দক যুদ্বের সময় মুসলমানদের সাথে কৃত চুক্তি ভঙ্গ করে মদীনায় ইহুদী গোত্রে বনু কুরায়জা কুরাইশ বাহিনীকে সাহায্য ও সহযোগীতা করে। যুদ্ধ শেষে রাসূল (সা) মুসলিম বাহিনী নিজ নিজ ঘরে ফিরে আসার পরই জিবরীল (আ) রাসূলুল্লাহর (সা) নিকট এসে বলেনঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি কি অস্ত্র রেখে দিয়েছেন? বললেনঃ হ্যাঁ জিবরল (আ) বললেনঃ কিন্তু ফেরেশতারা অস্ত্র রাখেনি। ইয়া মুহাম্মদ! আল্লাহ আপনাকে বনু কুরায়াজার দিকে নির্দেশ দিয়েছেন। আমি সে দিকেই যাচ্ছি এবং তাদেরকে নাড়া দিচ্ছি। রাসূলু (সা) তখন জুহরের নামায শেষ করে মাত্র ঘরে ফিরেছেন।

জিবরীলের (আ) এ কথার পর রাসূল (সা) সাথে সাথে ঘোষনা দিলেনঃ বনু কুরায়জা পৌছে ছাড়া কেউই আমার নামাজ পড়বে না। ঘোষনা অনুযায়ী সবাই বনু কুরায়জায় পৌঁছে। র্দীঘ ২৫ রাত তাদের দুর্গ অবরোধ করে রাখা হয় এবং তাদেরকে আতœসমর্পণের আহাবান জানানো হয়্ অবশেষে  আল্লাহ তাদের অন্তরে ভীতি সৃষ্টি করে দেন। তারা তাদের পুরাতন বন্ধু  হযরত সা’দ ইবন মু’য়াজের (রা) শালিশী মেনে নিতে রাজি হয়।

মাদীনার আউস গোত্রের বনু আমর ইবন আওফ শাকার সাথে বনু কুরায়াজার সেই জাহিলী যুগ থেকে মৈত্রী চুক্তি ছিল। আবু লুবাবা ছিলেন এ গোত্রেরই লোক। এ কারণে তারা অবরুদ্দ অবস্থায় রাসূলুল্লাহার (সা) নিকট আবেদন জানায়: আমাদের কাছে আবু লুবাবাকে পাঠান, আমরা তাঁর সাথে একটু পরমর্শ করতে চাই। রাসূল (সা) তাদের আবেদ মঞ্জুর করেন এবং আবু লুবাবকে তাদের কাছে যাওয়ার অনুমতি দেন।

আবু লুবাব বনু কুরায়াজায় পৌঁছালে ইহুদীরা তাঁর প্রতি যথেষ্ট সম্মান প্রদর্শন করে। তারা আবু লুবাবার নিকট তাদের সমস্যা তুলে ধরে। ইহুদী নারী ও শিশুরা কাঁদতে কাঁদতে দিশেহারার মত তার সামনে এসে দাড়িয়ে। দৃশ্যটি ছিল সত্যিই হৃদয়বিদারক। আবু লুবাবর অন্তর কোমল হয়ে যায়। তারা আবু লুবাবাকে প্রশ্ন করেঃ আমরা কি মুহাম্মদের নির্দেশ মেনে নেব? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তাবে সাথে সাথে নিরে গলার দিকে হাত দিয়ে ইঙ্গিত  করে বুঝিয়ে দেন যে তাদরেকে হত্যা করা হবে।

আবেগের বশে এ ইঙ্গিত তো করে ফেললেন। কিন্তু সাথে সাথে এ উপলদ্ধি জান্মালো যে এতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সা) বিশ্বাস ভঙ্গ করা হয়েছে। তখন তাঁর পায়ের তলার মাটি যেন সরে গেল। তিনি সেখানে থেকে উঠে সোজা মসজিদে নববীতে চলে আসলেন এবং এটি মোটা ও ভারী বেড়ী দিয়ে নিজেকে মসজিদের একটি খুঁটির সাথে বেঁধে বললেনঃ যতক্ষন আল্লাহ আমার তাওবা কবুল না করেন, এভাবে বাঁধা অবস্থায় থাকবো।

