কা’ব ইবন মালিক (রা) ।। ৩য় অংশ

চতুর্থ অংশ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

রাসূলে কারীম (সা) পূর্বে উল্লেখিত তিন ব্যক্তির সাথে কথা বলার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। পঞ্চাশ দিন পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বলবত াকে। মানুষ তাঁদের প্রতি আড় চোখে তাকিয়ে দেখতো। কোন কা বলতো না। মুরারা ও হিলাল নিজেদেরকে আপন আপন গৃহে আবদ্ধ করে রাখেন। দিন রাত তাঁরা শুধু কাঁদতেন। কা’ব ছিলেন যুবক। ঘরে বসে থাকা কি তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল? পাঁচ ওয়াকত নামাযেই তিনি মসজিদে আসা যাওয়া করতেন, হাটে বাজারেও ঘোরাঘুরি করতেন। বিন্তু কোন মুসলমান ভুলেও তাঁর সাথে কথা বলার ইচ্ছা প্রকাশ করতেন না।

কা’ব মসজিদে যেতেন এবং নামাযের পর রাসূলকে (সা) সালাম করতেন। রাসূল (সা) জায়নামাযে বসে থাকতেন। রাসূল (সা) সালামের জবাব দিচ্ছেন কিনা বা তাঁর ঠোঁট নড়ছে কিনা, কা’ব তা গভীরভাবে লক্ষ্য করতেন। তারপর আবার রাসূলুল্লাহর (সা) নিকটেই নামাযে দাঁড়িয়ে যেতেন। চোখ আড় করে একটু  একটু করে রাসূলুল্লাহর (সা) দিকে তাকাতেন এবং রাসূলও (সা) তাকে আড় চোখে দেখতেন। যখন কা’ব নামায শেষ করে রাসূলুল্লাহর (সা) দিকে ফিরতেন তখণ তিনি কা’বের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতেন।

কা’বের (রা) সাথে তাঁর পরিবারের সদস্যদের আচরণও ছিল অভিন্ন। আবূ কাতাদাহ (রা) ছিলেন কা’বের চাচাতো ভাই। একদিন কা’ব বাড়ীর প্রাচীরের ওপর উঠে তাঁকে সালাম করলেন; কিন্তু কাতাদাহ জবাব দিলেন না। কা’ব তিনবার কসম খেয়ে বললেন, তুমি তো জান আমি আল্লা ও তাঁর রাসূলকে কত ভালোবাসি। শেষবার কাতাদাহ্ শুদু মন্তব্য করলেনÑবিষয়টি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।

কাতাদাহর (রা) এমন জবাবে কা’ব (রা) দারুণ হত্যশ হলেন। আপন মনে বললেণ, এখন তো আমার ঈমানের ব্যাপারে সাক্ষী দেওয়ারও কেউ নেই। তাঁর চোখ থেকে অশ্র“ গড়িয়ে পড়লো। তিনি বাজারের দিকে বেরিয়ে গেলেন। এদিকে বাজারে তখণ শামের এক নাবাতী ব্যক্তি তাঁকে খুঁজছিলেন। কা’বকে দেখে লোকেরা ইঙ্গিত করে বললো, ঐ যে তিনি আসছেন। লোকটি কা’বের নামে লেখা গাসসানীয় রাজার একটি চিঠি নিয়ে এসেছিলো। তাঁর নিকট তেকে চিঠিটি নিয়ে কা’ব পড়লেন। তাঁতে লেখা ছিলÑ‘তোমার বন্ধু (রাসূল (সা) তোমরা প্রতি খুব অবিচার করেছেন। তুমি তো কোন সাধারণ ঘরের সন্তান নও। তুমি আমার কাছে চলে এসো। চিঠিটি পড়ে তিনি মন্তব্য করলেন, এটাও এক পরীক্ষা। চিঠিটি তিনি জ্বলন্ত চুলায় ফেলে দিলেন।

এভাবে চল্লিশ দিন কেটে গেল। চল্লিশ দিন পর রাসূলুল্লাহর (সা) পক্ষ থেকে এক ব্যক্তি তাঁর নিকট গিয়ে বললেন: রাসূলুল্লাহর (সা) নির্দেশ হলো, তোমার স্ত্রী থেকে তুমি দূরে থাকবে। কা’ব জানতে চাইলেন, আমি কি তাঁকে তালাক দেব? তিনি বললেনঃ না। শুধু পৃথক থাকবে।

