আমার ইবন আল-জামূহ (রা)

হযরত আমর ইবন আলÑ জাহামূহের (রা) পিতার নাম আলÑ জামাহূ ইবন যায়িদভ মদীনার বিখ্যাত খাযরাজ গোত্রের বনু সালামা শাকার সন্তান। একজন আনসারী সাহাবী।১ জন্ম সন ও প্রথম জীবন সম্পর্কে তেমন কোন তথ্য পাওয়া যায় না। ইবন ইসহাক তাঁর মাগাযীতে বলেনঃ তিনি বনু সালামা তথ্য গোটা আনাসার সম্প্রদায়ের একজন নেতা ও সম্মনিত ব্যক্তি ছিলেন।২ তাছাড়া জাহিলী আমলে তিনি তাদের ধর্মীয় নেতাও ছিলেন। তাদের মূর্তি উপাসনা কেন্দ্রের বা মুতাওয়াল্লীও ছিলেন।৩

তাঁর ঘরে কাঠের নির্মিত একটি বিগ্রহ ছিল তার নাম ছিল মানাত। বিগ্রহটিকে তিনি সীমাহীন তাজীম করতেন।৪ এর মধ্যে মক্কায় ইসলামের ধ্বনি উথিত হলো। কিছু লোক মদীনা থেকে মক্কায় আসলেন এবং আকাবার দ্বিতীয় শপথে অংশগ্রহণ করে আবার মদীনায় ফিরে গেলেন। এই দুই দলে আমারের ছেলে মুয়াজও ছিলেন।

মদীনায় ফিরে এসে তাঁরা খুব জোরেশোরে ইসলামের দাওয়াত দিতে শুরু করলেন এবং অতি দ্রুত তথাকার অলি গলি তাকবীর ধ্বনিতে প্রতিধ্বনি হয়ে উঠলো। এরই মধ্যে বুন সালামার কিছু তরুণ ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তাঁরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিলেন যে, যে কোনভাবে তাঁদের সম্মনিত নেতা আমরকে ইসলামের সুশীলত ছায়ায় আনতে হবে। তাঁর ছেলে মুয়াজ চেষ্টার কোন ক্রটি করলেন না। এক পর্যায়ে তাঁদের মথায় নতুন এক খেয়াল চাপলো।

তাঁর ছেলে মুয়াজ বন্ধু ইবন হায়াসাম মতান্তরে মুয়াজ ইবন জাবারল ও অন্যদের সংগে করে রাতে বাড়ীতে আসতেন এবং সকলের অগোচলে অতি সন্তর্পণে আমরের অতিপ্রিয় বিগ্রহটি তুলে নিয়ে দূরে কোন ময়লাÑআবর্জনার গর্তে ফেলে আসতে লাগলেন। সকালে আমার তাঁর প্রিয় বিগ্রটির এমন দারুন দশা দেখে দারুণ দুঃখ পেতেন। আবার সেটা কুড়িয়ে এনে ধুয়ে মুছে সুগন্ধি লাগিয়ে পূর্ব স্থানে রেখে দিতেন। এ প্রক্রিয়া কিছু দিন যাবত চলতে লাগলো। অবশেষে একদনি নিরুপায় হয়ে বিগ্রটির কাঁধে একখানি তরবারি ঝুলিয়ে বললেন, কারা তোমাদের সাথে এমন অশোভন আচরণ করছে আমার তা জানা নেই। যদি জানতে পররতাম, তাদের উচিত শিক্ষা দিতাম। এই থাকলো তরবারি তুমি কিছু করতে পারলে কর।

তরুণরা তখন আর একটি নতুন খেলা খেললেন। তাঁরা রাতরে অন্ধকারে বিগ্রহটি উঠিয়ে নিয়ে তরবারিটি সরিয়ে নিলেন এবং তার সাথে একটি মরা কুকুর বেঁধে ময়লার গর্তে ফেলে রাখলেন। সকালে আমার তাঁর উপাস্যের এমন অবমাননা দেখে ক্ষিপ্ত হওয়ার পরিবর্তে সঠিক পথের দিশা পেলেন। প্রৃত সথ্য তাঁর চোর ধরা পড়লো। তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন। তাঁর তখনকার সেই অনুভুতিক তিনি একটি কবিতায ধরে রেখেছেন। একানে তার কয়েকটি পংক্তির অনুবাদ দেওয়া হল।