এদিকে আবু লুবাবর ফিরতে দেরি দেখে একদিন রাসূল (সা) বললেনঃ আবু লুবাব কি তার মিশন শেষ করেছে? তখন লোকেরা রাসূলকে (সা) বিষয়টি অবগত করে। রাসূল (সা) যা হোক যা হয়েছে ভালোই হয়েছ্ েসে যদি সোজা আমার কাছে চলে আসতো আমি তার জন্য আল্লাহর কাছে ইসতিগফার করতাম। মোটকথ, বিশ মাতন্তরে দশ রাত বেড়ী বাঁধা অবস্থায় আবু লুবাবার অতিক্রান্ত হয়। নামায ও অন্যান্য জরুরী প্রয়োজনের সময় তাঁর স্ত্রী বেড়ী খুলে দিতেন এবং প্রয়োজনে শেষ হলে আবার বেঁধে দিতেন্ পানাহার একেবারেই ছেড়ে দেন। শ্রবণ শক্তি কমে যায়, দৃষ্টি শক্তি ও ক্ষীণ হয়ে পড়ে। একদনি দুর্বলতার কারণে অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আর তখনই আল্লাহর রহমত নাযিলের সময় হয়।

হযরত রাসূলে করীম (সা) সে দিন উম্মুল মুমিনীন হযরত উম্মু সালামার (রা) ঘরে ছিলেন। প্রভাতের পূর্বেই আয়াত নাযিজ হয়। রাসূল (সা) একটু হেসে ওঠেন। তা দেখে হযর উম্মু সালামা (রা) বলেনঃ ইয়া  রাসূলুল্লাহ!  আল্লাহ আপনাকে সব সময় খুশী রাখুন। বলুন তো কি ব্যাপার? বললেনঃ আবু লুবাবর তাওবা কুল হয়েছে। উম্মু সালামা (রা) জানতে চাইলেন, আমি কি এ সুসংবাদ মানুষকে জানিয়ে দিতে পারি?  রাসূল (সা) বললেনঃ হাঁ তখনও হিজাবের আয়াতনাযিল হয়নি। উম্মম সালামা (রা) হুজরার দরজায় দাঁড়িয়ে  লোকদদেরকে বিষয়টি জানিয়ে দেন। লোকেরা আবু লুবাবাকে মুক্ত করার জন্য ছুটে যায়। কিন্তু তিনি বললেনঃ যখন ফজরের নামাযের জন্য মসজিদে আসেন তখননিজ হাতে তাঁকে বন্ধনমুক্ত করেন।

তাওবা কবুল লুবাবা (রা) দারুণ খুশী হন। তিনি রাসূলুল্লাহর (সা) নিকট এসে বলেনঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি ঐ বাড়ী ত্যাগ করতে চাই যেখনে আমি এ পাপে লিপ্ত হয়েছি। আমি আমার সকল সম্পদ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য সাদাকা করে দিতে চাই। রাসূল (সা) বললেনঃ সব নয় বরং এক-তৃতীয়াংশই যথেষ্ট। তিনি  এক-তৃতীয়াংশই দান করেন।

হযরত আবু লুবাবর (রা) এ তাওবার পশ্চতে কি কারণ ছিল  সে সম্পর্কে অবশ্য সীরাত বিশেষজ্ঞদের মতভেদ আছে। মা’মার ইমাম যুহরী থেকে বর্ণনা করেছেন। অবু লুবাব তাবুক যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করার আপরাধে তাওবার এ পন্থা অবলম্বন করেন। হযরত ইবন আব্বাসও (রা) একথা বলেছেন, সূরা আতাওবার ১০২ নং আয়াতে আর কোন কোন লোক আছে যারা নিজেদের পাপ স্বীকার করেছে, তারা মিশ্রিত করেছে একটি নেককাজ ও অন্য একটি বদকাজ। শীঘ্রই আল্লাহ হয়তো তাদরে ক্ষমা করে দিবেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ ক্ষমাশীল করুণাময়, আবু লুবাবসহ আরও ৮/৯ জন সম্পর্কে নাযিজ হয। তারা তাবুব যুদ্ধে যোগদান না করে মদীনায় থেকে যায়। তারপর অনুতপ্ত হয়ে সকলে তওবা করে। তারা তাওবার পদ্ধতি হিসেবে নিজেদেরকে মসজিদের খুঁটিতে বেঁধে ফেলে। অতঃপর তাদের তাওবা কবুল হয়। তাদের সবচেয়ে ভলো কাজ এ তাওবা সবচেয়ে মন্দকাজ তাবুকে যোগদান না করা।