কা’ব (রা) বললেন, তুমি তোমার পিাত-মাতার কাছে চলে যাও। আমার ব্যাপারে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সেখানেই থাক। অন্য দুইজনথÑহিলাল ও মুরারাকেও (রা) একই নির্দেশ দেওয়া হয়। হিলাল ছিলেন বৃদ্ধ। তাঁর স্ত্রী রাসূলুল্লাহর (সা) দরবারে উপস্থিত হয়ে স্বামী সেবার বিশেষ অনুমতি নিয়ে আসেন। কা’বের পরিবারের লোকেরা তাঁর স্ত্রীকেও বললেন, তুমিও রাসূলুল্লাহর (সা) নিকট যেয়ে স্বামী সেবার অনুমতি নিয়ে এসো। কিন্তু তিনি সম্মত হলেন না। বললেনঃ আমি যাব না। না জানি, রাসূলুল্লাহ (সা) কি বলবেন।

পঞ্চাশ দিনের মাথায় ফজরের নামায আদায় করে কা’ব (রা) ঘরের ছাদে বসে আছেন। ভাবছেন, এখন তো আমার জীবনটাই বোঝা হয়ে উঠেছে। আসমান-যমীন আমার জন্য সংকীর্ণ হয়ে গেছে। এ ধরণের আকাশ-পাতাল চিন্তা করছেন, এমন সময় সালা’ পাহাড়ের শীর্ষদেশ থেকে কারও কষ্ঠস্বর ভেসে এলোঃ কা’ব শোন! তোমরার জন্য সুসংবাদ! তিনি বুঝলেন, তাঁর দু’আ ও তাওবা কাবুল হয়েছে। সাথে সাথে তিনি সিজদায় লুটিয়ে পড়ে আল্লাহ পাকের শুকরিয়া আয়াদ করেন। নিজের ভূলের জন্য মাগফিরাত কামনা করেন। কিছুক্ষণ পর দুই ব্যক্তি যাদের একজন ছিল ঘোড় সাওয়ার, এসে তাঁকে সুসংবাদ দান করেন। কা’ব নিজের গায়ের কাগড় খুলে তাদেরকে দান করেন। অতিরিক্ত কাপড় ছিল না তাই সেই দান করা কাপড় আবার চেয়ে নিয়ে পরেন এবং রাসূলুল্লাহর (সা) নিকট ছুটে যান।

ইতিমধ্যে খবরটি মদীনায় ছড়িয়ে পড়েছে। দলে দলে মানুষ তাঁর বাড়ীর দিকে আসতে শুরু করেছে। পথে যার সাথেই দেখা হচ্ছে, তাঁকে মুবারকবাদ দিচ্ছে। তিনি মসজিদে নবনীতে পৌঁছে রাসূলকে (সা) সাহাবীদের মাঝে বসা অবস্থায় পেলেন। মসজিদে ঢুকতেই তালহা (রা) দৌড়ে এসে হাত মেলালেন। তবে অন্যরা নিজ নিজ স্থানে বসে থাকলেন। কা’ব (রা) এগিয়ে গিয়ে রাসূলে কারীমকে (সা) সালাম করলেন। তাবারানী বর্ণনা করেছেন; তাওবা কবুল হওয়ার পর কা’ব  রাসূলুল্লাহর (সা) নিকট এসে তাঁর দুইখানি পবিত্র হাত ধরে চুমু দিয়েছিলেন।২৭ তখন রাসূলে কারীমের চেহারা মুবািরক চাঁদের মত দীপ্তিমান দেখচ্ছিল। তিনি কা’বের (রা) উদ্দেশ্যে বললেনঃ তোমাকে সুসংবাদ দিচ্ছি। তোমার জন্মের পর থেকে আজকের দিনটির মত এত ভালো দিন তোমার জীবনে আর আসেনি।

