এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ..

আর কিছুদিন পরই শুরু হবে ২০১৭ সালের এইচএসসি পরীক্ষা। সেজন্য বর্তমানে পড়াশুনা নিয়ে খুবই ব্যস্ত পরীক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে পরীক্ষার কারণে অনেক পরীক্ষার্থী মানসিক চাপ ও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ভুগছে। বেশিরভাগ সময় এই মানসিক চাপ-উদ্বেগই পরীক্ষায় খারাপ ফলাফলের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

কিন্তু এই মানসিক চাপ, উদ্বেগ, চিন্তাই পরীক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল করার মূল চালিকা শক্তি বলে মনে করেন ‘মতিঝিল মডেল স্কুল এন্ড কলেজে’র ‘ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং’ বিষয়ের প্রভাষক ও বোর্ড পরীক্ষক সৈয়দা শায়লা ইসলাম। পরীক্ষার মানসিক চাপকে ভালো ফলাফল করার মূল চালিকা শক্তিতে রুপান্তর করার জন্য কয়েকটি কৌশল অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

পরীক্ষার আগমূহুর্তের প্রস্তুতি এবং ভালো ফলাফল করার উপায় :-

১. যেহেতু পরীক্ষা খুব নিকটবর্তী তাই নতুন করে কোন পড়া আয়ত্বে আনার চেষ্টা না করাই ভালো। কেননা এতে করে পুরাতন পড়া যা তোমরা পড়েছ তা ভুলে যাবার আশঙ্কা থাকে এবং পরীক্ষার পড়াশোনার পরিকল্পনায় গোজামিল লাগতে পারে , তাই যা তুমি পারো তা ভালো করে বারবার রিভাইস করো।
২. মুখস্ত নয় বুঝে বুঝে সময় নিয়ে পড়ার চেষ্টা কর।
৩. যতটুকু সময় তুমি পড়ছো ততটুকু সময় নিবিড় মনোনিবেশ দিয়ে পড়ো।
৪. আনন্দ উৎফুল্ল নিয়ে পড়ো।
৫. একাধারে বেশি সময় পড়াশোনা না করে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবার পড়া শুরু কর।
৬. ধৈর্য্যধারণ করতে হবে।
৭. লক্ষ্যস্থির কর। (ধর ৩০ মিনিটে তুমি ১টি অধ্যায়ের ৫টি প্রশ্ন শেষ করবে)
৮. সময় ভাগ করে নিতে হবে ( একটি বিষয়ের এক একটি অধ্যায়ের জন্য তুমি সময় নির্ধারন করে নিতে পারো )
৯. বাসার ঘড়িতে ঘন্টায় ঘন্টায় এলার্ম রাখার ব্যবস্থা রাখ।

বোর্ড পরীক্ষার খাতায় কিভাবে উত্তর করলে অধিক নম্বর পাওয়া যাবে:-

১. প্রত্যেকটি প্রশ্নের উত্তরের জন্য সময় ভাগ করে নাও।
২. সঠিক নিয়ম মেনে সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর লেখ।( জ্ঞানমূলক প্রশ্ন চেষ্টা করবে এক লাইনের মধ্যে শেষ করার জন্য, অনুধাবন প্রশ্নে যেহেতু ২ নম্বর থাকে সেহেতু অবাঞ্চিত তথ্য না লিখে জ্ঞানের অংশটুকুকে সঠিকভাবে প্রকাশ করার চেষ্টা করবে। আর প্রয়োগ এবং উচ্চতর দক্ষতায় অবশ্যই চেষ্টা করবে প্রথম লাইনে জ্ঞনের উত্তর লেখার জন্য এবং তার উপর ভিত্তি করে উত্তর লিখবে)
৩. অপ্রয়োজনীয় বা অতিরিক্ত কিছু লিখার প্রয়োজন নেই।
৪. প্রশ্নের উত্তরের ধারাবাহিক মান বজায় রাখ।
৫. পরীক্ষার খাতাকে পরিপাটি রাখার চেষ্টা কর, লেখায় কাটাকাটি না করলেই ভালো।
৬. সবগুলো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা কর।
৭. গানিতিক বিষয় সমূহে গানিতিক প্রশ্নকে প্রাধান্য দিয়ে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা কর।
৮. উদাহরণ দিলে তা যেন বাস্তবিক হয় তা খেয়াল রাখ।
৯. নৈবত্তিক মাথা ঠান্ডা রেখে বুঝে বুঝে উত্তর কর।
১০. রিভাইস দেওয়ার জন্য সময় রাখতে চেষ্টা কর।

প্রভাষক সৈয়দা শায়লা ইসলাম বলেন, পরিশেষে শিক্ষার্থীদের বলবো সকল কিছুর উর্ধ্বে স্বাস্থ্য। তাই এই সূহুর্তে অবশ্যই শরীরের প্রতি বাড়তি যত্ম নিতে হবে। এছাড়াও সবাই যার যার ধর্ম অনুসারে প্রার্থনা কর, কারণ প্রার্থনা মানসিক প্রশান্তি দেয় ও মনকে প্রফুল্ল রাখে ।

সূত্র: দৈনিক আমাদের সময় অনলাইন

You may also like...

Skip to toolbar