আবু আমারের মতে তাবুকের ঘটনায় নয়; বরং বনু কুরায়জার ঘটনায় আবু লুবাবা এ তাওবা  করেন। আব তারই পরিপ্রেক্ষিতে সূরা আল আনাফালের ২৭ নং আয়াত ‘ হে ঈমানদারগণ! খিয়ানত করোনা আল্লাহর সাথে ও রাসূলের সাথে এবং খিয়ানত করোনা নিজেরদের পারস্পরিক ানানতে জেনে শুনে নাযিল হয়। আবু আমরাসহ অনেকের মতে আবু লুবাবা তাবুক যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। যে সকল মুসলমান বিনা কারণে তাবুকে যোগদান করেননি তাঁদের সংখ্যা মাত্র তিন। তাঁরা হলেন মুরারা ইবন রাবী; হিলাল ইবন উমাইয়্যা এবং কাব ইবন মালিক (রা)। তাঁদের সাথে  আবু লুবাবকে যুক্ত করা ঠিক নয়। কারণ, সূরা আত্ তাওবার ১১৮ নং আয়াতে উপরোক্ত তিনজনের কথাই বলা হয়েছেঃ ্ এবং অপর তিনজনকে যাদের পিছনে রাখা হয়েছিল, যখন পৃথিবী বিস্তৃত হওয়া সত্ত্বেও তাদের জন্য সস্কুচিত হয়ে গেল এবং তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠলো আর তাা বুঝতে পারলো যে আল্লাহ ব্যাতিত আর কোন আশ্রয়স্থল নেই-অত:পর তিনি সদয় হলেন তাদের প্রতি যাতে তারা ফিরে আসে।৮

হিজরী ৮ম সনে মক্কা বিজয় অভিযানে বনু আমর ইবন আওফের ঝান্ডা ছিল হযরত আবু লুবাবর (রা) হতে। এছাড়া রাসূলুল্লাহর (সা) জীবদ্দশঅয় সংঘটিত সকল যুদ্ধ ও অভিযানে তিনি অংশগ্রহণ করেন।

তাঁর মৃত্যু সন নিয়ে দারুণ মতভেদ আছে। তবে অধিকাংশের  মতে তিনি হযরত আলীর (রা) খিলাফতকালে মারা যান।  আবার একথাও বর্ণিত হয়েছে যে, হযরত উসমানের (রা) শহাদাতের পর তিনি মারা যান। কেউ কেউ এমন কথাও বলেছেন যে, হিজরী ৫০ সন পর্যন্ত তিনি জীবিত ছিলেন।৯ মৃত্যু কালে সয়িব ও আবদুর রহমান নামে দুটি ছেলে রেখে যান।

হযরত আবু লুবাবা ছিলেন একজন অতি মর্যাদাবান সাহাবী। তিনি বহু বছর রাসূলুল্লাহর (সা০ সাহচর্যের সৌভাগ্য লাভ করেন। এ সময়ে রাসূলুল্লাহর (সা) বহু বানী শুনে থাকবেন। কিন্তু তাঁর বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা অতি নগণ্য তাঁর থেকে যাঁরা হাদীস শুনেছেন এবং বর্ণনা করেছেন তাদের মধ্যে অনেক বড় বড় সাহাবীও আছেন। যেমনঃ গযরদ আবদুল্লাহ ইবন  উমার (রা)। তাছাড়া তাবেঈনদের প্রথম তাবকার অনেকেই তাঁর ছাত্র ছিলেন এবং তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। এখানে প্রসিদ্ধ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হলোঃ