আপনি কি আমাকে ক্ষমা করেছেন? রাসূল (সা) বললেন: আমি কেন, আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করেছেন।’ এ কথা বলে তিনি তাদের সম্পর্কে সদ্য নাযিল হওয়া সূরা তাওবার ১১৭ নং আয়াতটি পাঠ করে শোনান। আল্লা দয়অশীল নবীর প্রতি, এবং মুহাজির ও আনসারদের প্রতি, যাঁরা কঠিন মুহূর্তে নবীর সঙ্গে চিল, যখন তাদের এক দলের অন্তর ফিরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। অতঃপর তিনি দয়াপরবশ হন তাদের প্রতি। নিঃসন্দেহে তিনি ত৭াদের প্রতি দয়অশীল ও করুণাময়।’ তিলাওয়াত শেষ হলে আনন্দের আতিশয্যে কা’ব বলে উঠলেন।, ‘আমি আমার সমন্ত ধন সম্পদ সাদাকা করে দিচ্ছি।’ রাসূল (সা) বললেনঃ সব নয়, কিছু দানকর। কা’ব তাঁর খাইবারের সম্পত্তি দান করেন। এরপর তিনি মন্তব্য করেনঃ আল্লাহ আমার সততার জন্যই মুক্তি দিয়েছেন। আমি অঙ্গীকার করছি, বাকী জীবনে আমি শুধু সত্যই বলবো।

সত্য বলার জন্য কা’ব ও তাঁর অপর দুই সঙ্গীকে যে চরম পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়েছিল, ইসলামের ইতিহাসে তার দৃষ্টান্ত পাওয়া দুস্কার। এত বড় বিপদেও তাঁদের দৈর্য্যচ্যুতি ঘটেনি। পবিত্র কুরআনের এ আয়াতে তাঁদের সেই করুণ অবস্থা াতি চমঃকারভাবে চিত্রিত হয়েছেঃ

“এবং অপর তিনজনকে যাদেরকে পিছনে রাখা হয়েছিল, যখন পৃথিবী বিšতৃত হওয়ার সত্ত্বেও তাঁদের জন্য সস্কৃচিতহয়ে গেল এবং তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠলো; আর তারা বুঝতে পারলো যে, আল্লাহ ব্যতিত আর কোন আশ্রয়স্থল নেইÑঅতঃপর তিনি সদয় হলেন তাদের প্রতি যাতে তারা ফিরে আসে। নিঃসন্দেহে আল্লাহ দয়াময় করুণাশীল। হে ঈমানদারগণ, আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সাথে থাক।” (সূরা তাওবা ১১৮-১১৯)

এ আয়াতে যাদেরকে পিছনে রাখা হয়েছিল বলা হয়েছে। এর অর্থ যুদ্ধ থেকে পিছনে থেকে যাওয়া নয়। বরং এর অর্থ যাদের সম্পর্কে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছিল এবং রাসূলুল্লাহর (সা) আল্লাহর পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত আসার প্রতীক্ষার ছিলেন।

কা’ব বলেনঃ আমাদের তাওবাহ কবুল সম্পর্কিত আয়াত নাযিল হয় রাতের এক তৃতীয়াংশ বাকী থাকতে। উম্মু সালামা তখন বললেনঃ হে আল্লাহ নবী! আমরা কি কা’বকে সুসংবাদটি জানিয়ে দেব? রাসূল (সা) বললেন: তাহলেতো মানুষের ঢল নামবে এবং তোমরা আর ঘুমাতে পারবে না।২৮

