খলিফা আল-মানসুর যখন লা-জবাব

মুসলিম সাম্রাজ্যের রাজাধানী তখন বাগদাদে।

খলিফা আল-মানসুরের শাসনকাল।

খলিফার পরিচিতি নিয়ে চললেও এই শাসন তখন বহু ক্ষেত্রেই খেয়াল খুশীর উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছেল।

যেমন জনগণের বাইতুল মাল তারা ব্যক্তিগত সম্পত্তির মত ব্যবহার করতেন।

কিন্তু অবিরাম প্রতিবাদ হয়েছে এই স্বেচ্ছাচারিতার।

এক দিনের একটি ঘটনা।

সুফিয়ান সওরী গেলেন খলিফা আল-মানসুরের দরবারে।

তিনি বললেন তাঁকে, “আমীরুল মুমিনীন, আপনি আল্লাহ ও মুসলমানদের ধন-সম্পদ তাদের ইচ্ছা ও সম্মতি ছাড়াই ব্যয় করছেন। বলুন এর কি জবাব আছে আপনার কাছে?” বলে একটু থেমেই খলিফার দৃষ্টি আকর্ষণ করে আবার বলতে শুরু করলেন, “উমর (রা) একবার সরকারী খরচে হজ্ব করেছিলেন।

তাতে তাঁর ও তাঁর সংগী-সাথীদের উপর সর্বমোট ১৬ দিনার ব্যয়িত হয়েছিল।

তথাপি হযরত উমর (রা) বলেছিলেন, ‘আমরা বাইতুল মালের উপর বিরাট বোঝা চাপিয়েছি।

’ আপনি নিশ্চয় জানেন, মসসুর ইবনে আম্মার আমাদেরকে কি হাদীস শুনিয়েছিলেন।

কারণ সেই মজলিসে আপনিও হাজির ছিলেন এবং সর্বপ্রথম হাদীসটা আপনিই লিপিব্ধ করেছিলেন।

সে হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সম্পদে নিজের খেয়াল-খুশীমত হস্তক্ষেপ করবে তার জন্যে দোজখের আগুন অবধারিত।”

সুফিয়ান সওরীর এ স্পষ্ট বক্তব্যে খলিফার চাটুকাররা ক্ষেপে গেল।

কয়েকজন ঝুনা চাটুকার বলে উঠলেন, ‘কি, আমীরুল মুমিনীনের সাথে এ ধরনের আলাপ?’

সুফিয়ান সওরী তাকে ধমক দিয়ে বললেন, ‘চুপ হতভাগা, হামান ও ফেরউন এভাবেই চাটুকারিতা করে পরস্পরকে ধ্বংস করেছিল’- বলে যে উন্নত শির নিয়ে সুফিয়ান সওরী আল-মনসুরের দরবরে ঢুকেছিলেন, সেভাবে শির উন্নত রেখেই তিনি দরবার থেকে বেরিয়ে এলেন।

 

প্রবল প্রতাপশালী খলিফ আল-মানসুর সুফিয়ান সওরীর কথার জবাবে একটি কথাও বলতে পারেননি।

 

You may also like...

Skip to toolbar