আবদুর রহমান ইবন ইয়াযীদ ইবন জাবির উব বরক ইবন আমর ইবন হাযমা সা’ঈদ ইবন মুসাইয়্যাব, আবদুর রহমান ইবনকাব ইবন মালিক,সালেম ইবন আবদিল্লাহ উবাইদুল্লাহ ইবন আবী ইয়াযিদ নাফে মাওলা ইবন উমার তাঁর দুছেলে সয়িব ও আবদুর রহমান।১০

হযরত আবু লুবাবা (রা) ইসলামের পূর্ণ অনুসারী ছিলেন। কুরআন ও নুন্নাহর আদেশ নিষেধ পূর্ণুেপে েেন চলতেন। মানবিক দুর্বলতার কারণে কক্ষনো কোন রকম ক্রটি বিচ্যুাতি হে য়গেলে তা বুঝতে  পারার সাথে একনিষ্টভবে তাওবা করতেন। আমাদের স্মরণ রাখতে হবে, আবু লুবাবা (রা) বনু কুরায়জার ব্যাপারে যে ভুল করেছিলেন এবং তাতে তাঁর চেয়ে বেশি পরিচ্ছন্ন ও উজ্জল করেছিল তাঁর তাওবা। আল্লাহ পাক স্বয়ং তাঁর তাওবা কবুল হওয়ার ঘোষনা দিয়ে অহী নাডিল করেছেন, আর আল্লাহর রাসূল (সা) সন্তুষ্টি চিত্তে নিজ হাতে তাঁর বন্ধন খুলে দিয়েছেন।আবু লুবাবার (রা) এর চেযে বড় মর্যাদা এবং পাওয়া আর কি আছে? প্রকৃতপক্ষে অনুতপ্ত তাওবাকারী  অপরাধী আল্লাহর অতি প্রিয়। তিনি অতি খুটিনাটি বিষয়েও রাসূলুল্লাহর (সা) হাদীসের ওপর আমলের প্রতি লক্ষ্য রাখতেন।

হযরত আবদুল্লাহ ইবন উমার (রা) মুখ থেকে সাপ মারার হাদীস শুনেছিলেন। এ কারণে সাপ দেখরেই মেরে ফেলতেন। আবু লুবাবর (রা) বাড়ীটি ছিল তাঁরই বাড়ীর একেবারে লাগোয়। একদিন তিনি বিন উমারকে (রা) বললেনঃ আপনার বাড়ীর দরজাটি একটু খুলুন,আমি এ পথেই মসজিদে যাব। ইবন উমার (রা) উঠে যেইনা দরজা খুলেছেন, অমনি একটি সাপ দেখতে পেলেন। ইবন উমার (রা) মারার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। আবু-লুবাবা (রা) তাঁকে বাধা দিয়ে বললেনঃ রাসূল (সা) ঘরের সাপ মারতে নিষেধ করেছে।১১

আবু নু’য়াইম তাঁর আদÑদালায়িল’ (১৬০) গ্রন্থে আবু লুবাবর একটি বর্ণনা এনেছেন। তিনি বলেছেনঃ রাসূল (সা) এক জ্ম্মুার দিন মিম্বারের ওপর দাঁড়িয়ে খুতবা দিতে গিয়ে বলেনঃ হে আল্লাহ! আমাদেরকে পানি দাও। আবু লুবাবা বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! খেজুর তো শুকানো জন্য উঠোনে রয়েছে। রাসূল (সা) বললেনঃ হে আল্লাহ আমদেরকে পানি দাও যতক্ষনা আবু লুবাব ল্যাংটা হয়ে ওঠে এবং নিজের পাজামা দিয়ে তার উঠোনের পানির নালা বন্ধ করে। তারপর এত  বৃষ্টি হতে থাকে যে লোকেরা আবু লুবাবকে বললোঃ রাসূল (সা) তোমার সম্পর্কে যা বলেছেন তানা করা পর্যন্ত বৃষ্টি থামবে না। আবু লুবাবকে তাই করলেন। বৃষ্টিও থেমে গেল।১২

এভাবে আবু লুবাবার (রা) জীবনের অনেক টুকরো টুকরো কথা সীরাতের গ্রন্থ সমুূহের পাতায় ছড়িয়ে আছে।

You may also like...

Skip to toolbar