ইমাম ইউনুসের ব্যবসায়

ইমাম ইউনুস বিন ওবায়েদের কথা। তিনি ইসলামে একজন বড় খাদেম।

এই সাথে সাথে বড় ব্যবসায়ীও। বিরাট তাঁর কাপড়ের ব্যবসা।

বিভিন্ন দামের কাপড় থরে থরে সজ্জিত তাঁর দোকানে।

তাঁর দোকানে এক ধরনের প্রতি জোড়া কাপড়ের দাম ফিল ৪০০ দিরহাম।

অন্য আর এক ধরনের কাপড়ের প্রতি জোড়ার দাম ছিল ২০০ দিরহাম।

একদিন তিনি ভাতিজাকে দোকানে রেখে আসরের নামায পড়তে গেলেন।

এ সময় একজন খদ্দের তাঁর দোকানে গেল এবং ৪০০ দিরহাম দামের একজোড়া কাপড় চাইল।

ইমাম ইউনুসের ভাতিজা তাকে ২শ’ দিরহাম দামের এক জোড়া দিল।

খদ্দের কাপড় জোড়া দেখে পছন্দ করল এবং ৪০০ দিরহাম দিয়ে কাপড়টি নিয়ে নিল।

যখন খদ্দেরটি কাপড় নিয়ে চলে যাচ্ছিল, তখন ইমাম ইউনুস নামায পড়ে ফিরছিলেন।

লোকটির হাতে কাপড় জোড়া দেখে চিনতে পারলেন যে, তাঁর দোকানের কাপড়।

তিনি খদ্দেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, সে কাপড়টি কত টাকা দিয়ে কিনেছে?

লোকটি বলল, ৪০০ দিরহাম। ইমাম বললেন, ‘এটা তো দু’শ‘ দিরহামের কাপড়।

যান কাপড় ফেরত দিয়ে আসুন।’

লোকটি বলল, আমি কাপড় পছন্দ করেই ঐ দাম দিয়ে কিনেছি।

আমার এলাকায় এ কাপড়ের দাম ৫০০ দিরহাম। সুতরাং আমি ঠকিনি।

ইমাম বললেন, ‘না কাপড় আপনাকে ফেরত দিতেই হবে।

কারণ, ইসলামে মানুষের ব্যাপারে হিত কামনার চেয়ে উত্তম আর কিছু হতে পারে না।’

ইমাম তাঁর ভাতিজাকে দারুণ ভর্ৎসনা করলেন, বললেন, ‘তোমার মনে আল্লাহর ভয় হলো না?’

ভাতিজা দুঃখ প্রকাশ করে বলল, ‘খদ্দের মহোদয় কাপড় দেখে শুনে পছন্দ করে ঐ দামে কিনেছিলেন।’

ইমাম ইউনুস বললেন, নিজের জন্য যা পছন্দ কর, তা অপরের জন্যও পছন্দ করতে হয়, এ কথা ভুললে কেন?

You may also like...

Skip to toolbar