‘এই শেষ ভ্রাতৃবর্গ, এই শেষ’

সেদিন মহানবী (সা)-এর পীড়ার ১১তম দিন।

অসুস্থতা সত্ত্বেও এতদিন মহানবী (সা) মসজিদে নববীর নামাযের জামায়াতে নিজেই ইমামতি করে এসেছিলেন।

আজকেও তিনি উঠেছেন নামাযের জন্যে।

ওজু করতে লাগলেন।

মাথা ঘুরতে লাগল তাঁর।

পরপর তিনবার চেষ্টা করেও তিনি পারলেন না ওজু করতে।

ক’দিন ধরে তাঁর ব্যাধির তীব্রতা ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠেছিল।

খাইবারের সেই ইহুদীনির খাওয়ানো বিষের জ্বালাও মারত্মক হয়ে উঠেছিল।

আজ অবশেষে তিনি পারছেন না সাহাবীদের সাথে নামাযে শরিক হতে।

জামায়াতে উপস্থিত সাহাবীদের তিনি বলে পাঠালেন, ‘আবু বকরকে নামাযে ইমামতি করতে বলো।’

আবু বকরকে নবীর স্থানে ইমামতিতে দাঁড়াতে দেখে সাহাবীরা ধৈর্য আর রাখতে পারলেন না।

কান্নায় আকুল হলেন সবাই।

এর মধ্যেই ধৈর্যের মহাপ্রতীক আবু বকর (রা) নামাযের ইমামতি শুরু করে দিলেন।

এ সময় মহানবী (সা) একটু আরামবোধ করলেন্

সঙ্গে সঙ্গেই তিনি দু’জন আত্মীয়ের কাঁধে ভর দিয়ে মসজিদে এলেন।

আবু বকররের ইমামতিতে তখন নামায চলছিল।

মহানবী (সা)-কে জায়গা ছেড়ে দেবার জন্যে সরে দাঁড়াচ্ছিলেন আবু বকর (রা)।

মহানবী (সা) তাঁকে নিষেধ করলেন এবং মহানবী (সাঃ) আবু বকরের পাশে বসে নামায পড়লেন।

নামাযের পর মহানবী (সাঃ) ফিরে বসে সাহাবীদের উদ্দেশ্যে বললেন, ‘হে মুসলিমগণ, আমি তোমাদেরকে আল্লাহর হাতে সমর্পণ করে যাচ্ছি।

তাঁর আশ্রয় ও তাঁর সাহায্যের কাছে তোমাদের সঁপে দিচ্ছি।

আল্লাহই তোমাদের রক্ষা করবেন।

তোমরা নিষ্ঠা, ভক্তি ও সততার সাথে তাঁর আদেশ পালন করতে থেকো।

তাহলে তিনি তোমাদের রক্ষা করবেন।

এই শেষ ভ্রাতৃবর্গ, এই শেষ।”

You may also like...

Skip to toolbar