আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের বিরুদ্ধে শত্রুতার পরিণাম! — ১ম অংশ

হযরত ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত আছে যে, হযরত মুসা (আঃ) এর আমলে বনী ইসরাইল গোত্রে একজন নামকরা আলেম ছিলেন ।

তার নাম ছিল বালয়াম বাউরা ।

তিনি তাওরাতের হাফেয ও মুফাসসির ছিলেন এবং ইসমে আযম জানতেন ।

তার একটি বিশেষ মর্যাদা ছিল এই যে, আল্লাহর ইসমে আযম উচ্চারণ করে তিনি যে দোয়াই করতেন, তা আল্লাহ কবুল করতেন এবং এ বিষয়টি বণী ইসরাইল ও অন্যান্য গোত্রের লোকদের জানা ছিল ।

 

হযরত মুসা (আঃ) যতদিন জীবিত ছিলেন,

ততদিন বালয়াম বাউরা কিনানে বণী ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্যে বাস করতেন এবং তাদের ও হযরত মুসা (আঃ) এর সংগে তার ভালো সম্পর্ক ছিল । কিন্তু হযরত মুসা (আঃ) এর ইন্তিকালের পর যখন তার ভাগ্নে

হযরত ইউশা ইবনে নূন (আঃ) বণী ইসরাইলের শাসক ও খলীফা নিযুক্ত হন, তখন বালয়াম বাউরা তার সরকারের

একটি উচ্চ পদ লাভের প্রত্যাশা করেন ।

কিন্তু হযরত ইউশা (আঃ) তা দিতে অসীকার করায় তিনি অসন্তুষ্ট হয়ে পার্শ্ববর্তী মোশরেক রাজ্য বেলকায় গিয়ে বসতি স্থাপন করেন ।

এই রাজ্যের রাজা তাকে বসবাসের জন্য একখন্ড জমি দান করেন এবং সেখানে তিনি বাড়ী বানিয়ে বসবাস করতে থাকেন ।

ওদিকে হযরত ইউশা (আঃ) এর নেতৃত্যে বণী ইসরাইল পার্শ্ববর্তী ইল্লিয়া রাজ্য জয় করে বেলকা রাজ্যের সীমান্তে উপনীত হয় ।

বেলকার মোশরেক রাজ্য দখল করে সেখানে ইসলামের পতাকা উত্তোলন করার জন্য আল্লাহ তায়ালা তাকে আদেশ দেন ।

তদানুসারে হযরত ইউশা বেলকা রাজ্যের মোশরেক রাজাকে ইসলাম গ্রহণ নতুবা আত্মসমর্পনের জন্য চরমপত্র দেন ।

বেলকার রাজা চরমপত্র প্রত্যাখ্যান করে হযরত ইউশার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে ।

উভয় পক্ষে তুমুল যুদ্ধ হয় এবং তাতে হযরত ইউশার বাহিনী বিজয়ী হয় ।

বেলকার রাজার সৈন্যদের একাংশ নিহত হয় এবং অপরাংশ পালিয়ে যায় ।

এই অবস্থায় অনন্যোপায় হয়ে উক্ত রাজা বালয়াম বাউরার শরণাপন্ন হয় ।

সে তার নিকট উপস্থিত হয়ে বলে যে, আমার এই বিপদের দিনে আপনার সাহায্য আমার একান্ত প্রয়োজন ।

আপনি আপনার আল্লাহর নিকট দোয়া করুন যেন আমরা ইউশার সৈন্যদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে জয়লাভ করতে পারি এবং তাকে তাড়িয়ে দিতে পারি ।

বালয়াম বাউরা বললেন, হযরত ইউশা (আঃ) আল্লাহর নবী ও প্রিয় ব্যক্তি ।

তার বিরুদ্ধে দোয়া করা আমার পক্ষে ঘোরতর পাপের কাজ হবে ।

তাছাড়া এরুপ দোয়া কবুল হওয়ার আশা করা যায় না । আপনি বরঞ্চ ইসলাম গ্রহণ করুন ।

আপনার রাজ্য নিরাপদ থাকবে ।

রাজা ভীষণ ক্রুদ্ধ হলো । সে বালয়াম বাউরাকে একদিকে হত্যার ভীতি প্রদরশন করতে লাগলো, অপরদিকে বালয়াম বাউরার স্ত্রীর কাছে গোপনে দূত পাঠিয়ে বিপুল অর্থ প্রদানের প্রলোভন দিতে লাগলো ।

বালয়াম বাউরা দেখলেন, তিনি আপনজনদের নিকট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একটি কাফের রাজ্যে আশ্রয় গ্রহণ করে তাদের মুঠোর মধ্যে চরম অসহায় অবস্থায় পতিত হয়েছেন । এখানে রাজার বিপুল শক্তির মোকাবিলা করা তার সাধ্যাতীত ।

অপরদিকে অর্থের প্রলোভনেও তিনি দিশাহারা হয়ে পড়লেন ।

তাই তিনি রাজাকে বললেন, আমাকে একদিন সময় দিন । রাজা তাকে সময় দিল ।

বালয়াম বাউরার নিয়ম ছিল, কোন বিষয়ে দোয়া করতে হলে প্রথমে আল্লাহর কাছে অনুমতি চাইতেন ।

আল্লাহ তাকে সপ্নের মাধ্যমে জানিয়ে দিতেন অনুমতি দেয়া হলো কি না ।

একদিন সময় নিয়ে বালয়াম বাউরা আল্লাহর কাছে অনুমতি চাইলেন ।

আল্লাহ তাকে সপ্নের মাধ্যমে জানিয়ে দিলেন যে, আমার নবীর বিরুদ্ধে কোন দোয়া গ্রহণযোগ্য নয় এবং এরুপ দোয়া করলে তোমার দুনিয়া ও আখেরাত উভয়ই বরবাদ হয়ে যাবে ।

দ্বিতীয় অংশ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

You may also like...

Skip to toolbar