পোশাক পরিধানে প্রিয় নবীর আদর্শ

পোশাক পরিধানে সব সময় ডান দিক দিয়ে শুরু করা আর খোলার সময় বাঁ দিক দিয়ে শুরু করা সুন্নাত।

(তিরমিজি : ১/৩০৬)

পুরনো হলেও সব সময় পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন কাপড় পরিধান করা উচিত। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যার অন্তরে ন্যূনতম অহংকার আছে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না’

জীবনের সব ক্ষেত্রেই চাই সুন্নাতের অনুসরণ। এটিই আল্লাহকে পাওয়ার একমাত্র পথ। আল্লাহ তাআলা নিজেই এর ঘোষণা দিয়েছেন : ‘হে নবী! বলে দিন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসতে চাও, তবে আমাকে অনুসরণ করো, তাহলে আল্লাহও তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেবেন। আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’

(সুরা আলে ইমরান, আয়াত ৩১)

খাওয়া, পরা, ঘুম থেকে শুরু করে পোশাক-পরিচ্ছদেও রাসুলের সুন্নতকে আঁকড়ে ধরা আবশ্যক। এ বিষয়েই আজকের আলোচনা।

পোশাক পরিধানের সুন্নতগুলোঃ

সামর্থ্য অনুযায়ী যখন যে ধরনের কাপড় পাওয়া যায়, তা পরিধান করাই উত্তম। রাসুল (সা.) প্রয়োজনের অতিরিক্ত কাপড় রাখতেন না এবং বেশি অভিজাত কাপড়ের প্রতি তাঁর আকর্ষণ ছিল না। যখন যে ধরনের কাপড় পাওয়া যেত, সেটাই তিনি পরিধান করতেন।

(জাদুল মাআদ : ১/৫৩)

বেশির ভাগ সময় রাসুল (সা.) একটি চাদর গায়ে দিতেন আর আরেকটি সেলাইবিহীন কাপড় পরিধান করতেন।

(শামায়েলে তিরমিজি : ৮)

অনেক সময় রাসুল (সা.)-এর কাপড়ে তালি লাগানো থাকত।

(মাদারেজুন নবুয়ত)

পোশাক পরিধানে সব সময় ডান দিক দিয়ে শুরু করা আর খোলার সময় বাঁ দিক দিয়ে শুরু করা সুন্নাত।

(তিরমিজি : ১/৩০৬)

পুরনো হলেও সব সময় পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন কাপড় পরিধান করা উচিত। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যার অন্তরে ন্যূনতম অহংকার আছে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ একজন বলল, ‘মানুষ তো সাধারণত সুন্দর কাপড় ও সুন্দর জুতা পরিধান করতে পছন্দ করে।’ রাসুল (সা.) বললেন, ‘আল্লাহ সুন্দর, তিনি সুন্দরকে পছন্দ করেন। অহংকার হলো সত্য গ্রহণে অনীহা ও মানুষকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা।’

(মুসলিম : হা. ১৪৭)

জামা হাঁটুর নিচ পর্যন্ত লম্বা এবং গোল হওয়া সুন্নাত। (মিশকাত শরিফ : হা. ৩৭৪) লুঙ্গি বা পায়জামা টাখনুর নিচে পরিধান করা যাবে না।

(মিশকাত শরিফ : হা. ৩৭৪)

অহংকার আসে এমন কাপড় পরিধান না করাই বাঞ্ছনীয়।

(আলমগিরি : ৫/৩৩৩)

পায়জামা পরিধান করা উত্তম। এটি সতর ঢাকার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রাসুল (সা.) একবার একটি পায়জামা ক্রয় করেন। কিন্তু সেটি তিনি পরিধান করেছেন কি না এ ব্যাপারে মতানৈক্য আছে। তবে সাহাবায়ে কেরাম হুজুর (সা.)-এর কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে পায়জামা পরিধান করতেন। (আলমগিরি : ৫/৩৩৩)

জুমার দিন সম্ভব হলে নতুন জামা, অন্তত নিজের উত্তম পোশাক পরিধান করা সুন্নত।

(ইবনে মাজাহ)

নতুন জামা পরিধানের সময় এই দোয়া পড়া, ‘আলহামদু লিল্লাহিল্লাজি কাসানি মা উওয়ারি বিহি আউরতি ওয়া আতাজাম্মালু বিহি ফি হায়াতি।’ (শামায়েলে তিরমিজি : ৫)

এমন টুপি ব্যবহার করা সুন্নাত, যা মাথার সঙ্গে লেগে থাকে। টুপির রং সাদা হওয়াও সুন্নাত।

(ফতোয়ায়ে আলমগিরি : ৫/৩৩০)

পাগড়ি বাঁধা সুন্নাত। সব সময় পাগড়ি বেঁধে রাখতে পারলে ভালো। শুধু নামাজের সময়ও বাঁধা যায়। পাগড়ি সাদা বা কালো রঙের হওয়া উত্তম। (মুসলিম : ১/৪৩৯)

পাগড়ি তিন হাত, সাত হাত, ১২ হাত পর্যন্ত লম্বা হতে পারে।

(ফয়যুল বারী : ৪/৩৭৫)

সব পোশাক ঢিলেঢালা হওয়া উচিত। যেসব পোশাকে সতরের কাঠামো দৃষ্টিগোচর হয়, তা দিয়ে পোশাকের সুন্নত আদায় হয় না।

(আপকে মাসায়েল : ৭/১৬৫)

নারীদের জন্য সালোয়ার-কামিজ পরিধান করা উত্তম। তবে শাড়ি পরিধান করাও জায়েজ।

(আলমগিরি : ৫/৩৩৩)

জুতা-মোজা পরিধান করার সময় প্রথমে ডান পা আর খোলার সময় বাঁ পা ব্যবহার করা সুন্নাত।

(মিশকাত : ৩৮০)

আল্লাহ আমাদের আমল করার তৌফিক দান করুন।

You may also like...

Skip to toolbar