’আলী ইবন আবী তালিব (রা)— ১ম অংশ

নাম আলী, লকব আসাদুল্লাহ, হায়দার ও মুরতাজা, কুনিয়াত আবুল হাসান ও আবু তুরাব।

পিতা আবু তালিব আবদু মান্নাফ, মাতা ফাতিমা। পিতা-মাতা উভয়ে কুরাইশ বংশের হাশিমী শাখার সন্তান।

আলী রাসূলুল্লাহর সা. আপন চাচাতো ভাই।

রাসূলুল্লাহর সা. নবুওয়াত প্রাপ্তির দশ বছর পূর্বে তাঁর জন্ম। আবু তালিব ছিলেন ছাপোষা মানুষ।

চাচাকে একটু সাহায্য করার উদ্দেশ্যে রাসূল সা. নিজ দায়িত্বে নিয়ে নেন আলীকে।

এভাবে নবী পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে তিনি বেড়ে ওঠেন।

রাসূল সা. যখন নবুওয়াত লাভ করেন, আলীর বয়স তখন নয় থেকে এগারো বছরের মধ্যে।

একদিন ঘরের মধ্যে দেখলেন, রাসূলে কারীম সা. ও উম্মুল মুমিনীন হযরত খাদীজা রা. সিজদাবনত।

অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, এ কি? উত্তর পেলেন, এক আল্লাহর ইবাদাত করছি।

তোমাকেও এর দাওয়াত দিচ্ছি। আলী তাঁর মুরব্বির দাওয়াত বিনা দ্বিধায় কবুল করেন।

মুসলমান হয়ে যান। কুফর, শিরক ও জাহিলিয়্যাতের কোন অপকর্ম তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি।

রাসূলুল্লাহর সা. সাথে সর্ব প্রথম হযরত খাদীজাতুল কুবরা রা. নামায আদায় করেন।

এ ব্যাপারে কোন মতপার্থক্য নেই। অবশ্য আবু বকর, আলী ও যায়িদ বিন হারিসা- এ তিন জনের কে

সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, সে সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে।

(তাবাকাতঃ /২১) ইবন ’আব্বাস ও সালমান ফারেসীর রা. বর্ণনা মতে, উম্মুল মুমিনীন

হযরত খাদীজার রা. পর আলী রা. সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন।

তবে এ সম্পর্কে সবাই একমত যে, মহিলাদের মধ্যে হযরত খাদীজা, বয়স্ক আযাদ

পরুষদের মধ্যে আবু বকর, দাসদের মধ্যে যায়িদ বিন হারিসা ও কিশোরদের মধ্যে আলী রা. প্রথম মুসলমান।

নবুওয়াতের তৃতীয় বছরে রাসূলে কারীম সা. হুকুম দিলেন আলীকে, কিছু লোকের আপ্যায়নের ব্যবস্থা কর।

আবদুল মুত্তালিব খান্দানের সব মানুষ উপস্থিত হল। আহার পর্ব শেষ হলে রাসূল সা. তাদেরকে

সম্বোধন করে বললেনঃ আমি এমন এক জিনিস নিয়ে এসেছি, যা দ্বীন ও দুনিয়া উভয়ের জন্য কল্যাণকর।

আপনাদের মধ্যে কে আমার সঙ্গী হবে? সকলেই নিরব।

হঠাৎ আলী রা. বলে উঠলেনঃ ‘যদিও আমি অল্পবয়স্ক, চোখের রোগে আক্রান্ত, দুর্বল দেহ, আমি সাহায্য করবো আপনাকে।’

হিজরাতের সময় হল। অধিকাংশ মুসলমান মক্কা ছেড়ে মদীনা চলে গেছেন।

রাসূলে কারীম সা. আল্লাহর হুকুমের প্রতীক্ষায় আছেন। এ দিকে মক্কার ইসলাম বিরোধী শক্তি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, রাসূলে কারীমকে সা. দুনিয়া থেকে চিরতরে সরিয়ে দেয়ার। আল্লাহ তাঁর রাসূলকে সা. এ খবর জানিয়ে দেন।

তিনি মদীনায় হিজরাতের অনুমতি লাভ করেন। কাফিরদের সন্দেহ না হয়, এ জন্য আলীকে রাসূল সা. নিজের বিছানায় ঘুমাবার নির্দেশ দেন এবং সিদ্দীকে আকবরকে সঙ্গে করে রাতের অন্ধকারে মদীনা রওয়ানা হন।

আলী রা. রাসূলে কারীমের সা. চাদর মুড়ি দিয়ে নিশ্চিন্ত মনে অত্যন্ত আনন্দ সহকারে ঘুমালেন।

তিনি জানতেন, এ অবস্থায় তার জীবন চলে যেতে পারে।

কিন্তু তাঁর প্রত্যয় ছিল, এভাবে জীবন গেলে তার চেয়ে বড় সৌভাগ্য আর কিছু হবে না।

সুবহে সাদিকের সময় মক্কার পাষণ্ডরা তাদের অসৎ উদ্দেশ্যে ভেতরে প্রবেশ করে

দেখতে পেল, রাসূলে কারীমের সা. স্থানে তাঁরই এক ভক্ত জীবন কুরবানীর জন্য প্রস্তুত হয়ে শুয়ে আছে।

তারা ব্যর্থ হয় এবং আল্লাহ তাআলা আলীকে রা. হিফাজত করেন।

এ হিজরাত প্রসঙ্গে হযরত আলী রা. বলেনঃ ‘রাসূলুল্লাহ সা. মদীনা রওয়ানার পূর্বে আমাকে নির্দেশ

দিলেন, আমি মক্কায় থেকে যাব এবং লোকদের যেসব আমানত তাঁর কাছে আছে তা ফেরত দেব।

এ জন্যই তো তাঁকে ‘আল-আমীন’ বলা হতো। আমি তিনদিন মক্কায় থাকলাম।

তারপর রাসূলুল্লাহর সা. পথ ধরে মদীনার দিকে বেরিয়ে পড়লাম।

অবশেষে বনী ’আমর ইবন আওফ- যেখানে রাসূল সা. অবস্থান করছিলেন, আমি উপস্থিত হলাম।

কুলসুম ইবন হিদ্‌মের বাড়ীতে আমার আশ্রয় হল।’ অন্য একটি বর্ণনায়, আলী রা. রবীউল আউয়াল

মাসের মাঝামাঝি কুবায় উপস্থিত হন। রাসূল সা. তখনো কুবায় ছিলেন। (তাবাকাতঃ /২২)

 

দ্বিতীয় অংশ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

You may also like...

Skip to toolbar