মুমিনের নামায

একবার রাসূলুল্লাহ(সা) জানতে পারলেন যে, নাজদে দুটি গোত্র মদীনা আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি কালবিলম্ব না করে সাতশো সাহাবীকে সাথে নিয়ে যুদ্ধসাজে সজ্জিত হয়ে নাজদ অভিমুখে যাত্রা করলেন।

হযরত উসমান ইবনে আফফানকে তিনি মদীনায় নিজের স্থলাভিষিক্ত করে রেখে গেলেন। যথাস্থানে পৌঁছে তিনি মদীনার ‘যাতুর রিকা’ নামক পর্বতবেষ্টিত এক উপত্যকায় শিবির স্থাপন করলেন। এ কারণে এ অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘গাযওয়াজে যায়তুর রিকা’।

রাসূলুল্লাহ(সা) এর নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনীর ত্বড়িত উপস্থিতির ফলে শত্রুদল এতই ঘাবড়ে গেল যে, তারা রণে ভংগ দিয়ে চতূর্দিকে পালিয়ে গেল। ফলে যুদ্ধ না করেই রাসূল(সা) সসৈন্যে মদীনায় ফিরে এলেন।

তবে এই অভিযানকালে আর একটি চকমপ্রদ ঘটনা ঘটে যা মুসলমানদের জন্য শিক্ষা ও প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। এই অভিযানকালে রাসূল(সা) এর তাবু পাহারা দেয়ার জন্য প্রতি রাত্রে পালাক্রমে কয়েকজন করে সাহাবীকে নিয়োগ করা হয়। যেদিন হযরত আব্বাদ(রা) ও আম্মার ইবনে ইয়াসার(রা)কে পাহারার কাজে নিয়োগ করা হয়, সেই দিনই ঘটে এই মর্মস্পর্শী ঘটনা।

হযরত আব্বাদ ও হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসার পরস্পরে পুরো রাতটাকে এভাবে ভাগ করে নিয়েছিলেন যে, প্রথম ভাগে পাহারার দায়িত্ব হযরত আব্বাদের উপর এবং শেষের অংশ হযরত আম্মারের ওপর পড়লো। হযরত আব্বাদের পাহারার পালা শুরু হলো। তিনি ছিলেন অত্যধিক নফল নামাযের ভক্ত। তাই ভাবলেন, এত দীর্ঘ সময় চুপচাপ থেকে লাভ কী?

সময়টা নামায পড়ে কাটিয়ে দেয়া যাক। তাই তিনি নফল নামাযের নিয়ত করে নামাযে সূরা কাহাফ পড়া শুরু করে দিলেন। ওদিকে হযরত আম্মার ঘুমিয়ে পড়লেন। হযরত আব্বাদ যখন নামাযে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সূরা পাঠরত তখন চারদিকে গাঢ় অন্ধকার। এক কাফের সন্তর্পণে সামনে এল। সে দূর থেকে স্পষ্ট দেখতে পেল না যে, কোন পাহারাদার আছে কি না।

তবে দূর থেকে হযরত আব্বাদকে একটা গাছ মনে করল। আবার তার মনে সন্দেহ হলো যে, ওটা গাছ না হয়ে একটা মানুষও হতে পারে। তাই সে নিজের সন্দেহ ভঙ্গনের জন্য তাকে লক্ষ্য করে একটা তীর ছুঁড়লো। তীর হযরত আব্বাদের পিঠে গিয়ে ঢুকলো, কিন্তু নামায ছাড়লেন না। কাফেরটি সন্দেহমুক্ত হওয়ার জন্য একে একে তিনটি তীর ছুঁড়লো।

প্রত্যেকটি তীর তাঁর গায়ে বিদ্ধ হয়ে প্রবল রক্তপাত ঘটালো। অগত্যা তিনি বাধ্য হয়ে নামায ছেড়ে দিয়ে হযরত আম্মারকে ঘুম থেকে ডাকলেন। ইত্যবসরে তাঁর নড়াচড়া টের পেয়ে এবং কথাবার্তা শুনে শত্রু সৈন্যটি নীরবে প্রস্থান করলো। হযরত আম্মার তাঁকে ক্ষতবিক্ষত ও রক্তাক্ত জিজ্ঞেস করলেন, “আপনি প্রথম তীরের সাথে সাথেই আমাকে ডাকলেন না কেন?”

হযরত আব্বাদ বললেনঃ আমি নামাযে সূরা কাহাফ পাঠ করছিলাম। এতে এত মজা লাগছিল যে সূরা শেষ না করে কিছুতেই নামায ছাড়তে ইচ্ছা করছিল না।

হযরত আব্বাদ (রা) হযরত আবু বকর(রা) এর খেলাফতকালে মুরতাদদের বিরুদ্ধেও জিহাদে অংশগ্রহণ করেন এবং ভন্ড নবী মুসাইলামার বিরুদ্ধে জিহাদ করতে গিয়ে শহীদ হন।

শিক্ষাঃ (১) শত্রুর আক্রমণের প্রস্তুতির কথা জানার পর চুপ করে বসে না থেকে আক্রমণ প্রতিহত করার যথাসাধ্য প্রস্তুতি নেয়া উচিত।

 

(২) নামাযে পঠিত কুরআনের অর্থের দিকে খেয়াল রাখলে নামাযে মনোনিবেশ করা সহজ হয়।

 

You may also like...

Skip to toolbar