যায়িদ ইবন আরকাম (রা)

ভালো নাম যায়িদ। কুনিয়াত বা ডাক নামের ব্যাপারে দারুন মতভেদ আছে। যেমনঃ আবু উমার আবু আমের আবু সা’দ আবু উনাইস ইত্যাদি।১ পিতা আরকাম ইবন যায়িদ। মদীনার খায়রাজ গোত্রের বনু হারিস শাখার সন্তান। একজন আনসারী সাহাবী খুব অল্প বয়সে পিতৃহারা হন। হযরত আবদল্লাহ। হযরত আবদুল্লাহ ইবনÍাওয়াহা (রা) ছিলেন একজন উচু মর্যাদার সাহাবী। সম্পর্কে তিনি যায়িদের চাচা। তিনি পিতৃহারা যায়িদকে তত্বাবাধানে নেন এংব লালন পালন করেন।২ আবদুল্লাহইবন রাওয়াহা (রা) আকাবরা বাইয়াতে (শপথ) শরীক ছিলেন। মূলতঃ তাঁরই প্রভাবে হযরত যায়িদ (রা) ইসলাম গ্রহণ করেন।

হযরত যায়িদ উহুদ যুদ্ধে যেতে চায়েছিলেন। কিন্তু তখন তাঁর যুদ্ধে যাওয়ার বয়স না হওয়ায় হযরত হযরত রাসূলে কারীম (সা) তাঁকে বিরত রাখেন। সর্ব প্রথম খন্দক যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। তবে একথাও বর্ণিত আছে যে, আল’মুরাইসী তাঁর জীবনের প্রথম সহীহ আল বুখারীতে এভবে তাঁর বর্ণনায় আছে রাসূল (সা) মোট ঊনিশটি যুদ্ধ  করেছেন তারমধ্যে আমি সতেরটিতে (১৭) শরীক ছিলাম।৩

মূতার যুদ্ধে চাচা আবদুল্লাহ ইবর রাওয়াহার ছিলেন বড়  মাপের কবি। তিনি পথে চলতে চলতে একটি স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন যাতে তাঁর শাহাদাতের তীব্র আকাঙ্খা প্রকাশ পায়।যায়িদ কবিতাটি শুনে কাঁদতে শুরু করেন। ইবন রাওয়াহা ছড়ি ঝাঁকিয়া বলে ওঠেন, ওরে ছোটলোক আমরা শাহাদাতের ভাগ্য হলে তোর ক্ষতি কি?৪

খুলাফায়ে রাশেদীনের মধ্যে হযরত আলীর (রা) সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। সিফফীন যুদ্ধে আলীর (রা) পক্ষে যোগদান করেন। তাঁকে আলীর ঘনিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে গণ্য করা হয়।৫

হযরত যায়িদ (রা) শেষ জীবনে কূফার বনু কিন্দা মহল্লাহয় বাড়ী করে বসতি স্থাপন করেন। এ কূফা শহরেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্য সন নিয়ে কিছু মতান্তর আছে। অনেকের মতে, আলÑমুখতার আসÑসাকাফীর বিদ্রোহের সময় হিজরী ৬৬  সনে মারা যান। তবে আলÑ হায়সামা ইবন আদী এবং আরো অনেকের মতে তাঁর মৃত্য সন হিজরী ৬৮ সন। অনেকে একথাও বলেছেন যে হযরত আল-হুসাইনের (রা) শাহাদাতের অল্প কিছু দিন পর তাঁর মৃত্যু হয়।৬