কা’বের (রা) মৃত্যু সন নিয়ে বিস্তর মতভেদ আছে। ইবন হিববান বলেন, তিনি আলীর (রা) শাহাদারে সময়কালে মারা যান। ইবন আবী হাতেম বলেন, মু’য়াবিয়ার (রা) খিলাফতকালে তিনি অন্ধ হয়ে যান। ইমাম বুখারী ত৭ার মৃত্যু সম্পর্কে শুধু এতটুকু উল্লেখ করেছেন যে, তিনি উসমানের মৃত্যুতে শোকগাথা রচনা করেছেন এবং মু’য়াবিয়া ও আলীর (রা) দ্বন্দ্বে তাঁর ভূমিকার বিষয়ে আমরা কোন তথ্য পাইনি। ইমাম বাগাবী বলেন, আমি জেনেছি, তিনি মু‘য়াবিয়ার (রা) খিলাফত কালে শামে মারা যান। আবুল ফারাজ আল ইসপাহানী কিতাবুল আগামী গ্রন্থে একটি দুর্বল সনদে উল্লেখ করেছেন যে, হাসসান ইবন সাবিত কা’ব ইববন মালিক ও আন-নূ’য়ান ইবন বাশীর (লা) একবার আলীর (রা) কাছে যান এবং উসমানের (রা) সত্যার বিষয় নিয়ে তাঁর সাথে তর্কে লিপ্ত হন। তখন কা’ব (রা) উসমানের (রা) শানে তাঁর রচিত একটি শোকগাথা আবৃত্তি করে আলীকে শোনান। তারপর ত৭ারা সেখান থেকে উঠে সোজা মু’য়াবিয়ার কাছে চলে যান। মু’য়াবিয়া (রা) তাঁদেরকে উপযুক্ত মর্যাদা দান করেন।২৯

আল-হায়সাম ও আল-মাদায়িনীর মতে কা’ব হিজরী ৪০ সনে মারা যান। তবে তাঁর থেকে হিজরী ৫১ সনের কথাও বর্নিত হয়েছে। আল-ওয়াকিদী বর্ণনা করেছেন, হিজরী ৫০ সনে তাঁর মৃত্যুর কথা বর্ণিত আছে। তবে সর্বাধিক প্রসিদধ ও সঠিক মত এই যে, হিজরী ৫০ থেকে ৫৫ (৬৭০-৬৭৩ খ্রীঃ)-এর মধ্যে প্রায় ৭৭ বছর বয়সে তিনি মারা যান।৩০

সীরাত গ্রন্থসমূহে ত৭ার পাঁচ ছেলের নাম পাওয়া যায়। তারা হলেনঃ আবদুল্লাহ, উবায়দুল্লাহ, আবদুর রহমান. মা’বাদ ও মুহাম্মদ। শেষ জীবন কা’ব (রা) অন্ধ হয়ে যান।৩১ ছেলেরা তাঁকে হাত ধরে নিয়ে বেড়াপতেন।৩২ ইবন ইসহাক তাঁর ছেেেল আবদুর রহমানের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: শেষ জীবনে আমার পিতা অন্ধ হয়ে গেলে আমি তাঁকে নিয়ে বেড়াতাম। আমি যখন তাঁকে জুম’আর নামাযের জন্য নিয়ে বের হতাম তখন আজান শোনার সাথে সাথে তিনি আবু উমামা আস’য়াদ আবিন খুরারার জন্যে মাগফিরাত কামনা করে দু’আ করতেন। জুরআর আজান শুনলেই তাঁকে আমি সব সময় এ কাজটি করতে দেখতাম। বিষয়টি আমার কাছে রহস্যজনক মন হলো। আমি একদন জুম’আর দিনে ত৭াকে নিয়ে বের হয়েছিল, পথে আজানের ধ্বনি শোনার সাথে সাথে তিনি আবু উমামার জন্য দু’আর করতে শুরু করেন। আমি বললামঃ আব্বা, জুম’আর আজান শুললেই আপনি এভাবে আবু উমামার জন্য দু’আ করেন কেন? বললেনঃ বাবা, রাসূলুল্লাহর (সা) মদীনায় আসার আগে সেই আমাদেরকে সমবেত করে সর্বপ্রথম জুরম’আর জামায়াত কায়েম করেন। সেটি অনুষ্ঠিত হতো হাররার বনু বায়দার হাযমুন নাবীত পাহাড়ের নাকী আলÑখাদিমাত’ নামক স্থানে। আমি প্রশ্ন করলাম: তখন আপনারা কতজন ছিলেন? বললেন: চল্লিশজন।৩৩

হাদীসের গ্রন্থসমূহে কা’বের বর্ণিত মোট আশিটি (৮০) হাদীস পাওয়া যায়।৩৪ তবে ইমাম জাহবী বলেন: ত৭ার বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা ত্রিশে পৌঁছবে। তারমধ্যে  তিনটি মত্তাফাক আলাইহি। একটি বুখারী ও দুইি মুসলিম এককভাবে বর্ণনা করেছেন।৩৫ তিনি খোদ রাসূল (সা) ও উসাইদ ইবন হুদাইর (রা) থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।৩৬

