আলোর আবাবিল।।১ম অংশ

দ্বিতীয় অংশ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

মসজিদে জাবিয়া।

একান্তে বসে কথা বলছেন আলোর পাখিরা।

কথা বলছেন ইবন গানাম, আবু দারদা এব উবাদা ইবনে সামিত।

তাঁরা কথা বলছেন ‘আল্লাহর দীন’ নিয়ে। ইসলাম নিয়ে। কথা বলছেন প্রাণপ্রিয় নবী মুহাম্মাদ (সা) কে নিয়ে। আরও কত প্রসঙ্গে!

তাঁরা কথা বলছেন আর একে অপারের দিকে মহব্বতের দৃষ্টিতে তাকাচ্ছেন। তাঁদের দৃষ্টিতে জড়িয়ে আছে ভ্রাতৃত্ববোধ, সৌহার্দ্য আর বন্ধুসুলভ-বৃষ্টিধোয়া জোছনার পেলব।

তাঁরা মগ্ন হলেন একে অপরের প্রতি। নিজেদের কথার প্রতি।

গভীল মনোযোগের সাথে তাঁরা শুনছেন পরস্পরের জ্ঞানগর্ভ আলোচনা।

এমনি সময়-

ঠিক এমনি সময় তাদের মনোযোগ ভেদ করে সেখানে উপস্থিত হলেন আর এক বেহেশতী আবাবিল –হযরত শাদ্দাদ।

শাদ্দাদ উপস্থিত!

সুতরাং সবার দৃষ্টি এখন তাঁর দিকে। কারণ তিনিও যে তাঁদের ভাই! একান্ত আপনজন।

সহোদর ভাইয়ের চেয়েও অনেক কাছের।

কেন নয়?

সবাই যে সেই রাসূল (সা)-এর একই স্নেহের ছায়ায় লালিত! যে রাসূল (সা)-কে ভালোবাসেন প্রাণের চেয়েও অনেক বেশি।

শাদ্দাদ এসেছেন!

তাঁর দিকেই সবার দৃষ্টি। সম্ভবত তিনি কিছু বলবেন। সবাই মনোযোগী হলেন তাঁর দিকে।

শাদ্দাদ এবার গাম্ভীর হলেন।

চোখে মুখে কী যেন এক ভয়ের রেখা দুলে উঠলেঅ।

কী যেন এক শঙ্কা!

সে কি শঙ্কা, না কি উদ্বেগ!

ঠিক বুঝা যাচ্ছে না। প্রায় ক্লান্তকণ্ঠে শাদ্দাদ বললেন:

হে প্রাণপ্রিয় বন্ধুগণ!

আপনাদের নিয়ে আমার ভয় হচ্ছে। দারুণ ভয়!

কী সে ভয়?

জিজ্ঞেস করলেন তারা।

শাদ্দাদ বললেন, সেই ভয়টা হলো: রাসূল (সা) তো বলেছেন, আমার উম্মতের প্রবৃত্তি বা ইচ্ছা অনুসাী হয়ে পড়বে। এবং তারা লিপ্ত হবে শিরকে!

চমকে উঠলেন আবু দারদা এবং উবাদা।

বলেন ক? আমরা তো শুনেছি রাসূল (সা)-এর একটি হাদীস:

আরব উপদ্বীপের শয়তান তার উপাসনার ব্যাপারে নিরাশ হয়ে পড়েছে।

তাহলে বলুন, বলুন ভাই শাদ্দা- মুশরিক হওয়ার অর্থ কী? কী বুঝাতে চাইছেন আপনার ঐ বেদনা-বিধূর বাক্য দিয়ে?

শাদ্দাদ বললেন, ধরুন কোনো ব্যক্তি নামায পড়ে লোক দেখানোর জন্যে। এবার বলুন, ঐ লোকটি সম্পর্কে আপনাদের ধারণা কী?

আবু দারদা এবং উবাদা জবাব দিলেন, সে নিশ্চয়ই মুশরিক!

শাদ্দাদ বললেন, ঠিক বলেছেন। আমি রাসূল (সা)-এর কাছে শুনেছি। তিনি বলেছেন, যারা লোক দেখানোর জন্যে এসব কাজ করবে, তারা হবে মুশরিক।

এখানে উপস্থিত ছিলেন আউফ ইবন মালিকও।

তিনি বললেন, যতটুকু কাজ লোক দেখানো থেকে মুক্ত হবে,

ততোটুকু কবুল হওয়ার আশা আছে আল্লাহর কাছে। আর বাকি কাজ, যাতে শিরকের মিশ্রণ আছে, তা কখনো কবুল হবে না। এই হিসেবে আমাদের কাজের ওপর আস্থাবান হওয়া উচিত।

তাঁর কথাশুনে শাদ্দাদ বললেন, রাসূল (সা) বলেছেন, মুশরিকের যাবতীয় আমল তার মাবুদকে দেয়া হবে। আল্লাহ তার মুখাপেক্ষী নন।

পবিত্র আল-কুরআনেও এমনি কথা। আল কুরআন বলছে:

‘আল্লাহ পাক কোনো অবস্থাতেই শিরকের গুনাহ মাফ করবেন না।’

হযরত শাদ্দাদ।

হাদীসের ব্যাপারে তাঁর ছিল দারুণ পাণ্ডিত্য এবং জ্ঞান। তিনি ছিলেন ইসলামের একজন খাঁটি অনুসারী। ছিলেন দীনের ব্যাপারে আপসহীন।

আর ছিলেন ইবাদাতের প্রতি অসীম মনোযোগী।

আল্লাহর ভয়ে তিনি সব সময় থাকতেন কম্পমান। ইবাদাত সেরে হয়তো বা শুয়ে পড়েছেন শাদ্দাদ। গভীর রাত। কিন্তু না, ঘুম আসছে না তাঁর চোখে। কেবলই ভাবছেন। ভাবছেন মৃত্যুর কথা। ভাবছেন আখেরাতের কথা।

ব্যস!

কোথায় আর ঘুম কিংবা শো!

তিনি উঠে পড়লেন। উঠে পড়লেন এবং দাঁড়িয়ে গেলেন আবারও নামাযে। মশগুল হয়ে পড়লেন আল্লাহর ইবাদাতে। আর এভাবেই কেটে গেল সারাটি রাত।

একদিন নয়, দু’দিন নয়। এভাবে কেটে যেত শাদ্দাদের রাতগুলো। এবাদাতের মাধ্যমে, নির্ঘুম অবস্থায়। আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করে।

ইন্তেকাল করেছেন দয়ার নবীজী (সা)।

এসেছেন খোলাফায়ে রাশেদার যুগ।

এ সময়ে বেশ কিছুটা পরিবর্তন এসে গেছে মুসলমানদের মধ্যে।

তাদের এই পরিবর্তনে দারুণভাবে ব্যথিত হলেন শাদ্দাদ। ভয়ে এবং শঙ্কায় কেঁপে উঠলো তাঁর কোমল বুক। তিনি কাঁদছেন। কাঁদছেন আর অঝোর ধারায় ঝরে পড়ছে বেদনার বৃষ্টি।

শাদ্দাদ চলেছেন সামনের দিকে।

পথে দেখা পেলেন উবাদা ইবনে নাসীকে। নাসীর হাতটি ধরে শাদ্দাদ তার বাড়িতে নিয়ে এলেন।

তারপর-

দ্বিতীয় অংশ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

You may also like...

Skip to toolbar