১. আল্লাহর নামের শপথ! যদি তুমি ইলাহ হতে তাহলে ময়লার গর্তে এভাবে কুকুর সাথে এক রশিতে বাঁধা থাকতে না।

২. সকল প্রশংসা মাহান আল্লাহর, যিনি দানশীল, সৃষ্টির রিযিকদাতা ও দ্বীনের বিধান দানকারী।

৩. তিনিই আমাকে বাঁচিয়েছেন করের অন্ধকারে বন্দী হওয়ার পূর্বে। অন্য একটি কবিতায় তিনি বেলনঃ

১. আমি পূতঃ পবিত্র আল্লাহর নিকট তাওবা করছি। আমি আল্লাহর আগুন থেকে ক্ষমা ভিক্ষা করছি।

২. প্রকাশ্য ও গোপনে আমি তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও প্রশংসা করছি।৫

ইবন ইসহাক ‘আমার ইবন আলÑজামূহের ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে ভিন্ন একটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন। বনু সালামের তরুণদের সাথে আমরে স্ত্রীÑপুত্রও ইসরাম গ্রহণ করলেন। একদিন আমার স্ত্রীকে বললেন, এসব যুবক কি করে তার শেষ না দেখা পর্যন্ত তুমি তোমার পরিবারের কাউকে তাদের দলে ভিড়াতে দিওনা। স্ত্রী বললেনঃ আমি না হয় তা করলাম; কিন্তু আপনার ছেলে এই ব্যক্তি৬ সম্পর্কে কি সব কথাবার্তা বলে তাকি আপনি শোনেন? আমর বললেনঃ সম্ভবত সে ধর্মত্যাগী হয়েছে। স্ত্রী বললেনঃ না সে তার গোত্রীয় লোকদের সাথে ছিল। তাকে এখানো পাঠানো হয়েছে। আমর স্ত্রী জিজ্ঞসা করলেনঃ তুমি কি এই লোকটির কোন কথা শুনেছো? বললোঃ হ্যাঁ, শুনেছি। এরপর সূরা আলÑফাতিহার প্রথম থেকে পাঠ করে শোনালেন। আমর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন এভাবেঃ এতি মিষ্টিমধুর বাণী! তার সবই বাণীই কি এমন? স্ত্রী বললেনঃ হায়রে আমার কপাল!  এর চেয়েও ভালো। আপনার গোত্রীয় লোকদের মত আপনিও কি বাইয়াত বা শপথ করতে চান? বললেনঃ না আমি তা করছি না। আমি একটু মানাত দেবীর সাথে পরামর্শ করতে চাই। দেখি সে কি বলে। আরবদের প্রথা ছিল তারা মানাতের কথা শুনতে চাইলে একজন বৃদ্ধা তার পিছনে দাড়িয়ে তার পক্ষে উত্তর দিত। আমর মানাতের কাছে আসলে বৃদ্ধাটি অদৃশ্য কত কথা বলে উড়াচ্ছে, আর তুমি নিরব শ্র্যেতা হয়ে দাড়িয়ে আছ। এ ব্যক্তি তোমার ইবাদত করতে নিষেধ করছে। তোমাকে পরিত্যাগ করতে বলছে। আমি তোমার পরামর্শ ব্যতীত তারহতে বাইয়াত করতে চাইনা। বল, আমি কি করতে পারি। তিনি দীর্ঘক্ষর্ণ পরামর্শ চাইলেনঃ কিন্তু মাানাত কোন সাড়া দিল না। তারপর তিনি ক্ষুদ্ধ হয়ে বললেনঃ সম্ভবত তুমি রাগ করেছো। ঠিক আছে এখন থেকে তোমার সাথে আমার আর কোন সম্পর্ক নেই। তিনি উঠে দাঁড়িয়ে মানাতের মূতির্টি ভেঙ্গে গুঁড়ো করে ফেললেন।৭

হযরত আমরেরইসলাম গ্রহণের সময়কাল সম্পর্কে আরো কিছু অপ্রসিদ্ধ মতামত আছে। ইবনুল আসীর বলেন, একটি বর্ণনা মতে তিনি আকাবার দ্বিতীয় বাইয়াত ও বদরের তাবাকাত বা স্তরে উল্লেখ করেননি।৮ কালবী বলেছেন তিনি আনাসারদের মধ্যে সর্বশেষ ইসলাম গ্রহণকারী।৯

