বায়তুল মাক্কাদাস বিজয়ী প্রথম বীর হযরত ইউশা ইবনে নূনের কাহিনী –১ম অংশ

হযরত মূসা(আ) বনী ইসরাঈলকে সাথে নিয়ে অলৌকিক উপায়ে লোহিত সাগর পেরিয়ে এক মরুভূমিতে অবস্থান করতে থাকেন। এই সময় আল্লাহ তায়ালা বেহেশত হতে মান্না এবং সালওয়া নামক খাবার পাঠিয়ে এবং আকাশ হতে মেঘের ছায়া দিয়ে তাদের জীবন যাপনের সুব্যবস্থা করেন।

ইত্যবসরে আল্লাহর নির্দেশক্রমে মূসা(আ) বনী ইসরাঈলীদেরকে বলেন, “আল্লাহ একটি সুজলা সুফলা নয়নাভিরাম পবিত্র ভূমি ফিলিস্তিন তোমাদের স্থায়ী বসবাসের জন্য নির্ধারণ করেছেন। তোমরা সেখানে গিয়ে বসবাস করতে থাক।” এই সময়ে ফিলিস্তিন ছিল আমালেকা নামক বিশালদেহী একটি জাতির দখলে। বনী ইসরাঈলীরা লোকমুখে তাদের বিবরণ শুনেছিল।

তারা জবাব দিল, “হে মূসা! ঐ দেশে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী জাতি বাস করে। তাদেরকে লড়াই এর মাধ্যমে পরাজিত করে বহিষ্কার করা ছাড়া আমরা সেখানে প্রবেশ করতে পারবো না। কিন্তু তাদের সাথে আমরা লড়াই করতে অক্ষম।”

হযরত মূসা(আ) এ কথা শুনে তাঁর বিশ্বস্ত সাহাবী হযরত ইউশা ইবনে নূনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ফিলিস্তিনে পাঠালেন সেখানকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার জন্য।

প্রতিনিধি দলটি ফিরে আসার পর হযরত মূসা(আ) কে জানালো যে, ঐ লোকগুলি দেখতেই শুধু বিশালদেহী, কিন্তু তেমন সাহসী ও লড়াকু নয়। বনী ইসরাঈলীরা একযোগে আক্রমণ করলে তারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হবে।

এবার হযরত মূসা(আ) বনী ইসরাঈলীদেরকে একত্রিত করে এক জ্বালামীয় ভাষণ দিয়ে তাদেরকে ফিলিস্তিনে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। কিন্তু তারা বললো, “ঐ শক্তিমান জাতিটি যতক্ষণ ওখানে আছে, ততক্ষণ আমরা যাবো না। যদি বেরিয়ে যায়, তাহলে আমরা যাবো।”

এই সময় হযরত ইউশা ইবনে নূন ও হযরত মূসার(আ) ভগ্নিপতি কালেব তাদেরকে অনেক বুঝালেন যে, “তোমরা ভয় পেয়না। আল্লাহর ওপর ভরসা করে এগিয়ে চল। তোমরা ঐ দেশটির সীমান্তে পৌঁছামাত্রই ওরা চলে যাবে এবং তোমরা বিজয়ী হবে।”

বনী ইসরাঈল বললো, “হে মূসা! ওরা থাকতে আমরা যাবো না। বরঞ্চ তুমি ও তোমার খোদা গিয়ে লড়াই করে ওদের তাড়িয়ে দিয়ে এস। আমরা ততক্ষণ এখানেই বসে থাকবো।”

এবার মূসা(আ) আল্লাহর কাছে নিবেদন করলেন, “হে আল্লাহ, আমি কেবল আমার ও আমার ভাই এর দায়িত্ব নিতে পারি। তুমি আমার সাথে আমার এ অবাধ্য জাতির সম্পর্ক ছিন্ন করে দাও।”

দ্বিতীয় অংশ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

You may also like...

1 Response

Skip to toolbar