পুরুষ ও নারীর মাহরাম -মাওলানা মুহাম্মদ হেমায়েত উদ্দিন

যাদের সঙ্গে নারীকে পর্দা করতে হয় না অর্থাৎ, যাদের সামনে নারীগণ যেতে পারেন তাদের একটি তালিকা নিম্নে প্রদান করা হলোঃ
১। নিজ স্বামী (যার নিকট স্ত্রীর কোনো অঙ্গের পর্দা নেই। তবে বিনা প্রয়োজনে বিশেষ অঙ্গ দেখা অনুত্তম)।
২। পিতা (আপন হোক বা সৎ। দুধ পিতাও এর অন্তর্ভূক্ত)।
৩। দাদা (দাদার পিতা বা আরও যত উপরে যাক এর অন্তর্ভুক্ত)।
৪। নানা (নানার পিতা বা আরও যত উপরে যাক এর অন্তর্ভূক্ত)।
৫। চাচা (আপন হোক বা সৎ)।
৬। ভাই (আপন হোক বা বৈমাত্রেয় বা বৈপিত্রেয়) তবে চাচাতো মামাতো খালাতো ফুফাতো ভাইয়ের সঙ্গে পর্দা করতে হবে। দুধ ভাইয়ের সঙ্গে দেখা দেয়া যায়।
৭। ভ্রাতুষ্পুত্র (আপন ভাইয়ের পুত্র হোক বা বৈমাত্রেয় ভাইয়ের বা বৈপিত্রেয় ভাইয়ের)।
৮। ভাগিনা (আপন বোনের ছেলে হোক বা সৎ বোনের)।
৯। ছেলে (আপন হোক বা সৎ)।
১০। আপন শ্বশুর, আপন দাদা শ্বশুর ও আপন নানা শ্বশুর ব্যতীত অন্য সকল প্রকার শ্বশুরের সঙ্গে পর্দা করতে হবে।
১১। মামা (আপন হোক বা সৎ)।
১২। নাতী (আপন ছেলের ঘরের হোক বা মেয়ের হোক)।
১৩। জামাই (আপন মেয়ের জামাই)।
• নির্বোধ, ইন্দ্রিয় বিকল ধরনের লোক বা ঐসব বালক যারা বিশেষ কাজ কারবারের দিক দিয়ে নারী পুরুষের মধ্যে কোনো পার্থক্য বোঝে না, তাদের সাথে পর্দা করা জরুরি নয়, তারাও পর্দায় হুকুম থেকে ব্যতিক্রম।
• পূর্বের পরিচ্ছেদ থেকে বোঝা গিয়েছে পুরুষ কোন কোন নারীর সঙ্গে দেখা করতে পারবে অর্থাৎ, কোন কোন নারীর সঙ্গে পর্দার হুকুম নেই; তবে সহজে বোঝার জন্য তারও একটি তালিকা নিম্নে পেশ করা হল।
পুরুষের মাহরামঃ
১। মা (আপন হোক বা সৎ। দুধ মা-ও এর অন্তর্ভূক্ত)।
২। মেয়ে (আপন হোক বা সৎ অর্থাৎ, স্ত্রীর পূর্বের ঘরের মেয়ে হোক)।
৩। বোন (আপন হোক বা বৈমাত্রেয় বা বৈমাত্রেয়) দুধবোনও এর অন্তর্ভূক্ত মামাতো, খালাতো, ফুফাতো, বোনদের সাথেও পর্দা করতে হবে।
৪। ফুফু (আপন হোক বা সৎ)।
৫। খালা (আপন হোক বা সৎ)।
৬। ভাতিজি (আপন হোক বা সৎ)।
৭। ভাগ্নি (আপন হোক বা সৎ)।
৮। শাশুড়ী (আপন শাশুড়ী বা দাদী শাশুড়ী বা নানী শাশুড়ী)।
৯। আপন দাদী।
১০। আপন নানী।
১১। পুত্র-বধু।
১২। নিজ স্ত্রী।
১৩। নাতিনী (ছেলের ঘরের হোক বা মেয়ের ঘরের)।
• উল্লেখ্য, পুরুষ তার মাহরাম মহিলার শুধু মাথা, চেহারা, গর্দান, দুই বাহু ও পায়ের নলা দেখতে পারে, তাও যদি শাহওয়াত না থাকে। পেট পিঠ দেখা জায়েয। একজন নারী অপর নারীর এতটুকু অংশই দেখতে পারে, যতটুকু একজন অপর পুরুষের দেখতে পারে-তার বেশি নয়।
• যেখানে নারীর আওয়াজের কারণে অনর্থ সৃষ্টি হওয়ার আশংকা থাকে সেখানে পর্দার সাথে কথা-বার্তা বলা নিষেধ। যেখানে এরূপ আশংকা নেই সেখানে জায়েয কিন্তু বিনা প্রয়োজনে পর্দার অন্তরালে থেকেও বেগানা পুরুষদের সঙ্গে কথা-বর্তা না বলার মধ্যেই সাবধানতা নিহিত। প্রয়োজনের মুহূর্তে বলতে হলেও নারীকে মিহি সুরে না বলার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ফিতনার সম্ভাবনা থেকে বাঁচার জন্য এটাই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা।
• নারীদের জন্য বেগানা পুরুষকে অলংকারের আওয়াজ শোনানোও জায়েয নয়।
• সুশোভিত রঙ্গিন কারুকার্য খচিত বোরকা পরিধান করেও হওয়াও নিষিদ্ধ।
• যে ব্যক্তি স্বীয় স্ত্রী বা পরিবারের কোনো মহিলাকে বেগানা পুরুষের সাথে মেলা মেশা করতে দেয়, শক্তি সত্ত্বেও তাতে কোনো প্রকার বাধা না দেয় অর্থাৎ, শরীয়াতের পর্দা বিধান লংঘন দেয়, তাকে দাইয়ূস বলা হয়। আর হাদীছে এসেছে দাইয়ূস ব্যক্তির জন্য আল্লাহ তা’আলা জান্নাত হারাম করে নিয়েছেন।
আল্লাহ আমাদেরকে আমল করার তৌফিক দান করুন।
সূত্রঃ আহকামে যিন্দেগী । পৃষ্ঠা নং- ৩৪২-৩৪৩

You may also like...

Skip to toolbar