কাযা নামাযের মাসায়েল-মাওলানা মুহাম্মদ হেমায়েত উদ্দিন

• কারও কোনো নামায ছুটে গেলে স্মরণ আসা মাত্রই কাযা পড়া ওয়াজিব। বিনা ওজরে কাযা করতে বিলম্ব করা পাপ।
• কাযা নামায পড়ার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই- হারাম ও মাকরূহ ওয়াক্ত ছাড়া যেকোনো যময় নামায পড়া যায়।
• কারও যদি এক, দুই, তিন, চার বা পাঁচ ওয়াক্ত নামায কাযা হয় এবং এর পূর্বে আর কোনো কাযা নেই, তাহলে তাকে “ছাহলে তারতীব” বলে। তাকে দুই ধরনের তারতীব রক্ষা করতে হবে।
যথাঃ
১। ওয়াক্তিয়া নামাযের পূর্বে এই কাযাগুলো পড়ে নিতে হবে, অন্যথায় ওয়াক্তিয়া নামায শুদ্ধ হবে না।
২। এই কাযা নামাযগুলোওও ধারাবাহিকভাবে (আগেরটা আগে ও পরেরটা পরে) পড়তে হবে। ছাহেবে তারতীবের জন্য এই ধরনের তারতীব রক্ষা করা ফরয। যদি কারও যিম্মায় ছয় বা আরও বেশি ওয়াক্তের কাযা থাকে, তাহলে যে কাযা রেখে ওয়াক্তিয়া নামায পড়তে পারে এবং কাযা নামাযগুলোও তারতীব ছাড়া পড়তে পারে, সে ছাহেবে তারতীব থাকে না।
• কারও যিম্মায় ছয় বা ততোধিক নামায কাযা ছিল, সে কারনে সে ছাহেবে তারতীব ছিল না, সে সব কাযা পড়ে ফেলল, তাহলে সে এখন থেকে আবার ছাহেবে তারতীব হবে। অতএব আবার যদি পাঁচ ওয়াক্ত পর্যন্ত কাযা হয় তাহলে আবার তারতীবের হুকুম ফিরে আসবে। তারতীব রক্ষা করা ফরয হবে।
• বহুসংখ্যক নামাযের অল্প অল্প করে কাযা পড়তে পড়তে পাঁচ ওয়াক্ত বা তার কম চলে আসলেও তারতীব ওয়াজিব হবে না। –
১। ওয়াক্ত যদি এত সংকীর্ণ হয় যে, আগে কাযা পড়তে গেলে ওয়াক্তিয়া নামাযের সময় থাকে না, তাহলে আগে ওয়াক্তিয়া নামায পড়ে নিবে।
২। কাযা নামায যদি পাঁচ ওয়াক্তের অধিক হয়।
৩। যদি আগে কাযা পড়তে ভুলে যায়।
• নফল নামাযের কোনো কাযা হয় না।
• যদি কোনো কারণবশত দলশুদ্ধ লোকের নামায কাযা হয়ে যায়, তাহলে তারা ওয়াক্তিয়া নামায যেমন জামাআতে পড়ত তেমনি কাযা নামাযও জামাআতে পড়বে। ছিরছিরা নামাযের কাযার মধ্যে কিরাত চুপিচুপি পড়বে এবং জিহরিয়া নামাযের কাযার মধ্যে কেরাত উচ্চ স্বরে পড়বে।
আল্লাহ আমাদেরকে আমল করার তৌফিক দান করুন।
সূত্রঃ আহকামে যিন্দেগী

You may also like...

Skip to toolbar