মু’য়াজ ইবন আফরা (রা)

হযরত মু’য়াজের পিতার নাম আল-হারিস ইবন রাফা’য়া আন- নাজ্জারী এবং তার মাতার নাম আফরা বিনতু উবাইদ। মদীনার বিখ্যাত খাযরাজ গোত্রের বনু নাজ্জার শাখার সন্তান। পিতার নামে তিনি পরিচিত নন। ইবন সা’দ বলেন: তাকে মায়ের সাতেই সম্পৃক্ত করা হয়।১ তাঁর মা আফরার প্রথম বিয়ে হয় আলÑহারিস ইবন রাফা’য়া আল-খাযরাজী সাথে। সেখানে তার দুছেলে- মু’য়াজ ও মুয়াওবিজ এর জন্ম হয়। এরপর তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। আফরা হজ্জের উদ্দেশ্য মাক্কায় যান এবং সেখানে আল-বুকাইর ইবন আবদি ইয়ালীল আল-লাইসীকে বিয়ে করেন। সেখানে আকিল ইয়াস,ইমর ও খালিদ নামে চার ছেলের জন্মের পর আবার মদীনায় ফিরে আসেন। পূর্ব স^ামী আল-হারিস আবার তাকে ফিরিয়ে নেন। এবার ছেলে আওফ-এর জন্ম হয়।২ এ সবই ইসলাম পূর্বে জীবনের ঘটনা।

হযরত আফরা (রা) ছিলেন একজন ভাগ্যবতী মহিলা। ইসলাম গ্রহণ করে নিজে তোা সাহাবিয়্যা হওয়ার  গৌরব অর্জন করেন। তাছাড়া মু’য়াজ,  মু’য়াওবিজ ও আওফের মত তিনটি ছেলের মত মা হওয়ার দুর্লভ সম্মান ও অর্জন করেন। এ তিনটি ছেলেই ইতিহাস প্রসিদ্ধ বদরের যোদ্ধে।৩ শেষোক্ত দুজন বদরের শহীদ।৪ শুধু তাই নয় তারাই ইসলামের সর্বশ্রেষ্ট দুশন আবু জাহরকে এ বদরেই এক যোগে হামলা করে হত্যা করেন।

‘আকাবা উপত্যকায়ং রাসূলুল্লাহর (সা) হাতে মদীসাবাসীদের বাইয়াত বা শপথ অনুষ্টিত হওয়ার আগেই তিনি মক্কায় গিয়ে মুসলামন হন। আরা পাঁচ ব্যক্তি ও সফরে তাঁর সঙ্গী ছিলেন। অবশ্য এ ছ’জনের নামের ব্যাপারে সীরাত বিশেজ্ঞদের যথেষ্ট মত পার্থক্য আছে। যুহরী ও উরওয়ার  বর্ণনা মাতে মুয়াজ ইবন আফরাও তাদের একজন।

তাবারনী উরওয়া থেকে বর্ণনা করেছেন্ হজ্জ মওসুমে আনসারদের কয়েক ব্যক্তি মক্কায় গিয়ে হজ্জ করলেন। তাঁরা হলেন মুয়াজইবন আফরা, আসয়াদ, ইবন যুরারা, রাফে ইবন মালিক, জাকওয়ান ইবন আবদিল কায়েস, আবুল হায়সাম ইবন আততায়্যিহান ও উওয়ায়িম ইবন সা’য়িদা (রা) খবর পেয়ে রাসূলু (সা) তাদের কাছে গেলেন এবং আল্লাহ যে তাকে নবী হিসেবে নির্বাচিত করেছেন তা তাদেরকে জানালেন। তিনি কুরআন থেকে পাঠ করেও শোনালেন। তাঁর অত্যন্ত ধীর-স্থির ভাবে কান লাগিয়ে তাঁর বক্তব্য শুনলেন। আহলি কিতাবদের নিকট থেকে শেষ নবীর যে সকল গুন বৈশিষ্ট্যের কথা এবং তার দা’ওয়াতের বিষয় তাদের জানা ছিল তাতে রাসূলুল্লাহর (সা) দাবীর প্রতি তাঁদের আস্থা ও বিশ্বাস জান্মালো। তাঁরা ঈমান আনলেন। আগামী হজ্জ মওসুমে তাঁর সাথে আবার মিলিত হবেন এ অঙ্গীকার করে তাঁরা মদীনায় ফিরে এলেন।মদীনায় এসে তাঁরা চুপে চুপে মানূষকে ইসলামের দাওয়াত দিতে শুরু করলেন এবং তাঁদেরকে রাসূলুল্লাহর (সা) আবির্ভাব ও তাঁর মিশন সম্পর্কে অবহিত করতে লাগলেন। মানুষকে কুরআন পড়ে পড়ে শোনাতে লাগলেন। তাঁর এমন ভাবে কাজ করলেন যে, আনসাদের এমন বাড়ি খুব কমই ছিল  যেখানে একজন লোকও মুসলামন হলো না।৬ ইসলামের ইতিহাসে এ ঘটনাকে কেউ কেউ আকাবার প্রথম বাইয়াত বা শপথ বরে উল্লেখ করেছেন। এ হিসেবে আকাবার বা’য়াত হয় তিনটি।

