বারুদের বৃষ্টি।। ১ম অংশ

দ্বিতীয় অংশ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

মক্কায় আশ্রয় নিয়েছেন মিকদাদ ইবন আমর। আছেন নিজের মধ্যে গুটিয়ে। কিন্তু তার হৃদয় এবং দৃষ্টিটা ছিল উন্মুক্ত।

মক্কা।

মক্কা তখন আলোর বিভায় আলোকিত হয়ে উঠছে ক্রমশ।

কারণ ততোদিনে রাসূল (সা) তাওহীদের বাণী ছড়িয়ে দিয়েছেন চারদিকে।

কিন্তু বেশ গোপনে। মাত্র গুটিকয়েক মানুষের মাঝে।

মিকদাদের চারপাশে তখনো অন্ধকার।

কিন্তু তার ভাল লাগে না সেই কুৎসিত পরিবেশ।

কেমন বেরহম সবাই। কেবলি হানাহানি আর রক্তারক্তি। অশান্তির সয়লাব। অনাচারের প্লাবন।

মুক্তির উপায় কি?

ভাবেন মিকদাদ।

ভাবতে ভাবতেই একদিন আকস্মিকভাবে জেনে গেলেন। জেনে গেলেন রাসূলের (সা) কথা।

তাঁর দীনের দাওয়াতের কথা।

জেনে গেলেন, যত সুখ আর নিরাপত্তা- সে কেবল আছে এইখানে, আল্লাহর দীনের ভেতর।

তবে আর দেরি কেন?

না। দেরি নয়।

মিকদাদ ছুটে গেলেন রাসূলের (সা) কাছে। তারপর গ্রহণ করলেন ইসলাম।

ইসলাম গ্রহণ করে তিনি মিথ্যার কুহক থেকে মুক্তি লাভ করলেন। ভাগ্যবান মনে করলেন নিজেকে।

যখনই কালেমা পাঠ করলেন মিকদাদ, তখনই তার বুকের ভেতর প্রবেশ করলো এক প্রশান্তির বাতাস। আর সেই সাথে তুমুল ঢেউ তুললো সাহসী তুফান।

ইসলামের দাওয়াতের কাজ চলছে মক্কায়। গোপনে।

কিন্তু না।

মিকদাদ এতে সন্তুষ্ট নন।

নিজের বিবেক এবং সাহসের সাথেই এ যেন লুকোচুরি খেলা।

এটা তার পছন্দ নয়।

তিনি সরাসরি, সবার সামনেই দিতেন চান ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা।

তিনি গ্রহণ করেছেন আল্লাহর বাণী, রাসূলের বাণী, সত্য ও সঠিক পথের দিশা। সুতরাং সেখানে আবার লুকোচুরির কী আছে? হোক না বৈরী পরিবেশ।

তবুও সাহসে বুক বাঁধতে হবে।

সত্যে পক্ষে দাঁড়াতে আবার কীসের ভয়?

অসামান্য সাহসী মিকদাদ।

ভয় নয়। শঙ্কা নয়। দ্বিধা বা সংকোচও নয়। তিনি সরাসরি মক্কায় ইসলামের দাওয়াতের কাজ শুরু করে দিলেন।

কারুর ভয় তিনি ভীতু নন।

মক্কায় তখন চলছে দুশমনদের অকথ্য নির্যাতন।

যারাই সত্যপথের সাথী হচ্ছেন। তাদেরই চলছে নির্যাতনের স্টীম রোলার।

কেউই রেহাই পাচ্ছেন না কাফেরদের হিংস্র থাবা থেকে।

মিকদাদাও জানেন সে কথা।

তারপরও তিনি তার সিদ্ধান্ত অনড়। যেন সে এক হেরার পর্বত।

মিকদাদ প্রকাশ্যে ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছেন মক্কায়।

মানুষকে ডাকছেন এক আল্লাহর পথে। ইসলামের পথে।

রাসূলের (সা) পথে।

কাজটি খুবই কঠিন।

শত্রুরা ক্ষেপে গেল মুহূর্তেই।

দ্বিতীয় অংশ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

You may also like...

Skip to toolbar