কা’ব (রা) থেকে যে সকল মনীষী হাদীস বর্ণনা করেছেন তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য কতিপয় ব্যক্তি হলেন: আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস, জাবির ইবন আবদল্লিাহ ও আবু ইমামা আল-বাহিলী। উল্লেখিত তিনজইন হলেন সাহাবী। আর তাবেঈদের মধ্যে ইমাম বাকের, ‘আমর ইবন হাকাম ইবন সাওবান, আলী ইবন আবী তালহা উমার ইবন কাসীর ইবন আফলাহ, উমার ইবন আল-হাকাম ইবন রাফে, কা’বের  পাঁচ পুত্র ও পৌত্র আবদুর রহমান ইবন আবদিল্লাহ প্রমুখ বিশেষ উল্লেখযোগ্য।৩৭

বালাজুরীর বর্ণনায় জানা যায়, রাসূল কারীম (সা) আসলাম, গিফারী ও জুহাইনা গোত্রের যাকাত-সাদাকা রহমান ইবন আবদিল্লাহ প্রমুখ বিশেষ উল্লেখযোগ্য।৩৮

উসমানের (রা) শাহাদাতের দুঃখজনক ঘটনায় কা’ব (রা) একটি মারসিয়া (শোকগাথা) রচনা করেন এবং আলীকে (রা) আবৃত্তি করে শোনান। তার কয়েকটি পংক্তির অনুবাদ নিম্নরূপ:৩৯

১.উসমান তাঁর হাত দুটি গুটিয়ে নিলেন তারপর দ্বার রুদ্ধ করে দিলেন। তিনি দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করলেন, আল্লাহ উদাসীন নন।

২.গৃহে যারা ছিল তাদের বললেন, তোমরা যুদ্ধে লিপ্ত হয়ো না। াযারা যুদ্ধ করেনি আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করুন।

৩.বন্ধুত্ব সৃষ্টির পর আল্লাহ কেমন করে তাঁদের  অন্তরে শত্র“তা, হিংসা ও বিধ্বেষ ঢেলে দিলেন?

৪.আর কল্যাণ কিভাবে তাঁদের দিকে পশ্চাদ্দেশ ফিরিয়ে উট পাখীর মত দৌড় দিল? আলী (রা) কবিতাটি শোনার পর মন্তব্য করলেনঃ উসমান আত্মাত্যাগ করেছেন। আর এ ত্যাগ ছিল অতীব দুঃখজনক। আর তোমরা তখণ ভীত হয়ে পড়েছিলে। সে ভীতি ছির অতি নিকৃষ্ট ধরনের।

আলী ও মুয়াবিয়ার (রা) মধ্যে যেদ্বন্দ্ব-ষংঘাত ঘটেছির তাতে কা’ব (রা) কোন পক্ষে যোগ না দিয়ে উভয়ের থেকে দূরে থাকেন।

সততা ও সত্য বলা ছিল কা’বের (রা) চরিত্রের এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য। এ বৈশিষ্ট্যকে যেভাবে তিনি ধারণ করেন সেভাবে অনেকেই ধারণ করতে পারেননি। দু’আ কবুল হওয়ার পর জীবনে কোন দিন বিন্দুমাত্র মিথ্যার আশ্রয় নেননি। তিনি নিজেই বলেছেনঃ আল্লাহর কসম! যে দিন আমি রাসূলুল্লাহকে (সা) সেই খথাগুলি বলেছিলাম সেদিন থেকে আজকের দিনটি পর্যন্ত আর কোন প্রকার মিথ্যা বলিনি।৪০ তাবুক যুদ্ধের পূর্বের জীবনটি ছিল তাঁর অতি পরিচ্ছন্ন। এ কারণে তার জীবনে যখন তাবুকের বিপর্যয় নেমে এলো তখণ তাঁর নিজ গোত্র বনু সালেমা তাঁকে বলতে পেরেছিল আল্লাহর কসম! তোমাকে তো আমরা এর পূর্বে আর কোন অপরাধ করতে দেখিনি।

চতুর্থ অংশ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

You may also like...

Skip to toolbar