মদীনায় যখন বেশি কিছু লোক ইসলাম কবুল করলো এবং ঘরে ঘরে ইসলামের পরিচিতি গড়ে উঠলো তখন মদীনাবাসীরা মক্কা থেকে একজন লোক পাঠানোর জন্য রাসূলুল্লাহর (সা) নিকট অনুরধ জানালো যিনি রাসূল (সা) প্রতিনিধি হিসেবে তাগেদরকে কুরআন শিখাবেন এবং দ্বীনের সঠিক তালীম দেবেন। রাসূল (সা) তাঁদের মদীনায় পাঠান। আবু নুয়াইম আল-হুলায়িয়্যা গ্রন্থে (১/১০৭) যুহরী থেকে বর্ণনা করেছেনঃ মদীনাবাসীরা রাসূলুল্লাহর নিকট তাদের পৌছানোর জন্য মুয়াজ ইবন আফরা ও রাফে ইবন মলিককে মক্কায় পাঠান।৭

তাঁর ইসলাম গ্রহণ ও মক্কায় গমস সম্পর্কে সীরাত বিশেষজ্ঞদের মদ্যে নানা রকম ধারণা প্রচ।িলত আরেছ। যেমন ইবন সা’দ বলেন, বর্ণিত আছে মু’য়াজ ইবন আলÑহারিস ও রাফে ইবন মালিক আনসারদের প্রথম দু ব্যক্তি যাঁরা মক্কায়  গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। আবার এ কথাও বর্ণিত আছে যে তাঁদের দুজনকে আনসাদের সেই আট ব্যক্তির মধ্যে গণ্য করা হয় যাঁরা প্রথম দু’ ব্যক্তি  যাঁরা মক্কায় গিয়ে ইসলাম গ্রহণ। আবার তাঁদেরকে সেই ছয় ব্যক্তির মধ্যেও গণ্য করা হয় যাঁদের সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁরাই আনসারদের মধ্যে সর্বপ্রথম মক্কায় রাসূলুল্লাহর (সা) সাথে মিলিত হন এবং ইসলাম গ্রহণ করেন। যাঁদের আগে আর কেই এমন করেননি। ওয়াকিদী ও মুহাম্মদ ইবন উমার বলেনঃ ছয় জনের বর্ণনাটি আমাদের নিকট সর্বাধিক সঠিক ও শক্তিশালী বলে মানে হয়।৮ সীরাত বিশেষজ্ঞরা এ ব্যাপারে প্রয় একমত যে তিনি আকাবার পরবর্তী দুটি বাই’য়াতে উপস্থিত ছিলেন।৯

