নামাযের মধ্যে রাকয়াত নিয়ে সন্দেহ হলে তার মাসায়েল-মাওলানা মুহাম্মদ হেমায়েত উদ্দিন

নামাযের মধ্যে রাকয়াত নিয়ে সন্দেহ হলে তার মাসায়েল;
১। যদি নামাযের মধ্যে এরূপ সন্দেহ হয় যে, প্রথম রাকয়াত না কি দ্বিতীয় রাকয়াত? তাহলে যেদিকে মন ঝুঁকবে সে দিককে গ্রহণ করবে। যদি কোন এক দিক মন না ঝুঁকে তাহলে এক রাকয়াতই (অথ্যাত, কমটাই) ধরতে হবে। কিন্তু এই প্রথম রাকয়াতে বসে তাশাহহুদ পড়বে, কেননা হতে পারে প্রকৃতপক্ষে এটাই দ্বিতীয় রাকয়াত। দ্বীতীয় রাকাতেও বসে তাশাহহুদ পড়বে, তৃতীয় রাকায়াতেও বসে তাশহহুদ পড়বে, (কেননা হতে পারে প্রকৃতপক্ষে এটাই চতুর্থ রাকায়াত) তারপর চতুর্থ রাকয়াতে সাজদায়ে সাহো করবে।
২। যদি কারও সন্দেহ হয় যে, দ্বিতীয় রাকয়াত না তৃতীয় রাকয়াত, তার হুকুমও এরূপ-যদি মন কোন দিকে না ঝুঁকে তাহলে দ্বিতীয় রাকয়াত ধরে নিবে এবং এই রাকয়াতে বসে তাশহহুদ পড়বে এবং এটা বেতর নামায হলে এ রাকয়াতেও দুয়ায়ে কুনূত পড়বে। তৃতীয় রাকয়াতেও বসবে। তারপর চতুর্থ রাকয়াতে সাজদায়ে সাহো সহকারে নামায শেষ করবে।
৩। যদি কারও সন্দেহ হয় তৃতীয় রাকয়াত না চতুর্থ রাকয়াত, তাহলে তার হুকুম অনুরূপ-কোন দিকে মন না ঝুঁকলে তিন রাকয়াত ধরে নিবে কিন্তু এই তৃতীয় রাকয়াতেও বসে তাশাহহুদ পড়তে হবে। তারপর চতুর্থ রাকয়াতে সাজদায়ে সাহো সহকারে নামায শেষ করবে।
৪। যদি নামায শেষ করার পর সন্দেহ হয় যে, এক রাকয়াত কম রয়ে গেল কি না? তাহলে এই সন্দেহের কোনো মূল্য দিবে না, নামায হয়ে গেছে মনে করতে হবে। অবশ্য যদি সঠিকভাবে স্মরণ আসে যে, এক রাকয়াত কম রয়ে গেছে, তাহলে দাঁড়িয়ে আর এক রাকায়াত পড়ে নিবে এবং সাজদায়ে সাহো সহকারে নামায শেষ করবে। কিন্তু যদি ইতিমধ্যে এমন কোন কাজ করে থাকে যাতে নামায ভঙ্গ হয়ে যায় (যেমনঃ কেবলা থেকে ঘুরে বসে থাকা বা কথা বলে ফেলা) তাহলে নতুন নিয়ত বেঁধে সম্পূর্ণ নামায দ্বিতীয় বার পড়তে হবে। আর প্রথম অবস্থায়ও নতুনভাবে নামায দ্বীতীয়বার পড়ে নেয়া উত্তম, কিন্তু জরুরী নয়।
বিঃদ্রঃ রাকয়াতের সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ হওয়ার ব্যাপার যদি কারও ক্ষেত্রে কদাচিত হয়ে থাকে, তাহলে তার ক্ষেত্রে পূর্বোল্লিখিত নিয়ম প্রযোজ্য হবে না বরং তাকে নতুন নিয়ত বেঁধে নামায পড়তে হবে।
৫। সাজদায়ে সাহো করার পরও যদি সাজদায়ে সাহো ওয়াজিব হওয়ার মত আবার কোন ভূল হয়ে যায়, তাহলে পুনর্বার সাজদায়ে সাহো করতে হবে না- ঐ পূর্বের সাজদাই যথেষ্ঠ হবে।
৬। সাজদায়ে সাহো ওয়াজিব না হওয়া সত্ত্বেও যদি কেউ সাজদায়ে সাহো করে, তাহলে নামায হয়ে যাবে, কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে এরূপ করা ঠিক নয়।
৭। সাজদায়ে সাহো ওয়াজিব হওয়া সত্ত্বেও যদি সাজদায়ে সাহো না করে উভয় সালাম ফিরিয়ে ফেলে, তারপর কোনো কথা বলার পূর্বে বা নামায ভঙ্গ হয়-এমন কোনো কিছু করার পূর্বে সাজদায়ে সাহোর কথা স্মরণ হয়, তাহলে তখনই যদি “আল্লাহু আকবার” বলে সাজদায়ে সাহো করে, তারপর তাশাহহুদ, দুরূদ শরীফ ও দুয়ায়ে মাছুরা পড়ে সালাম ফিরিয়ে নেয়, তবুও নামায হয়ে যাবে।
৮। শেষ বৈঠকে দুরুদ শরীফ পড়ার পর বা দুয়ায়ে মাছুরা পড়ার পর সালাম ফিরানোর পূর্বে যদি সাজদায়ে সাহোর কথা স্মরণ হয়, তখনই সাজদায়ে সাহো করে নিবে।
আল্লাহ আমাদেরকে আমল করার তৌফিক দান করুন
সূত্রঃ আহকামে যিন্দেগী । পৃষ্ঠা নং- ২৫৩-২৫৫

You may also like...

Skip to toolbar