ওমর ইবনুল খাত্তাবের ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে আতা ও মুজাহিদের বর্ণনা

ইবনে ইসহাক বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে আবি নুজাইহ আল মাক্কী স্বীয় শিষ্য আতা, মুজাহিদ অথবা অন্যান্য বর্ণনাকারীদের থেকে বর্ণনা করেছেন যে,

ওমর(রা) এর ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে ব্যাপক জনশ্রুতি রয়েছে যে তিনি স্বয়ং নিম্নরূপ বলতেনঃ “ আমি ইসলামের কট্টর বিরোধী ছিলাম। জাহেলী যুগে আমি খুব মদের ভক্ত ছিলাম। মদ পেলে খুবই আনন্দিত হতাম।

আমাদের একটা মজলিশ বসতো উমার বিন আবদ বিন ইমরান আল মাখযুমীর পারিবারিক বাসস্থানের নিকটস্থ খাজওয়ারা নামক স্থানে। সেখানে কুরাইশের বহু লোক সমবেত হতো। একদিন রাতে ঐ আসরে আমার আমার সহযোগীদের উদ্দেশ্যে গেলাম। কিন্তু তাদের কাউকেই পেলাম না। এরপর ভাবলাম, মক্কার অমুক মদ বিক্রেতার কাছে গেলে হয়তো মদ খেতে পারতাম।

তার উদ্দেশ্যে গেলাম। কিন্তু তাকে পেলামনা। এরপর মনে মনে বললাম, কা’বা শরীফে গিয়ে সাতবার অথবা সত্তরবার যদি তওয়াফ করতাম, মন্দ হতো না। অতঃপর কা’বা শরীফে তাওয়াফ করার জন্য মসজিদুল হারামে উপনীত হলাম।

সেখানে দেখলাম, রাসূলুল্লাহ(সা) নামাযে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি তখনো সিরিয়ার দিকে মুখ করে নামায পড়তেন। নিজের ও সিরিয়ার মাঝখানে কা’বা শরীফকে রাখতেন। রূকনে আসওয়াদ ও রূকনে ইয়ামানীর মাঝে বসে তিনি নামায পড়তেন।

তাঁকে দেখেই আপন মনেই বললাম, আল্লাহর কসম, আজকের রাতটি যদি মুহাম্মাদের(সা) আবৃত্তি শুনে কাটিয়ে দিতাম এবং সে কি বলে তা অবহিত হতাম, তাহলেও কাজ হতো।

কিন্তু সেই সাথে এটাও ভাবলাম যে, মুহাম্মদের(সা) খুব কাছে গিয়ে যদি শুনি তাহলে তিনি ভয় পেয়ে যাবেন। তাই হাজরে আসওয়াদের দিক থেকে এলাম, কা’বা শরীফের পর্দার আড়ালে লুকিয়ে ধীর পায়ে এগিয়ে এলাম।

রাসূল(সা) তখনো যথারীতি দাঁড়িয়ে নামাযে কুরআন পাঠ করে যাচ্ছেন। অবশেষে আমি তাঁর ঠিক সামনে কা’বার পর্দার আড়ালে লুকিয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। যখন কুরআন শুনলাম, আমার মন নরম হয়ে গেল। আমি কেঁদে দিলাম। ইসলাম আমার মনমগজ দখল করে ফেললো। রাসূল(সা) নামায শেষ করে চলে না যাওয়া পর্যন্ত আমি ওখানেই চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলাম।

তিনি যখন কা’বা থেকে যেতেন, ইবনে আবি হুসাইনের বাড়ির কাছ দিয়ে যেতেন। এই বাড়ী ছিল তার সাফা ও মারওয়ার দৌড়েরও শেষ সীমা। সেখান থেকে আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিবের বাড়ী এবং আজহার বিন আবদ আওফ আযযুহরীর বাড়ির মাঝখান দিয়ে, তারপর আখনাস বিন শুরাইকের বাড়ী হয়ে নিজের বাড়ীতে চলে যেতেন।

দারুর রাকতাতে ছিল রাসূল(সা) এর বাড়ী। এই জায়গাটি ছিল আবু সুফিয়ানের ছেলে মুয়াবীয়ার মালিকানাধীন। ওমর(রা) বললেন, আমি রাসূল(সা) এর পিছু পিছু চলতে লাগলাম। যখন তিনি আব্বাসের বাড়ী ও ইবনে আযহারের বাড়ীর মাঝখানে গিয়ে পৌছলেন, তখন তাঁকে গিয়ে ধরলাম। আমার আওয়ায শুনেই রাসূল(সা) আমাকে চিনে ফেললেন।

রাসূল(সা) মনে করলেন আমি তাঁকে কষ্ট দিতে এসেছি। তাই তিনি আমাকে একটা ধমক দিলেন। ধমক দিয়েই আবার জিজ্ঞাসা করলেন, “ওহে খাত্তাবের পুত্র! এ মুহুর্তে তুমি কি উদ্দেশ্যে এসেছ?” আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি এবং তাঁর কাছে যা কিছু আল্লাহর কাছ থেকে আসে, তার প্রতি ঈমান আনার উদ্দেশ্যে।” এ কথা শুনে রাসূল(সা) আল্লাহর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করলেন।

তারপর বললেন, “হে ওমর! আল্লাহ তোমাকে হেদায়াত করেছেন।” তারপর তিনি আমার বুকে হাত বুলালেন এবং আমি যাতে ইসলামের উপর অবিচল থাকি সে জন্য দোয়া করলেন।

অতঃপর রাসূল(সা)এর কাছ হতে বিদায় হলাম এবং তিনি নিজের বাড়ীতে প্রবেশ করলেন।”

ইবনে ইসহাক বলেনঃ ওমরের ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে উপরের দুটি ঘটনার মধ্যে কোনটি সঠিক তা আল্লাহই ভালো জানেন।

ওমর ইবনুল খাত্তাবের ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে প্রসিদ্ধ রেওয়াত সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

You may also like...

Skip to toolbar