হিজরাতের পর হযরত রাসূলে কারীম (সা) মা’মার ইবনুল হারিসের সাথে তাঁর দ্বীনি ভ্রাতৃ সম্পর্কে প্রতিষ্টা করে দেন।১০ হযরত মু’য়াজ তাঁর অন্য দু’ ভাই মু’য়াওবিজ ও আওফের সাথে বদরে অংশ গ্রহণ করেন। ইবন হিশাম বলেনঃ বদর, উহুদ, খন্দকসহ সকল যুদ্ধে তিনি অংশগ্রহণ করেন।১১ হযতে ম’য়াজ ইবন আফরার বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণ সম্পর্কে কারো দ্বিমত নেই। তবে এ যুদ্ধে ইসলামের চরম দুশমন আবু জাহলকে তাঁর হত্যা বা এ যুদ্ধে শাহাদাত বরণ সম্পর্কে সীরাত ও হাদীস বিশেষজ্ঞদের দারুন মততবিরোধ আছে। বিভিন্ন বর্ণনা পর্যালোচনা করলে এ কথা স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় য়ে, তিনি আবু জাহলের হত্যায় অংশগ্রহণ করেন এবং বদর যুদ্ধে আহত হওয়ার পরও দীর্র্ঘদিন জীবিত ছিলেন। এখানে সংক্ষেপে কয়েকটি বর্ণনা তুলে ধরছি।বদর যুদ্ধের শুরুতে কুরাউশ পক্ষে তিন বীর, উতবা ও ওয়ালীধ ইবন উতবা হুস্কার ছেড়ে প্রতিপক্ষকে দ্বন্দ্বের আহবান জানায়। তখন মুসলিম বাহিনীর মধ্যে হতে সর্বপ্রথম হযরত আফরার তিন ছেলে মু’য়াজ, মুয়াওবিজও আওফ তরবারি হতে নিয়ে ময়দানের দিকে ধাবিত হন। কিন্তু হযরত রাসূলে কারীম (সা) তাদেরকে বরত রাখেন। তিনি হযরত হামযা অন্যদেরকে এগিয়ে যেতে নির্দেশ দেন। কিন্তু জিহাদের তীব্র আবেগে কি তাতে দমে থাকতে পারে? হযরত আবদুর রহমান ইবন আওফ একটি সারিতে দাড়িয়ে ছিলেন। তাঁর ডানেÑবামে দু পাশে তাঁর দু ভাই এম দাড়িয়ে গেলেন। আবুদর রহমান তাদেরকে চিনতেন না। এ কারণে নিজের দু’পাশে দু’ তরুণকে দেখে একচু হতাশা ও বীতি অনুভব করলেন। এর মধ্যে একজন ফিস ফিস করে জানতে চাইলেনঃ চাচ বলুন তো আবু জাহল কোন দিকে? তিনি পাল্টা প্রশ্ন করলেনঃ ভাতিজা তাকে দিয়ে কি করবে? তরুনটি বললেনঃ শনেছি সে রাসূলুল্লাহকে (সা)  গালি দেয়,এজন্য আমরা আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার করেছি যে, তাকে অবশ্যই হত্যা করবো। আর এ উদ্দেশ্যে প্রয়োজনে হরে জীবনও বিলিয়ে দেব। দ্বিতীয় তরুণও ঠিক একই কতা বললেন।

হযরত আবদুর রহমান দারুণ পুলকিত হলেন। তিনি চিছুটা গর্বও অনুভব করলেন এই ভেবে যে কত মাহান দু’ বক্তির মাঝখানেই না দাঁড়িয়ে! তিনি হাত দিয়ে ইশারা  করে বললেনঃ দেখ ঐ যে ক্ষাু জাহল হাঁটছে। এতটুকু বলতেই তাঁরা দুজন বাজ পাখীর ন্যায় ত্বরীৎ গতিতে ঝাপিয়ে পড়ে তাকে হত্যা করেন। ফিরে  এসে তাঁরা রাসূলকে (সা) এ হত্যার সুসংবাদ দান করেন। তখন তাদের দু’জনের তরবারিতে আবু জাহলের রক্ত বিদ্যমান।১২ সহীস মুসলিম গ্রন্থে এ দু’ তরুণের নাম মু’য়াজ ইবন আমর ইবনুল জামূঞ এবং মু’য়াজ ইবন আফরা বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু সহীহ বুখারীতে আফরা’র ছেলেদের কথা এসেছে। যা দ্বারা প্রমাণিত হয়, মুয়াজ ইবন আফরা ও তাঁর ভায়ের নরাধম আবু জাহলকে হত্যা করেছিলেন।

