ইসলামের পাঁচটি ভিত্তির বর্ণনা–বুখারী হাদিস (৭-৮)

 

২ পরিচ্ছেদঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর বাণীঃ

ইসলামের ভিত্তি পাঁচটিঃ মৌখিক স্বীকৃতি (ইয়াকীনসহ) এবং কর্মই ঈমান এবং তা বাড়ে ও কমে।

আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেনঃ
“যাতে তারা তাদের ঈমানের সাথে ঈমান দৃঢ় করে নেয় (৪৮:৪)।
আমরা তাদের সৎ পথে চলার শক্তি বাড়িয়ে দিয়েছিলাম (১৮:১৩)।
এবং যারা সৎপথে চলে আল্লাহ তাদের অধিক হিদায়ত দান করেন (১৯:৭৬)।
এবং যারা সৎপথ অবলম্বন করে আল্লাহ তাদের হিদায়ত বাড়িয়ে দেন এবং তাদের সৎপথে চলার শক্তি বাড়িয়ে দেন (৪৭:১৭),
যাতে মু’মিনদের ঈমান বেড়ে যায় (৭৪:৩১)।
আল্লাহ তা’আলা আরো ইরশাদ করেন, এটা তোমাদের মধ্যে কার ঈমান বাড়িয়ে দিল? যারা মু’মিন এ তো তাদের ঈমান বাড়িয়ে দেয় (৯:১২৪)।
এবং তাঁর বাণী, …………..“সুতরাং তোমরা তাদের ভয় কর; আর এটা তাদের ঈমান বাড়িয়ে দিয়েছিল” (৩:২৭৩)।
……….. “আর এতে তাদের ঈমান ও আনুগত্যই বাড়লো।” (৩৩:৩৩)।
আর আল্লাহর জন্য ভালোবাসা ও আল্লাহর জন্য ঘৃণা করা ঈমানের অংশ।

উমর ইব্ন ‘আবদুল ‘আযীয (রঃ) ‘আদী ইব্ন ‘আদী (রঃ)-র কাছে এক পত্রে লিখেছিলেন, ‘ঈমানের কতগুলো ফরয, কতগুলো হুকুম-আহকাম, বিধি-নিষেধ এবং সুন্নাত রয়েছে। যে এগুলো পূর্ণভাবে আদায় করে তার ঈমান পূর্ণ হয়। আর যে এগুলো পূর্ণভাবে আদায় করে না, তার ঈমান পূর্ণ হয় না। আমি যদি বেঁচে থাকি তবে অচিরেই এগুলো তোমাদের কাছে বর্ণনা করব, যাতে তোমরা তার ওপর ‘আমল করতে পার। আর যদি আমার মৃত্যু হয় তাহলে জেনে রাখ, তোমাদের সাহচর্যে থাকার জন্য আমি লালায়িত নই।’

ইবরাহীম (আঃ) বলেন, ……. ‘তবে এ তো কেবল চিত্ত প্রশান্তির জন্যে’ (২:২৬০)।

মু’আয (রাঃ) বলেন, “এসো আমাদের জঙ্গে বস, কিছুক্ষনঈমানের আলোচনা করি।” ইব্ন মাসউদ (রাঃ) বলেন, ‘ইয়াকীন হল পূর্ণ ঈমান।’ ইব্ন উমর (রাঃ) বলেন, ‘বান্দা প্রকৃত তাকওয়ায় পৌঁছতে পারেনা, যতক্ষণ পর্যন্ত সে, মনে যে বিষয় খটকা জাগে তা ত্যাগ না করে।’ মুজাহিদ (রাঃ) এ আয়াতের ব্যখ্যায় বলেন, ………. অর্থাৎ হে মুহাম্মদ (সাঃ)! আমি আপনাকে এবং নূহকে একই দীনের নির্দেশ দিয়েছি। ইব্ন আব্বাস (রাঃ) বলেন, ………… অর্থাৎ পথ ও পন্থা—এবং তোমাদের দু’আ অর্থাৎ পথ ও পন্থা এবং তোমাদের দু’আ অর্থাৎ তোমাদের ঈমান।

হাদিস ৭

‘উবায়দুল্লাহ্ ইব্ন মূসা (রা) ……….. ইব্ন ‘উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেন, ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি।

১। আল্লাহ ছাড়া ইলাহ্ নেই এবং নিশ্চয় মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল-এ কথার সাক্ষ্য দান।

২। সালাত কায়েম করা।

৩। যাকাত দেওয়া।

৪। হজ্জ করা এবং

৫। রমদান এর সিয়াম পালন করা।

পরিচ্ছেদঃ ঈমানের বিষয়সমূহ

আল্লাহ্‌ তা’আলার বাণীঃ “সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে, বরং বড় সৎকাজ হল এই যে, ঈমান আনবে আল্লাহর উপর কিয়ামত দিবসের উপর, ফেরেশতাদের উপর এবং সমস্ত নবী-রসূলগণের উপর, আর সম্পদ ব্যয় করবে তাঁরই মহব্বতে আত্নীয়-স্বজন, এতীম-মিসকীন, মুসাফির-ভিক্ষুক ও মুক্তিকামী ক্রীতদাসদের জন্যে। আর যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দান করে এবং যারা কৃত প্রতিজ্ঞা সম্পাদনকারী এবং অভাবে, রোগে-শোকে ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য্য ধারণকারী তারাই হল সত্যাশ্রয়ী, আর তারাই পরহেযগার।”(২:১৭৭)

হাদিস ৮

আবদুল্লাহ ইব্ন জু’ফী (র) …….. আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সাঃ) ইরশাদ করেন, ঈমানের শাখা রয়েছে ষাটের কিছু বেশি। আর লজ্জা ঈমানের একটি শাখা।

প্রকৃত মুসলমান কে এবং মুসলমানের উত্তম কাজ জানতে এখানে ক্লিক করুন বুখারি হাদিস-৯-১০

 

You may also like...

1 Response

Skip to toolbar