কওমে ‘আদ-এর ধ্বংসের প্রধান কারণ সমূহ ও আমাদের শিক্ষা

১. মনস্তাত্ত্বিক কারণ সমূহ :

(ক)  তারা আল্লাহর অনুগ্রহ সমূহের অবমূল্যায়ন করেছিল। যার ফলে তারা আল্লাহর আনুগত্য হ’তে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল এবং শয়তানের আনুগত্য বরণ করে স্বেচ্ছাচারী হয়ে গিয়েছিল

(খ) আল্লাহর নে‘মত সমূহকে তাদের জন্য চিরস্থায়ী ভেবেছিল

(গ) আল্লাহর গযব থেকে বাঁচার জন্য বিভিন্ন কল্পিত উপাস্যের অসীলা পূজা শুরু করেছিল

(ঘ) তারা আল্লাহর নবীকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল

(ঙ) তারা আল্লাহর গযব থেকে নির্ভীক হয়ে গিয়েছিল। যদিও তারা আল্লাহকে বিশ্বাস করত।

২. বস্ত্তগত কারণসমূহ :  প্রধানত: তিনটি :

(ক) তারা অযথা উঁচু স্থান সমূহে সুউচ্চ টাওয়ার ও নিদর্শন সমূহ নির্মাণ করত। যা স্রেফ অপচয় ব্যতীত কিছুই ছিল না (শো‘আরা ১২৮)

(খ) তারা অহেতুক মযবূত প্রাসাদ রাজি তৈরী করত এবং ভাবত যেন তারা সেখানে চিরকাল বসবাস করবে (ঐ, ১২৯)

(গ) তারা দুর্বলদের উপর নিষ্ঠুরভাবে আঘাত হানতো এবং মানুষের উপর অবর্ণনীয় নির্যাতন চালাতো (ঐ, ১৩০)

শিক্ষণীয় বিষয় সমূহ :

উপরোক্ত বিষয়গুলির মধ্যে বর্তমান যুগের অত্যাচারী সমাজনেতা ও যালেম সরকার সমূহ এবং সভ্যতাগর্বী মানুষের জন্য শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ নিহিত রয়েছে। যেমন:

(১) অহি-র বিধানকে অস্বীকার করা এবং অন্যায়ের উপর যিদ ও অহংকার প্রদর্শন করাই হ’ল পৃথিবীতে আল্লাহর গযব নাযিলের প্রধান কারণ।

(২) আল্লাহ প্রেরিত গযবের ধরন বিভিন্ন রূপ হ’তে পারে। কিন্তু সেই গযবকে ঠেকানোর ক্ষমতা মানুষের  থাকে না।

(৩) বিলাসী, অপচয়কারী ও অত্যাচারী নেতাদের কারণেই জাতি আল্লাহর গযবের শিকার হয়ে থাকে।

(৪) আল্লাহর গযব যাদের উপর আপতিত হয়, তারা সকল যুগে নিন্দিত হয় এবং কখনোই তারা আর মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না।

(৫) আল্লাহর বিধান লংঘনকারী ব্যক্তি বা সম্প্রদায় চূড়ান্ত বিচারে দুনিয়াতেই আল্লাহর গযবের শিকার হয়। উপরন্তু আখেরাতের আযাব তো থাকেই এবং তা হয় আরো কঠোর (ক্বলম ৬৮/৩৩)

হযরত হূদ (আলাইহিস সালাম) এর পরিচয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন
হযরত ছালেহ (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

You may also like...

1 Response

  1. December 27, 2015

    […] কওমে ‘আদ-এর ধ্বংসের প্রধান কারণ সমূহ জ… […]

Skip to toolbar