আল হাকেম (৩/৪২৫) ও আলÑ বায়হাকীর (৬/৩০৫) বর্ণনায় জানা যায়, ঐ দু’তরুণেরে একজন মুয়াজ ইবন আফরা এবং অন্য জন মু’য়াজ ইবন আমর ইবনুল জামূহ। তাঁরা আবু জাহলকে হত্যার পর দৌড়ে রাসূলকে (সা) সুসংবাদ দিতে এলে তিনি প্রশ করলেনঃ তোমাদের দুজনরে কে তাঁকে হত্যা করেছে? তাঁরা দু’জনই বললেনঃ হ্যাঁ তোমরা দু’ জনেই তাঁকে হত্যা করেছো, এরপর তিনি তাঁদের দু’জনকেই রণক্ষেত্রে ক্ষু জাহলের নিকট থেকে প্রাপ্ত জিনিসগুলি দান করেন।১৩

ইবন আবী খায়সামা ইবন ইসহাকের সুত্রে বর্ণনা করেছেন। মু’য়াজ বিন আফরা বলেছেনঃ আমি সুযোগ পেয়ে আবু জাহলকে তরবারি দিয়ে এমন আঘাত হানলাম যে তার পায়ের নালার মাঝামাঝি থেকে কেটে পড়ে গেল। সাথে সাথে আকরামা ইবন আবী জাহল আমার এক কাঁধে আঢ়াত করে বসলো। আমার সেই ঝোলানো  হাতটি পিছনের দিকে টেনে নিয়ে বেড়াতাম। তারপর সেটা যখন বেশি কষ্ট দিতে লাগলো তখন একদিন পা দিয়ে চেপে ধরে ছিড়ে ফেলে দেই। অবশ্য ইবন হিশাম ইবন ইসহাকের সুত্রে উপরোক্ত ঘটনা মু’য়াজ ইবন আমর ইবনুল জামূহ এর সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন। আর তাঁর সহযোগী হিসেবে মু’য়াওবিজ ইবন আফরার কথা বলেছেন।১৪

আলÑইসতীয়াব গ্রন্থকার উল্লেখ করেছেন, বদর তিনি বনু যুরাই গোত্রের ইবন মায়িদ এর আঘাতে আহত হন।১৫ ইবন সা’দ এর মতে আফরার দুছেলে মু’য়াওবিজ ও আওফে এক কোপে আবু জাহলকে আক্রমন করেন। আবু জাহল পাল্টা আক্রমন করে তাদরে দুজনকেই হত্যা করে। এরপর আবু জাহল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আবদুল্লাহমাসউদ বাকী কাজটুকু শেষ করে তাকে জাহান্নামে পাঠান।১৬ একটি বর্ণনা মতে এ বদর যুদ্ধে তিনি ইসলামের অন্য এক চরম দুশমন উমাইয়্যা ইবন খালফকে হত্যায় অংশগ্রহণ করেন।১৭

আবু জাহলের হত্যার ঘটনার মত হযতে মু’য়াজ ইবন আফরার মৃত্যুর সময় সম্পর্কে বেশ মতভেদ আছে। যেমন, বালাজুরী বলেনঃ মু’য়াজ ও তাঁর ভাই মু’য়াওবিজ বদরে শহীদ হন। তাঁদের ভাই আওফ জীবিত থাকেন। ইবনুল কালবী বলেনঃ ইয়া রাসূলুল্লাহর (সা) নিকট আসেন। তারপর ছেলে আওফের দিকে ইশঅরা করে বলেনঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ! এই আমার সবচেয়ে খারাপ ছেলেটি রয়ে গেছে। রাসূল (সা) বললেনঃ না। তার মাদ্যমেই আফরা’র বংশধারা চলবে। কিন্তু ওয়কিদী বলেনঃবদরে আওফ ও মু’য়াজবিজ  শহীদ হন  এবং মু’য়াজ জীবিত থাকেন। তারপর ফিত্না অর্থ্যৎ আলীÑমুওবিয়ার (রা) দ্বন্দ্ব সংঘাতের সমং হিজরী ৩৭ নস ইনতিকাল করেন।১৮ আওফ ও মু;য়াওবিজ  যে বদরে শহীদ হন, একথা ইবন হিশামও বলেছেন।১৯

