কছমের মাসায়েল-মাওলানা মুহাম্মদ হেমায়েত উদ্দিন

কছমের কাফফারা জানতে এখানে ক্লিক করুন।

১। বিনা প্রয়োজনে কথায় কথায় কছম খাওয়া (শপথ করা) অন্যায় কাজ।
২। কছমের খেলাফ করলে বা খেলাফ হলে কাফফারা দেয়া ওয়াজিব।
৩। যদি কেউ বলে, আল্লাহর কছম বা খোদার কছম বা আল্লাহর বুযুর্গী ও বড়ত্বের কছম, আমি অমুক কাজ করব বা করব না, তাহলে কছম হয়ে যাবে, তার খেলাফ করা কিছুতেই জায়েয হবে না।
৪। যদি কেউ আল্লাহর গুণবাচক নাম উচ্চারন করে কছম খায় তবুও কছম হয়ে যাবে।
৫। যদি কেউ আল্লাহর নাম উচ্চারণ না করে শুধু বলে, কছম খাচ্ছি, অমুক কাজ করব বা করব না, তবূও কছম হয়ে যাবে।
৬। যদি কেউ বলে, আল্লাহ সাক্ষী বা খোদা সাক্ষী বা আল্লাহকে হাজির নাযির জেনে বলছি, তবুও কছম হয়ে যাবে।
৭। কুরআন বা আল্লাহর কালামের কছম করলেও কছম হয়ে যায়। কিছু শুধু কুরআন হাতে নিয়ে বা কুরআন ছুয়ে যদি কিছু বলে কিন্তু কছম না খায় তাহলে কছম হবে না।
৮। যদি কেউ বলে, আমি যদি অমুক কাজ করি বা না করি, তাহলে যেন বেঈমান হয়ে যাই বা মৃত্যুর সময় যেন ঈমান নছীব না হয় বা অমুক কাজ করলে আমি মুসলমান নই, তাহলেও কছম হয়ে যাবে। তার খেলাফ করলে কাফফারা দিতে হবে, তবে ঈমান যাবে না।
৯। যদি কেউ বলে অমুক কাজ করলে আমার উপর যেন আল্লাহর গযব পড়ে বা খোদার অভিশাপ হয়, বা বলে, যদি অমুক কাজ করি তাহলে আমি শুকর খাই বা তাহলে যেন আমার অঙ্গহানি হয় বা কুষ্ঠরোগ হয়-ইত্যাদি কথায় কছম হয় না।
১০। আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও কছম খেলে কছম হয় না। যেমনঃ রসূলের কছম, কা’বা শরীফের কছম, বা মাতা-পিতার কছম, বা সন্তানের কছম, বা যে কোন মানুষের কছম। তবে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও কছম খাওয়া শেরকী পর্যায়ের শক্ত গোনাহ।
১১। যদি কেউ বলে, তোমার ঘরের ভাত পানি আমার জন্য হারাম বা অমুক জিনিস আমি আমার জন্য হারাম করে নিয়েছি, তাহলে কছম হয়ে যাবে-সে জিনিস খেলে কাফফারা দিতে হবে।
১২। যদি কেউ অন্যকে কছম দেয় যে, তোমার আল্লাহর কছম তুমি অমুক কাজটা করে দাও বা কর না, তাহলে কছম হয় না-সেই অন্য ব্যক্তির জন্য তার খেলাফ করা দুরস্ত আছে।
১৩। আল্লাহর কছম খেয়ে অতীত বা বর্তমানের কোনো বিষয়ে কোনো মিথ্যা তথ্য দিলে বা মিথ্যা বললে কঠিন পাপ হয়; তবে তাতে কোনো কাফফারা দিতে হয় না। ভবিষ্যতের কোনো বিষয়ে কছম সহকারে কিছু বললে যদি তার খেলাফ করে বা খেলাফ হয়, তাহলে কাফফারা দিতে হয়।
১৪। কোনো কাজ করার কছম খেলে তা করা তার উপর ওয়াজিব হয় যায়, না করলে গোনাহ হবে এবং কাফফারা দিতে হবে। পক্ষান্তরে কোনো কাজ না করার কছম খেলে সেটা করা তার জন্য হারাম হয়ে যায়, করলে গোনাহ হবে এবং কাফফারা দিতে হবে। তবে কোনো গোনাহের কছম করলে তার জন্য কছুম ভঙ্গ করা ওয়াজিব, কছম ভেঙ্গে কাফফারা দিবে, নতুবা গোনাহগার হবে।
১৫। বিগত কোনো ঘটনার বা কথার উপর এই ভেবে কছম দেয়া যে, সে ঠিক বলেছে, অথচ বাস্তব তার বিপরীত, এরূপ কছমের কোনো কাফফারা নেই, একে গোনাহও হয় না।
আল্লাহ আমাদেরকে আমল করার তৌফিক দান করুন।
সূত্রঃ আহকামে যিন্দেগী । পৃষ্ঠা নং- ২৯১-২৯২

কছমের কাফফারা জানতে এখানে ক্লিক করুন।

You may also like...

Skip to toolbar