আমানতের মাসায়েল -মাওলানা মুহাম্মদ হেমায়েত উদ্দিন

১। টাকা-পয়সা বা মাল-সামান আমানত রাখলে আমানতদারের উপর তার পূর্ণ হেফাজত করা ওয়াজিব।
২। কেউ টাকা-পয়সা আমানত রাখলে অবিকল সেই টাকা-পয়সাই পৃথকভাবে হেফাজত করে রাখা ওয়াজিব, নিজের টাকার সঙ্গে মিশানো এবং ঐ টাকা থেকে খরচ করা জায়েয নয়। এরূপ করতে হলে মালিক থেকে অনুমতি নিতে হবে।
৩। আমানতের মাল পূর্ন হেফাজত করা সত্ত্বেও নষ্ট হয়ে গেলে তার ক্ষতিপূরন দিতে হয় না। আর হেফাফতে ত্রুটি করার কারনে নষ্ট হলে বা চুরি হলে কিংবা খোয়া গেলে ক্ষতিপূরণ দিতে হয়।
৪। কেউ কাপড়-চোপড়, হাড়ি-পাতিল, থালা-বাসন, বই-পত্র, অলংকার ইত্যাদি আমানত রাখলে মালিকের বিনা অনুমতিতে আমানতদারের পক্ষে তা ব্যবহার করা জায়েয নয়। গাভী আমানত রাখলে তার দুধ খাওয়া বা বলদ আমানত রাখলে তার দ্বারা জমি চাষ কারানো মালিকের অনুমতি ব্যতীত জায়েয নয়।
৫। কেউ যদি বলে, ভাই! এই মালটা দেখুন আমি আসছি, আর আপনি বলেন আচ্ছা ঠিক আছে, কিংবা চুপ থাকেন বা হাত দ্বারা সে বস্তুটা সামলে নেন, তাহলে আমানত রাখার হুকুম এসে যায়। যদি আমানত রাখতে অসুবিধা থাকে তাহলে এরূপ মুহূর্তে পরিষ্কারভাবে তাকে শুনিয়ে বলে দিতে হবে যে, না ভাই আমার ওজর আছে, আমি দেখতে/রাখতে পারবো না।
৬। আমানতকারী যখনই তার মাল ফেরত চাইবে তখনই তার মাল তার নিকট ফেরত দেওয়া ওয়াজিব, বিনা ওজরে ফেরত দিতে বিলম্ব করার জায়েয নয়।
৭। আমানতকারী নিজে না এসে অন্য কোনো লোককে মাল ফেরত নেয়ার জন্য পাঠালে তাকে নিজের দায়েত্বে দেয়া যায়। পরে যদি মালিক অস্বীকার করে যে, সে তাকে পাঠাইনি, তাহলে মালিক আপনার কাছ থেকে মাল আদায় করে নিতে পারে। এরূপ মুহূর্তে একথাও বলা যায় যে, মালিক নিজে না আসলে আমি অন্য কারও কাছে দিব না।
৮। কেউ আমানত রাখলে সেটা লিখে রাখা আদব।
৯। যে অভাবী, তার জন্য কারও আমানত না রাখা উচিত। কেননা অভাব আমানত খেয়ানতের বা অনিয়মের কারন ঘটাতে পারে।
১০। আমানদার নিজেই মালের হেফাজত করবে, নিজের কাছেই রাখবে কিংবা পরিবারের মধ্যে স্ত্রীর কাছে, মায়ের কাছে, মেয়ের কাছে বা এরূপ অন্য কারও কাছে যাদের উপর পূর্ণ আস্থা আছে এবং যাদের কাছে সে নিজের টাকা-পয়সা সচরাচর রাখে এদের কাছেও আমানতের মাল রাখতে পারবে। এ ব্যতীত অন্য কারও নিকট মালের মালিকের বিনা অনুমতিতে রাখতে পারবে না। রাখলে খোয়া গেলে ভর্তুকি দিতে হবে। বিশ্বস্ত বন্ধু-বান্ধব যাদের কাছে সে নিজের মালামাল রেখে থাকে তাদের কাছেও মালিকের বিনা অনুমতিতে রাখতে পারবে।
১১। মালিকের অনুমতি নিয়ে আমানতের মাল দ্বারা ব্যবসা করা যেতে পারে।
বিঃদ্রঃ হেফাজতের সঙ্গে আমানত রেখে অন্যের উপকার করা অনেক ছওয়াবের কাজ। কিন্তু আমানতে খেয়ানত করলে কবিরা গোনাহ হবে।
আল্লাহ আমাদেরকে আমল করার তৌফিক দান করুন।
সূত্রঃ আহকামে যিন্দেগী । পৃষ্ঠা নং- ৪১০-৪১১

You may also like...

Skip to toolbar