রাসূলুল্লাহ (সা) মদীনায় এসে আনাসার মুহাজিরদের মধ্যে যে দ্বীনী ভ্রাতৃ সম্পর্ক প্রতিষ্টা করে দেন, একটি বর্ণনা মতে তাতে উবাইদা ইবনুল হারেস ও আমরের মধ্যে এ সম্পর্ক প্রতিষ্টত হয়।১০

বদর যুদ্ধে হযরত আমরের (রা) যোগদানের ব্যাপারে মতভেদ আছে। তবে সঠিক মত এই যে তিনি বদরে যোগদান করেননি। কোন কারণে তিনি পায়ে আঘাত পান এবং খোঁড়া হয়ে যান। এ অবস্থায়ও তিনি যুদ্ধে যেতে চাইলেন ছেলেরা রাসূলুল্লাহ (সা) অনুমতি নিয়ে তাঁকে তাঁর সংকল্প থেকে বিরত রাখেন। তাঁরা বোঝান যে এ অবস্থায় তাঁর ওপর জিহাদ ফরজ নয়।

উহুদের রণÑদামামা বেজে উঠলো। আমর ছেলেদের ডেকে বললেন, তোমরা আমাকে বদরে যেতে দাওনি। এবার আমি তোমাদের কোন নিষেধ মানবো না। এ যুদ্ধে আমি যাবই। ইবন ইসহাক ঘটনাটি এভাবে বর্ণনা করেছেনঃ আমর ইবন আলÑজামূহ ছিলেন মারাতœক ধরনের খোঁড়া। সিংহের মত তাঁর চার ছেলে ছিল। সকল কাজ ও ঘটনায় তাঁরা রাসূলুল্লাহর (সা) সংগে থাকতেন। উহুদের দিনে তাঁরা বললেনঃ আল্লাহ আপনাকে মাজুর (অক্ষম) করেছেন। আপনার যুদ্ধে যাওয়ার দরকার নেই। আমর (রা) খোঁড়তে খোঁড়াতে রাসূলুল্লাহর (সা) নিকট এসে বললেনঃ আমার ছেলেরা আমাকে যুদ্ধে যেতে বারণ করছে। আল্লাহর কসম! এ খোঁড়া পা নিয়ে খোঁড়াতে খোঁড়াতে আমি জান্নাতে যেতে চাই। রাসূলুল্লাহ (সা) বললেনঃ আল্লাহ তো  আপনাকে মাজুর করেছেন। জিহাদ আপনার ওপর ফরজ নয়। একথার পরও আমরকে তাঁর সিদ্ধান্তে অটল দেখে রাসূলু (সা) তাঁর ছেলেদের বললেনঃ তোমার আর তাঁকে বাধা দিওনা। আল্লাহ পাক হয়তো তাঁকে শাহাদাত দান করবেন।১১

ইমাম সুহাইলী বলেনঃ অন্যরা আরো বলেছেন, আমার বাড়ী থেকে বের হওয়র সয়ম অন্তরে সবটুকু বিনীত ভাব ঢেলে দিয়ে দু’আ করেনঃ

ইলাহী! তুমি আর আমাকে মদীনায় ফিরিয়ে এনো না। আল্লাহ পাকের দরবারে তাঁর এ আকুল আবেদন কবুল হয় যায়। তিনি শহীদ হন।১২

উহুদ যুদ্ধ শুরু হলো। আমরও প্রাণপণ করে যুদ্ধে করছেন। প্রচন্ড যুদ্ধের এক পর্যায়ে মুসলিম বাহিনী বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়লো। তখন তিনি ছেলে খাল্লাদকে সাথে নিয়ে পৌত্তলিক বাহিনীর ওপর প্রচন্ড আক্রমন চালালেন। দারুণ সাহসিকাতর সাথে যুদ্ধ করে পিতা ও পুত্র এক সাথে শাহাদাত বরণ  করেন। হযরত আমরের (রা) তীব্র বাসনা ও রাসূলুল্লাহর (সা) ভবিষ্যদ্বানী সত্যে পরিণত হলো। তিনি খোঁড়াতে খোঁড়াতে জান্নাতে পৌছে গেলেন। এটা হিজরী ৩য়/ খ্রীঃ ৬২৫  সনের ঘটনা।১৩

