দুই বিখ্যাত সাহাবী আবু বকর (রা) ও উমার (রা) কথা বলছিলেন

দুই বিখ্যাত সাহাবী আবু বকর (রা) ও উমার (রা) কথা বলছিলেন। হঠাৎ আবু বকরের কথায় উমার মারাত্মক রেগে গেলেন। এমনকি ওই স্থান ছেড়ে চলে গেলেন। আবু বকর (রা) খুবই লজ্জিত ও উদ্বিগ্ন হয়ে উমারের পেছনে পেছনে ছুটতে লাগলেন আর বলতে লাগলেন, ‘ভাই উমার, আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন।’ উমার (রা) ফিরেও তাকাচ্ছেন না! এক পর্যায়ে তিনি বাড়ি চলে গেলেন, পেছনে পেছনে আবু বকরও তার ঘরের দরজায় পা রাখলেন। কিন্তু উমার (রা) আবু বকর (রা) এর মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দেন।
:
উদ্বিগ্ন আবু বকর ছুটে গেলেন মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (স) এর কাছে। একটু পর উমারও সেখানে হাজির। আসলে দুজনই অনুতপ্ত, লজ্জিত। উমার (রা) নিজের দোষ স্বীকার করে সব বর্ণনা দিলেন, কীভাবে আবু বকরের মুখের উপর দরজা লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। সব শুনে রাসূল (স) উমারের উপর খুবই অসন্তুষ্ট হলেন। আবু বকর (রা) আর সহ্য করতে পারলেন না। তিনি বলতে লাগলেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! ভুল আমারই হয়েছে, তার কোন ভুল নেই।’ তিনি উমার (রা) কে নির্দোষ প্রমাণ করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছিলেন।…
(সহীহ বুখারী, হাদীস নং- ৪২৭৪)
:
সুবহানাল্লাহ। কী চরিত্র, কী বিনয়, কী আচরণ! সোনার মানুষ ছিলেন তাঁরা, সত্যিই সোনার মানুষ। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষটির শিষ্যগণ তো এমনই হবেন। আমরা কত বড় দুর্ভাগা যে, তাঁদের জীবনীটা কখনো পড়ে দেখিনি, তাঁদেরকে উত্তম আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করার চিন্তাও করিনি। তাঁদেরকে জানুন। টপ টপ করে চোখ দিয়ে পানি পড়বে তাঁদের জীবনী পড়লে।
:
তাঁদের অন্তরগুলো ছিল স্ফটিকের মত স্বচ্ছ। তাঁরা শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই একে অপরকে ভালবাসতেন। এই পয়েন্টটিতে কেন আমরা এত পিছিয়ে? একই পথের পথিক হয়েও কেন আমাদের মধ্যে এত হিংসা, বিদ্বেষ, শত্রুতা? নিশ্চিত থাকুন, আখিরাতে এর চরম মূল্য দিতে হবে।

You may also like...

Skip to toolbar