আবার কেউ কেউ বলেছেন। মু‘য়াজ বদরে বনু যুরইক গোত্রের ইবন মা‘য়িদা এর হতে আহত হন এবং তাতেই  পরে মদীনায় মারা যান। ইবন ইদরীস, ইবন ইসহাক থেকে বর্ণানা  করেছেন যে মু‘য়াজ খলীফা উসমানের (রা) সময় পযর্ন্ত বেঁচে ছিলেন। খলীফা ইবন খাইয়্যাত বলেছেনঃ দিসি আলী ইবন আবীঅ তালিবের (রা) খিলাফতকালে ইনতিকাল করেন।২০ যাই হোক তিনি যে বদরে শাহাদাত বরণ বা রাসূলুল্লাহর (সা) জীবদ্দশায় ইনতিকাল করেননি তা প্রমাণিত হয় সীরাত গ্রন্থে সমূহে বর্ণিত তাঁর পরবর্তী জীবরে অনেক ঘটনাবালী দ্বারা। এখানে দুটি ঘটনা উল্লেখ করা হলোঃ

ওয়াদি উল কুরা মুসলামদের মধ্যে ভাগ করে দেন। তাঁর একটি অংশ মু‘য়াজ ইবন হযরত আবু আইউব আলÑআনসারীর (রা) আযাদকৃদ দাস আফলাহ বর্ণনা করেছেন। একাবর খলঅফা উামার (রা) প্রত্যেক বদরী সাহবীকে দেওয়ার জন্য খুব সুন্দর চাদর তৈরী করালেন। তার একটি মু‘য়াজ ইবন আফারকেও পাঠালেন। তারপর মু‘য়াজ আমাকে বললেনঃ চাদরিটি বিক্রী করে দাও। আমি পনেরো শো দিরহাম খরচ করে একটি মোটা ও পুরো চাদর তৈরীঅ করে আবার পাঠান। মুয়াজ চাদরটি হাতে নিয়ে সোচা উমারের (রা) নিকট চলে যান এবং জিজ্ঞাসা করেনঃ আপনি কি এটি পাঠিয়েছেন? উমার বললেনঃ হ্যাঁ। পূর্বে যেটি পাঠিয়েছিলাম, ঠিক সেরকম চাদর আপনার অন্যসব ভাইদের নিকটও পাঠিয়েছিলাম। শুনলাম আপনি সেটি পরেননি। মু‘য়াজ বললেনঃ আমিরুল মুমিনীন! এটা আমি পরবো না।২১ দুনিয়ার প্রতি তিনি যে কতখানি নিরাসক্ত ছিলেন তা উপরোক্ত ঘটনা দ্বারা বুঝা যায়।

হযরত রাসূলে করীমকে (সা) তিনি প্রাণধিক ভালোবসতেন। তার প্রমাণ পাওয়া যায় নরাধম আবু জাহলের হত্যার ঘটনায়। এ ক্ষেত্রে জীবনের মায়া ত্যাগ করে যে অপূর্ব দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেন তা সত্যিই বিস্ময়কর।

মদীনায় মসজিদে নববী যে স্থানে প্রতিষ্টিত, সে ভূ-খন্ডটি ছিল সাহল ও সুহাইল নামক দু’জন ইয়াতীম বালকের। রাসূল (সা) কুবা থেকে যে দিন মদীনার মূল ভূÑখন্ডে প্রবেশ করেন সে দিন তাঁর বহস উটটির লাগাম ছেড়ে দেওয়া ছিল। সে আল্লাহর নির্দেশে চলছিল এবং আল্লাহরই নির্দেশে সাহল ও সুহাইলের উক্ত ভূমিতে এসে বসে পড়ে। ইবন হিশামের বর্ণনামতে উক্ত ইয়াতীমদ্বয় তখন এই মু’য়াজ ইবন আফরার  তত্ত্বাধানে লালিত পালিত হচ্ছিল।২২ এতে বুভা যায়, তিনি ইয়াতীম ও অসহায়দের প্রতি খুবই সদয় ছিলেন।

দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি খুব সচেতন ছিলেন। রাসূলুল্লাহর (সা) সাথে একবার হজ্জ করেন। এছাড়া আরো হজ্জ করেন। যার একটি বর্ণনা সুনানে নাসাঈ গ্রন্থে এসেছে।২৩ ইবন সা’দ তাঁর একাধিক স্ত্রী ও অনেকগুলো ছেলে মেয় ছিল বলে উল্লেখ করেছেন। এমন কি তাদের নামও বর্ণনা করেছেন।২৪

সানাসে নাসাঈ সহ বিভিন্ন গ্রন্থে তাঁর বর্ণিত দু একটি হাদীস পাওয়া যায়।

You may also like...

Skip to toolbar