যুদ্ধ ক্ষেত্রে হযরত আমরের (রা) প্রাণহীন দেহ পড়ে আছে। রাসূল (সা) পাশ দিয়ে যাচ্ছেন। লাশটি দেখে চিনতে পেরে থমকে দাড়ালেন। বললেনঃ আল্লাহ তাঁর কোন কোন কসম পূরণ করেন। আমার তাদেরই একজন। আমি তাঁকে খুড়িয়ে খুঁড়িয়ে জান্নাতের হাঁটতে দেখতে পাচ্ছি। আমর ও খাল্লাদের (সা) ঘাতক আলÑআসওয়াদ ইবন জাউন।১৪

আমরের (রা) শাহাদাতের খবর তাঁর স্ত্রীর কাছে পৌঁছালে তিনি একটি উট নিয়ে আসেন স্বামী ও ভাই আবদুল্লাহ ইবন আমর (জাবির (রা) পিতা) এর লাশ দুটি উটের পিঠে উঠিয়ে বাড়ীতে নিয়ে যান। কিন্তু পরে সিদ্ধান্ত হয়, উহুদের রণÑক্ষেত্রেই সকল শহীদকে দাফন করা হবে। রাসূল (সা) আমরের স্ত্রীর নিকট থেকে লাশ দুটি ফিরিয়ে আনেন এবং উহুদের সকল শহীদের সাথে দাফন করেন।১৫ ইবন ইসহাক বনু সালমার কতিপয় সম্মানীয় বৃদ্ধ ব্যক্তির সূত্রে বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ (সা) উহুদের শহীদদের দাফনের সময় বলেনঃ তোমরা আমর ইবন জামূহ ও আবদুল্লাহ  ইবন হারামের দিকে একটু লক্ষ্য রেখো। দুনিয়াতে তারা একই সারিতে সারিবদ্ধ ছিল। তাদেরকে একই কবরে দাফন কর।১৬ তাদেরকে এক কবরে একই সাথে দাফন করা হয়।

তবে ইমাম সুহাইলী বর্ণনা করেন, যে আমরের ছেলেরা তাঁর লাশ মদীনায় আনার জণ্য একটি উটের ওপর উঠান। উট অবাধ্য হয়ে যায়। শত চেষ্টা করেও তাঁরা উটটি মদীনার দিকে আনতে পারলেন না। তখন তাদের স্মরণ হলো পিতার অন্তিম দু’ আটির কথা: প্রভু হে আমাকে, আর মদীনায় ফিরে এনো না। তারা আর অহেতুক চেষ্টা করলেন না। পিতাকে তাঁরা তাঁর নিহত হওয়ার স্থলেই দাফন করেন।১৭

ইমাম মালিক আলÑমুওয়াত্তা গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।  উহুদে শাহাদাত প্রাপ্ত আমর ইবন জামূঞ ও আবদুল্লাহ ইবন আমরকে পানির নালার ধারে এক সাথে কবর দেওয়া হয়। বহু বছর পর স্রোতে কবরটি ভেঙ্গে যায় এবং লাশ দুটি সম্পর্ন অক্ষত অবস্থায় বেরিয়ে পড়ে। যেন তাঁরা গতকার মৃত্যুবরণ করেছেন। অন্যত্র কবর দেওয়ার জন্য লাশ দুটি তোলা হয়। আবদুল্লাহ ছিলেন আহত। তাঁর একটি হাত ক্ষত স্থানটির ওপর রাখা এভাবেই তাঁদেরকে আবার দাফন করা হয়। উহুদের যুদ্ধ ও এই ঘটনার মাঝখানে মসয়ের ব্যবধানি ছল প্রায় ৪৬ (ছিচল্লিশ) বছর।

