বাতাসের ঘোড়া।। ২য় অংশ

প্রথম অংশ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

তিনিও চললেন যুদ্ধের ময়দানে।
সঙ্গে আছেন আর িএক দুঃসাহসী মুজাহিদ। সম্পর্কে চাচা।
কিন্তু তিনি দুধারী তরবারির অধিকারী। দুটোতেই সমান দক্ষ। কোনোটার চেয়ে কোনোটাই কম নয়।
একটি তার যুদ্ধের তরবারি, আর অন্যটি কলম।
হ্যাঁ, কবি তিনি। বিখ্যাত কবি। তার কবিতার ফলায়ও সমান বিদ্ধ হয়।
কাফের, মুশরিক, আর অগণিত ইসলামের দুশমন।
নাম তার আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা।
তিনি রাসূলের (সা) একজন উঁচুমানের সাহাবী।
আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা।
তিনিও চলেছৈন মূতার যুদ্ধে।
একটি মাত্র উট।
সেই উটে আরোহণ করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা। তার সাথে একই উটের দ্বিতীয় আরোহী তারই ভাতিজা, টগবগে এক মুজাহিদ।
চাচা-ভাতিজা।
কেউ কারো চেয়ে কম নয়।
কম নয় তাদের শাহাদাতের পিপাসা।
দু’জনই সমানে সমান।
উট এগিয়ে চলেছে ক্রমাগত সামনের দিকে।
পিঠে তার দু’জন দুঃসাহসী মুজাহিদ।
চাচা নামকরা িএক বিখ্যাত কবি।
উটের পিঠে চলতে চলতে তিনি আবৃত্তি করছেন কবিতা।
ভাতিজা তার মুগ্ধ শ্রোতা।
আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহার কবিতার এক জায়গায় ছিল শাহাদাতেরতীব্র স্বপ্ন ও আকঙ্ক্ষার কথা। সেই অংশটুকু শুনেই কাঁদতে শুরু করলেন সাথী ভাতিজা।
তিনি কাঁদছেন!
ভয়ে নয়।
শঙ্কায় নয়।
দুর্বলতায় নয়।
তবুও তিনি কাঁদছেন ক্রমাগত।
কিন্তু কেন?
বুঝে ফেললেন চাচা কবি আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা।
তার কান্নার কারণ বুঝে ওঠার সাথে সাথেই চাচা ঝাঁকিয়ে রাগের সাথে বললেন,
“ওরে ছোটলোক! আমার শাহাদাতের ভাগ্য হলে তোর ক্ষতি কি?”
যেমন চাচা, তেমনি ভাতিজা!
শাহাদাতের পিপাসায় দু’জনই সমান কাতর।
ভাতিজার শাহাদাতের পিপাসা মেটেনি বটে, তবে মিটেছিল জীবনের পিপাসা।
কারণ, তিনি ছিলেন রাসূলের (সা) একান্ত আপন।
রাসূলের স্নেহে তিনি ছিলেন ধন্য।ভ
তিনি যেমন রাসূলকে (সা) ভালোবাসতেন প্রাণ দিয়ে, তেমনি রাসূলও (সা) তাকে মহব্বত করতেন অঢেল, অনেক।
কে তিনি?
কে তিনি?
যিনি ছুঁতে পেরেছিলেন আল্লাহ ও রাসূলের (সা) ভালোবাসার পর্বতের চূড়া?
তিনি তো আর কেউ নন-
এক দুর্বিনীত দুঃসাহসী বাতাসের ঘোড়া- যায়িদ ইবন আরকাম।

প্রথম অংশ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

You may also like...

Skip to toolbar