খালিদ হলেন সেনাপতি

মুতার যুদ্ধ চলছে।

এক লাখ সুসজ্জিত সৈন্যের বিরুদ্ধে তিন হাজার সৈন্যের লড়াই। সেনাপতি যায়েদ ইবনে হারেসার শাহাদাতের পর সেনাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করলেন জাফর ইবনে আবু তালিব।

ভয়াবহ যুদ্ধের তীব্রতার মধ্যে সেনাপতি জাফর শীদ হলেন। তাঁর শাহাদাতের পর পতাকা তুলে ধরলেন আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা। তিনিও শহীদ হলেন। মুসলিম পতাকা ভূলুণ্ঠিত হলো রণাঙ্গনে। পতাকা ভূলুণ্ঠিত হওয়ায় মুসলিম বাহিনীর কেন্দ্র ভেঙ্গে পড়লো।

মুসলিম বাহিনীম তখন মহাবিপর্যয়কর অবস্থা। একদিকে শত্রুপক্ষের প্রবল চাপ, অন্যদিকে মুসলিম বাহিনীর সেনাপতিহীন বিশৃংখল অবস্থা। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ালো যে, গোটা যুদ্ধক্ষেত্রে দু’জন মুসলিম সৈনিকও একসাথে ছিলো না।

যুদ্ধের এই অবস্থা দেখে কেউ কেউ মদীনা অভিমুখে পালানো শুরু করেছিলেন।

ভয়াবহ এই দুঃসময়ে উকবা ইবনে আমের নামক একজন সাহাবী উচ্চস্বরে চিৎকার করে বলে উঠলেন, ‘পলাতক অবস্থায় নিহত হওয়া অপেক্ষা সামনে অগ্রসর হয়ে জীবন দেয়া শ্রেয়তর।’

উকবার এই চিৎকারে অনেকের চেতনা হলো, কেন্দ্রও একটা খুঁজে পেলো তারা।

কিছু মুসলিম যোদ্ধা ছুটে এলো তাঁর দিকে। সামনেই তাদের মুসলিম বাহিনীর ভূলুণ্ঠিত, পদদলিত পতাকা এবং সবেগে তা বাতাসে উড়াতে উড়াতে চিৎকার করে বলতে লাগলেন, ‘কে কোথায় আছ মুসলিম বীর, এদিকে ছুটে এসো’।

একজন সেনাপতি নির্বাচন করতে হবে। ছুটে এলো আরও কিছু মুসলিম সৈনিক। সাবেত এবং উপস্থিত অন্যান্য সৈনিকরা সেনাপতি হিসেবে খালিদ ইবনে। ওয়ালিদ-এর নাম প্রস্তাব করলেন।

খালিদ বিনীতভাবে বললেন, ‘সাবেত, তুমি আমাদের সকলের ভক্তিভাজন, তুমিই এর উপযুক্ত পাত্র। তুমিই আমাদের সেনাপতি।’ কিন্তু দূরদর্শী সাবেত তাঁকে বাধা দিয়ে বললেন, ‘খালিদ, ভাবপ্রবণতা মনোনীত করেছি।

মহানবী (সা)-এর পতাকা তুমি গ্রহণ করো এবং বলো আমাদের কি করতে হবে।’

খালিদ আর অপেক্ষা করলেন না।

ভক্তিভরে মহানবীর যুদ্ধ-পতাকা হাতে তুলে নিলেন।

 

 

You may also like...

Skip to toolbar