জাবির বলেনঃ কবর থেকে তোলার পর আমি আমার পিতাকে দেখলাম তিনি যেন কবরে ঘুমিয়ে আছেন। দেহের কোন অংশ বিন্দুমাত্র বিকৃত হয়নি। তাঁকে প্রশ্ন করা হলো তাঁদের দাফনের আবস্থা কিরুপ দেখেছিলেন? বললেনঃ এক টুকরো কাপড় দিয়ে দেখলাম তিনি মুখসহ উপর দিক ঢাকা ছিল। আর পায়ের দিকে ছল হারমাল নামক এাক প্রকার ঘাস। এ দুটি বস্তুও অক্ষত ছিল।১৮

পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে, আমরের (রা) ছিল চার ছেলে। তাঁরা সকলে রাসূলুল্লাহর (সা) সাথে সকল যুদ্ধ ও ঘটনায় শরীক ছিলেন। সীরাত গ্রন্থে সমূহে দুইজনের নাম পাওয়া যায়। মুয়াজ ও খাল্লাদ। মুয়াজ (রা) পিতপার আগেই ইসলাম গ্রহণ করেন এবং আকাবার দ্বিতীয় বাইয়াত বা শপথে অংশ গ্রহণ করার গৌরব অর্জণ করেন। খাল্লাদ (রা) উহুদের অন্যতম শহীদ। এছাড়া আমরের (রা) আবু আয়মান নামক এক দাসও এ যুদ্ধে শহীদ হন।১৯  একজন মুসলামনের জন্য এর চেয়ে আর বড় গৌরব ও সম্মানের আর কি হতে পারে?

আমরের (রা) গর্বিত স্ত্রীর নাম ছিল হিন্দা বিনতু আমর। বানু সালামার এক নেতা, উহুদের শহীদ আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন হ ারামের বোন এবং প্রখ্যাত সাহাবী জাবির ইবন আবদিল্লাহর (রা) আপন ফুফু।

আমর (রা) ছিলেন দীর্ঘদেহী, উজ্জল গৌর বর্ণের। মাথার চুল ছিল কোঁকড়ানো। পা ছিল খোঁড়া।২০ অতিথি সেবা ও দানশীলতা হচ্ছে আরবদের প্রাচীন ঐতিহ্য। তাঁর দানমীলতার জন্য রাসূল করীম (সা) তাঁকে বনু সালামার নেতা ঘোষণা করেন। ঘটনাটি এই রকম। একবার বনু সালামার কিছু লোক রাসূলুল্লাহর (সা) নিকট আসলো। তিনি জিজ্ঞেসা করলেনঃ তোমাদের নেতা কে? তারা বললোঃ জাদ্দা ইবন কায়স। সে একজন কৃপণ ব্যক্তি। তাদের কথা শুনে রাসূল বললেনঃ কৃপণতার চেয়ে নিকৃষ্ট রোগ আর নেই। তোমাদের নেতা বরং আমর ইবন আলÑজামূহ।২১ অবশ্য ইমাম যুহরীর একটি বর্ণনা বিশর ইবন আলÑবারার নামটি এসেছে।২২ এ ঘটনাকে আনসারদের একজন কবি কাব্যাকারে বর্ণনা করেছেন।২৩ তার কয়েকটি পংক্তির অনুবাদ নিম্নরুপঃ

১, রাসূল (সা) বললেনÑ আর তাঁর কথাইতো সত্য তোমাদের নেতা কে?

২, তারা বলরোঃ জাদ্দা ইবন কায়স যদিও সে আমাদের নেতৃত্ব দেয় সে একজন কৃপণ।

৩, সে এমন এক যুবক যে পৃথিবীবাসীর প্রতি কোন পদক্ষেপ নেয়না এব ংকারো প্রতি সাহায্যের হাত বাড়ায় না।

৪, অতএব, তিনি আমর ইবন জামূহকে নেতা বানালেন তাঁর দানশীলাতর জন্য। দানশীলতার কারণে নেতৃত্ব দানের অধিকার আমরেরই।

৫, কোন সাহায্যেপ্রার্থী তাঁর কাছে এলে তিনি তাঁর সম্পদ তাকে দেন। আর বলেন, এগুলি লও এবং আগামীকাল আবার এসো।

রাসূল কারীমের প্রতি ছিল তার প্রচন্ড ভক্তি ও ভালোবাসা। রাসূল (সা) যখন কোন শাদী করতেন তিনি নিজ উদ্যেগে তার ওলীমা করতেন।

You may also like...

Skip to toolbar