মোনাফেকীর পরিণাম– ১ম অংশ

রাসূল(সা) এর নিকট একবার এই মর্মে খবর এল যে, রাসূল মুসতালিক গোত্রের সর্দার হারেস ইবনে যেরার মদীনা আক্রমণের প্রস্ততি নিচ্ছে। হারেস ইবনে যেবার রাসূল(সা) এর অন্যতমা স্ত্রী উম্মুল মুমিনীন হযরত হয়াইবিয়ার পিতা। তারা উভয়ে পরবর্তীকালে ইসলাম গ্রহণ করেন।

খবর পাওয়ামাত্র রাসূল(সা) একদল মুজাহিদকে সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রতিরোধের জন্য অগ্রসর হলেন। যারা এই যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য রাসূল(সা) এর সঙ্গী হলো, তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যক মুনাফিকও ছিল।

এসব মোনাফেকদের উদ্দেশ্য ছিল কাফেররা পরাজিত হলে তাদের ফেলে যাওয়া সম্পদ হস্তগত করা আর মোনাফেক হওয়া সত্ত্বেও তাদের ধারণা ছিল যে, মুসলমানেরা যেহেতু অধিকাংশ যুদ্ধে জয়লাভ করেছে, তাই এই যুদ্ধেও জয়লাভ করবে।

কার্যত হলোও তাই। মুসলমানরা জয়লাভ করলেন এবং প্রতিপক্ষ ইহুদী গোত্র পরাজিত হল। যুদ্ধ সমাপ্ত হওয়ার পর মুসলমান শিবিরে একটি দুর্ঘটনা ঘটে গেল। একজন মুহাজির এবং একজন আনসার এর মধ্যে কুপ হতে পানি তোলা নিয়ে কথা কাটাকাটি ও ঝগড়ার সূত্রপাত হলো। অতঃপর তা হাতাহাতির পর্যায়ে গেল। মুহাজির হাঁক দিলেনঃ “ওহে মুহাজিররা, কে কোথায় আছ আমাকে বাঁচাও।”

আর আনসারও অনুরূপ আনসারদের ডাক দিলেন। ফলে উভয়পক্ষে উত্তেজনা ও সাজ সাজ রব পড়ে গেল। এভাবে মুসলমানদের মধ্যে একটি মারামারি বেঁধে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিল।

এই ঝগড়ার খবর পাওয়া মাত্রই রাসূল(সা) কাল বিলম্ব না করে ঘটনাস্থলে ছুটে গেলেন। তিনি আনসার ও মুহাজির উভয়কে বুঝালেন যে, তোমরা উভয়ে এভাবে নিজ নিজ অঞ্চলের লোকদের ডাকছো কেন? এতো জাহিলিয়াতের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য।

এ এক নোংরা পন্থা। তোমরা এটা পরিত্যাগ করো। কেউ কারো ওপর জুলুম করলে সকল মুসলমানের উচিত মজলুমের সাহায্যে ছুটে যাওয়া এবং যালেমকে নিরস্ত করা-তা সে যেখানকার লোকই হোক না কেন। দেখতে হবে কে যালেম এবং কে মজলুম, কে আনসার কে মোহাজের বা কে কোথাকার বাসিন্দা ও কে কোন বর্ণ ও বংশের লোক তা নয়।

রাসূল(সা) এর ভাষণ শুনে সবাই শান্ত হয়ে যে যার কাজে চলে গেল। সাহাবী উবাদা ইবনে সাবেত ঝগড়ায় লিপ্ত দুই সাহাবীর মাঝে আপোস করিয়ে দিলেন এবং যার বাড়াবাড়ি প্রমাণিত হলো, তাকে দিয়ে মাফ চাইয়ে নিলেন। কিন্তু মুনাফিকরা এই ঝগড়ার সুযোগটাকে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য কাজে লাগাতে চাইল। তারা এই আপোস মীমাংসা মেনে নিল না। মুনাফিকদের নেতা ছিল আবদুল্লাহ ইবনে উবাই।

সে মুনাফিকদের একটা গোপন সভা ডেকে সেখানে মদীনাবাসীদেরকে মক্কাবাসী মুহাজিরদের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলার উদ্দেশ্যে বললোঃ তোমরাই তো ওদের আস্কারা দিয়ে দিয়ে মাথায় তুলেছ। তোমরাই খাল কেটে কুমীর এনেছ এবং দুধ কলা দিয়ে এই সাপদের পুষেছ। এখন ওদের এত স্পর্ধা হয়েছে যে, তোমাদেরকেই ওরা দংশন করতে চাইছে।

এখনও যদি তোমরা সাবধান না হও এবং ওদেরকে লালনপালন হতে বিরত না হও, তাহলে একদিন ওরাই তোমাদেরকে ধ্বংস করবে। তোমরা মদীনার সম্ভ্রান্ত লোক। আর ওরা হলো বহিরাগত নীচু জাত। মদীনায় গিয়ে তোমাদের উচিত হবে ঐ নীচুজাতদেরকে বিতাড়িত করা। আবদুল্লাহ ইবনে উবাই এভাবে আনসার ও মুহাজিরদের ঐক্য ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলো।

দ্বিতীয় অংশ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

You may also like...

1 Response

  1. January 3, 2016

    […] প্রথম অংশ পড়তে এখানে ক্লিক করুন […]

Skip to toolbar