ঊমার, সাঈদ, যাঈদ এবং ফাতিমার গল্প (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম)।

দ্বিতীয় অংশ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

খাত্তাব এবং যাইদ একই মায়ের সন্তান হলেও বিশ্বাসের দিক দিয়ে তাদের মধ্যে ছিল বিস্তর ফারাক।
যাইদ জাহিলিয়্যাতের যুগেও এক আল্লাহর উওয়াসনা করতেন।তিনি কুরাইশদের মূর্তিপূজা সহ্য করতে পারতেন না,তিনি মূর্তির নামে উৎসর্গ করা খাবারও খেতেন না।তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে কুরাইশদের মধ্যে তিনিই ইবরাহীম (আ) এর ধর্ম অনুসরণ করছেন। তিনি কুরাইশদের মূর্তিপূজাকে প্রকাশ্যে নিন্দা করতেন।
অন্যদিকে খাত্তাব মূর্তিপূজার একনিষ্ঠ সমর্থক।যাইদের কারণে সে অপমানিত বোধ করত।তাই যাইদকে সে নির্যাতন করে মক্কার বাইরে পাহাড়ে নির্বাসিত করে এবং একদল যুবককে নির্ধারণ করে রাখে যাতে যাইদ কাবায় না প্রবেশ করতে পারেন।

বিতাড়িত যাইদ সত্য ধর্মের সন্ধানে ইরাকের মসুল থেকে সিরিয়া পর্যন্ত যান এবং ধর্মযাজক ও র‍্যাবাইদের থেকে জানতে পারেন যে মক্কাতেই অতি নিকটে শেষ নবী আসার সম্ভাবনা রয়েছে।মক্কায় ফিরে আসার পথে সিরিয়ার দক্ষিণ সীমান্তে ‘লাখম’ নামক স্থানে তিনি আক্রান্ত হন এবং রাসূলুল্লাহ (স) এর নবুওয়াত লাভের পূর্বেই তিনি মারা যান।রাসূলুল্লাহ (স) বলেন, কিয়ামতের দিন যাইদ একা এক উম্মতের মর্যাদা নিয়ে উত্থিত হবেন।

অনেক বছর পরের কথা। খাত্তাবও মারা গেছে।খাত্তাবের ছেলে ঊমারের সাথে যাইদের ছেলে সাইদের ভালোই সম্পর্ক এখন।এমনকি উমারের বোন ফাতিমা বিনতে খাত্তাবকেও বিয়ে দেয়া হল সাঈদের সাথে।

মুহাম্মাদ (স) ইসলামের দাওয়াত দিতে শুরু করলে সাঈদ (রা) এবং ফাতিমা (রা) দুজনেই ইসলাম গ্রহণ করলেন।অপরদিকে উমার নতুন ধর্মের কট্রর বিরোধীদের একজনে পরিণত হলেন।তবে অন্যান্য বিরোধীদের সাথে তার পার্থক্য ছিল। অন্যরা যেখানে নিজেদের ব্যাক্তিগত ও অর্থনৈতিক  স্বার্থহানির ভয়ে ইসলামের বিরোধিতা করত,উমার নিজ ধর্মের মান রক্ষার্থে বিরোধিতা করতেন।
খাত্তাব ঊমারকে কাবা ও তার আশেপাশের সকল মূর্তির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হিসেবে গড়ে তুলেছিল।

ঊমারের বয়স তখন ২৬।ঊমার পরিস্কার দেখতে পেলেন মক্কায় এখন দুইটি ধর্ম।তার বাপদাদাদের ধর্ম ও উপাস্যদেরকে একদল মানুষ পরিত্যাগ করছে।ঊমার এসবের পিছনে একটি কারণই খুজে পেলেন।সে কারণকে অপসারণ করলেই সমস্যার সমাধান।

তাই একদিন তিনি নাঙ্গা তলোয়ার হাতে বেরিয়ে পড়লেন।পথে দেখা হল স্বগোত্রের নুয়াইম ইবন আব্দুল্লাহরর (রা) সাথে।নুয়াইম ততদিনে গোপনে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।উমারের ক্রোধান্বিত চেহারা দেখে নুয়াইম জিজ্ঞেস করল, কোথায় যাচ্ছ।ঊমার জানালেন, তিনি মুহাম্মাদ (স) এর নিকটে যাচ্ছেন।উদ্দেশ্য তাকে হত্যা করা।কারণ মুহাম্মাদ (স) কুরাইশদের বিভক্ত করেছেন।

দ্বিতীয় অংশ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

You may also like...

Skip to toolbar