মানির মান মানিরাই জানে- শেখ সাদির গল্প

দ্বিগ্বিজয়ী মহামতি আলেকজান্ডারকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলঃ মাশরেক থেকে মাগরিব পর্যন্ত এত দেশ আপনি কি করে জয় করেছেন? তখনকার দিনের রাজা বাদশাহদের হায়াত, ধনরত্ন ও সৈন্য সামন্ত আপনার চেয়ে অনেক বেশি ছিল। এতদেশ জয় করা আর কারো পক্ষে সম্ভব হয়নি।

তিনি উত্তর দিয়ে বললেনঃ খোদার অশেষ অনুগ্রহে এটা আমার পক্ষে সম্ভব হয়েছে, তবে যে দেশ আমি অধিকার করেছি, তার অধিবাসীদেরকে কখনও কষ্ট দেইনি এবং সে দেশের পূর্বপুরুষদের ভালো ভালো প্রথা পদ্ধতিগুলো বাতিল করিনি। আর বিজিত দেশের রাজা বাদশাদের নাম সসম্মানে উচ্চারণ করছি। অবজ্ঞা করে তুচ্ছভাবে লইনি।

“সম্মানীর নাম যেবা তুচ্ছভাবে লয়,

জ্ঞানী লোকে তারে কভু সম্মানী না কয়।

এই দুনিয়ায় স্থায়ী কিছু নয়,

সব কিছু চলে যায়

বাড়ি, গাড়ি, ধন, রাজসিংহাসন

কিছু নাহি বাকি রয়।

চলে গেছে যারা সুনাম তাদের

করিতে না হয় বিমমিন।

তোমার সুনামও রবে দুনিয়ায়,

অম্লান চির দিন।”

শিক্ষাঃ যিনি জ্ঞানী ও সম্মানীত ব্যক্তিদেরকে সম্মান প্রদর্শন করেন, তিনি উচ্চ মর্যাদাবান ব্যক্তিতে পরিনত হন। সমাজে যিনি মর্যাদাবান ব্যক্তি, তাকে ইজ্জত দিলে সে সমাজে প্রত্যাগত (আগন্তুক)  ব্যক্তি প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারেন।

You may also like...

Skip to toolbar