মাগের ইবনে মালিকের তাওবা

মাগের ইবনে মালিক (রা) মহানবী (সা)-এর একজন সাহাবী। সতর্কতা সত্ত্বেও কখনও কারো পা পিছলাতে পারে। মাগের ইবনে মালিকও (রা) গুরুতর অপরাধ করে বসলেন।

অপরাধ করার পরই আল্লাহর ভয় তার মধ্যে এক মহাযন্ত্রণার সৃষ্টি করল।

তার মনে হলো, এ অপরাধের জন্য আল্লাহ-নির্ধারিত শাস্তি গ্রহণের মাধ্যমেই তার যন্ত্রণার অবসান হতে পারে।

মাগের ইবনে মালিক (রা) মহানবী (সা)-এর কাছে হাজির হলেন। বললেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ আমাকে পবিত্র করুন।’

আল্লাহর রাসূল (সা) তাকে বললেন, “তোমার সুমতি হোক।

যাও, গিয়ে আল্লাহর কাছে তওবা কর।”

মাগের ইবনে মালিক আল্লাহর রাসূলের এ আদেশ নিয়ে ফিরে চললেন।

কিন্তু হৃদয়ের সে যন্ত্রণা তাঁর দূর হলো না। আল্লাহর-নির্ধারিত শাস্তি গ্রহণ করার মাধ্যমে তওবা না করলে কিভাবে তিনি পবিত্র হবেন? মনের তাড়নায় আবার তিনি ফিরে গেলেন মহানবীর কাছে।

আগের সতই তিনি মহানবীর কাছে আরজ পেশ করলেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমাকে পবিত্র করুন।”

মহানবী (সা) আগের মতই তাঁকে নির্দেশ দিলেন।

মাগের ইবনে মালিক (রা) মহানবীর নির্দেশ নিয়ে আবার ফিরে গেলেন।

কিন্তু মনের তাড়নায় আবার ফিরে এলেন। এভাবে তিনবার এই ঘটনা ঘটল।

চতুর্থবার মাগের ইবনে মালিক (রা) ফিরে এলে মহানবী (সা) মাগের ইবনে মালিক (রা)-কে বললেন, ‘ব্যভিচার থেকে।’

মহানবী (সা) আশেপাশের লোকদের জিজ্ঞাসা করলেন, “এ মাতাল নাতো?” সকলে বলল, ‘সে মাতাল নয় ইয়া রাসূলাল্লাহ।

’ আল্লাহর রাসূল আবার জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ও কি মদ খেয়েছে?’লোকজন মাগের ইবনে মালিকের কাছে গিয়ে তার মুখ শুঁয়ে বলল, “না সে মদ খায়নি।”

এবার মহানবী (সা) মাগের ইবনে মালিককে উদ্দেশ্য করে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কি সত্যই ব্যভিচার করেছ?’

মাগের আরজ করল, ‘হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ?’

মাগেরের সুস্পষ্ট স্বীকৃতি পুনরায় লাভ করার পর মহানবী (সা) আল্লাহর বিধান আনূযায়ী তাঁর শাস্তির ব্যবস্থা করলেন। প্রস্তরাঘাত তাঁকে হত্যা করার শাস্তি কার্যকর করা হলো।

ব্যভিচারের অরাধ থেকে পবিত্র হবার জন্যে মাগের ইবনে মালেক পরম সন্তুষ্টচিত্তে প্রস্তরাঘাতে তাঁর জীবন বিসর্জন দিলেন।

দু’তিন দিন পর মহানবী (সা) সাহাবীদের ডেকে বললেন, “তোমরা মাগের ইবনে মালিকের জন্যে মাগফিরাতের দোয়া কর।

সে যে তাওবা করেছে, তা গোটা একটা জাতির মধ্যে বণ্টন করে দিলেও তাদের সকলের জন্যে তা যথেষ্ট হবে।”

 

You may also like...

Skip to toolbar