হযরত যায়িদ (রা) ছিলেন তাঁর সময়ের জ্ঞান, মর্যাদা ও সম্মানের একটি কেন্দ্রবিন্দু। জ্ঞানের সন্ধানে মানুষ দূরÑদুরান্ত থেকে তাঁর কাছে ছুটে আসতো। এক ব্যক্তিতো কিসতাস এর শেষ প্রান্ত থেকে ছুটে এসেছিল তাঁর কাছে একটি মাসায়ালা জিজ্ঞেস করতে।৭ তিনি যেখানেই যেতেন হাদীসের প্রতি আগ্রহী ব্যক্তিরা তাঁর পাশে ভীড় জমাতো। একবার বসরা মতান্তরে মক্কায় গেলে হযরত আব্বাস (রা) বলেন, অমুক হাদীসটি যা আপনি বর্ণনা করে থাকেন, আবার আপনার মুখ থেকে শুনতে চাই।৮ একবার আতিয়্যা বললেন আপনি অমুক হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আমার আসার উদ্দেশ্য হলো, আপনার মুখ থেকেই  হাদীসটি শোনা। তিনি হাদীসটি বর্ণনা করলে আতিয়্যা বললেন আপনি এ বাক্যটিও তো বলেছিলেনÑ আমি যেমন শুনেছি তেমনই তোমাকে বর্ণনা করবো।৯

হাদীস ছাড়াও যে সকল  দু’আ তিনি রাসূলুল্লাহর (সা) মুখ থেকে শুনে মুখস্ত করেছিলেন, মানুষকে শিখাতেন, তাই আমরা তোমাদে কে শিখাচ্ছি। তাঁর বর্ণিত বহু দু’আ হাদীস ও সীরাতের গ্রন্থসমূহে সংকলিত হয়েছে।১০ হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে হযরত যায়িদ (রা) দারুণ সতর্ক ছিলেন। আবদুর রহমান ইবন আবী লায়লা বলেন: আমরা তাঁর কাছে এসে আবেদন জানাতাম, আমাদের কাছে রাসূলুল্লাহর (সা) হাদীস বর্ণনা করুন। বলতেনঃ আমি এখন বুড়ো হয়েছি এবং স্মৃতিশক্তি লোপ পেয়েছে। রাসূলুল্লাহর (সা) হাদীস বর্ণনা করা বড় কঠিন কাজ।১১

একবার ইয়াযীদ ইবন হায়্যান, হুসাইন ইবন সাবরা ও আমর ইবন মুসলিম হাদীস শোনার জন্য তাঁর কাছে যান। প্রথমে তাঁর যায়িদের (রা) প্রশংসা করে বলেন, আল্লাহ আপনাকে বড় ফজীলাত দিয়েছেন। আপনি রাসূল্ল্লুাহর (সা) কামলিয়্যাত (পূর্ণতা) প্রত্যক্ষ করেছেন। হাদীস শুনেছেন,তাঁর সাথে যুদ্ধে গেছেন এবং তাঁর পিছনে নামায আদায় করেছেন। এর চেয়ে বড় মর্যাদার আর কিহতে পারে? আমাদেরকে রাসূলুল্লাহর (সা) কিছু হাদীস শোনান। জবাবে যায়িদ (রা) বললেনঃ ভতিজা আমি এখন বুড়ো হয়েছি, সেে সময়ও চলে গেছে। অনেক কথাই আজ স্মৃতি ও স্বপ্নে পরিণত হয়েছে। হাদীসের একটি বড় ভান্ডার আজ ভুলে গেছি। এখন আমি যা কিছু বর্ণনা করি তাই শোন। যা নেই তার জন্য আমাকে কষ্ট দেওয়া তোমাদের উচিত হবে না।১২  এ কারণে হযরত যায়িদের  (রা) বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা মাত্র নব্বই (৯০) টি। তিনি হযরত রাসূলে করীম (সা) আলীর (রা) মুখ থেকে হাদীস শুনেছেন এবং তাই বর্ণনা করেছেন। আর তাঁর সুত্রে যে সকল সাহাবী ও তাবেঈ হাদীস বর্ণনা করেছেন, এখানে তাঁদের বিশিষ্ট নাম উল্লেখ করা হলো।:

আনাস ইবন মালিক, আবদুল্লাহ ইবনুল আব্বাস, আবততুফাইল, আবু উসমান আনÑনাহদী, আবুদুর রহমান ইবন আবী লায়লা, আবদে খায়র আলÑহামাদানী, তঊস, নাদার ইবন আনাস, আবু উমার শায়বানী, আবুল মিসহাল,আবদুর রহমান ইবন মাতয়িম, আবু ইসহাক আসÑসাবাঈ, মহাম্মাদ ইবন কা’ব আলÑকারাজী, আবু হামযা তালহা ইবন ইয়াযীদ,আবদুল্লাহ ইবন আলÑহারিস, আলÑবসর, কাসেম ইবন আওফ, আতিয়্যা আলÑআওফ, আবু মসলিম আল বাজালী প্রমুখ।১৩ হযরত যায়িদের (রা)  মধ্যে ইসলামের রুহানী বা আধ্যাতিœক শিক্ষা মাত্রায় বিকতি হয়েছিল। তবে বাস্তব প্রমাণ পাওয়া যায় বনু মুসতালিক যুদ্ধের সময়ের একটি ঘটনায়। ঘটনাটি সংক্ষেপে এরুপঃ

বনু আলÑমুসালিক এর সংরক্ষিত জলাশয়ের নাম আলÑমুরাইসী। ইবন ইসহাকের মতে হিজরী ৬ এবং মূসা ইবন উকাবার মতে ৪ সনে এ জলাশয়ের পাশে রাসূলুল্লাহর (সা) নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনীর এক যুদ্ধ হয়। যা ইতিহাসে আলÑমুরাইসী’র য্দ্ধু নামে খ্যাত। এ যুদ্ধে বনু মুসতালিফ শোচনিয়ভাবে পরাজিত হয়।১৪

রাসূল (সা) তাঁর বাহীনিসহ এ জলশায়ের পাশে শিবির স্থাপন করেছিলেন।সৈনিকরা এখান থেকেই পশুকে পানি পান করাতো। হযরত উমার ইবনুল খাত্তাবের (রা) ছিল জাহ্জাহ্ ইবন মসউদ নামে বনু গিফর গোত্রের এক মজুর। তিনি উমারের (রা) ঘোড়াটি চরাতেন। একদিন ঘোড়াটি পানি পান করতে গিয়ে খওফ ইবন খাযরাজের হালীখা বা বন্ধু সিনান ইবন ওয়াবার আলÑজুহানী আনসারদের সাহায্য চেয়ে চিৎকার জুড়ে দেন। জাহ্জাহ্ বসে থাকলেন না।তিনিও মুহাজিরদরে সাহায্য চেয়ে আওয়াজ দেন। মুনাফিক সরদার আবদুল্লাহ ইবন উবাই ইবন সালুল এতে দারুন ক্ষুদ্র হয়। তখন তার নিকট তার গোত্রের একদল লোক উপস্থিত ছিল। তাদরে মধ্যে যায়িদ ইবন আরকামাও ছিলেন। তিনি এখন একজন তরুণ ব্যক্তি।

আবদুল্লাহ ইবন উবাই সুযোগ বুঝে তার গোত্রের লোকদের লক্ষ্য করে বললেনঃ মুসলিম মুহাজিররা আমাদের সাথে এমন আচারণ করলো? আমাদেরই ভূমিতে তারা আমাদেদেকে ঘৃনা করছে এবং আমদের চেয়ে সংখ্যায় বেড়ে গেছেভ মুহাজিরদের ব্যাপারটি যেন খাইয়ে মোটাতাজা করা সেই পালিত কুকুরের মত যে তার প্রভুকে খেয়ে ফেলে। আল্লাহর কসম মদীনায় ফিরতে পারলে আমরা তথাকার অভিজাতরা এই ইতরদেরকে বিতাড়িত করে ছাড়বে। মূলতঃ এটা তোমাদেরই কর্মফল। তোমাদের মাতৃভূমির দুয়ার তাদের জন্য খুলে দিয়েছো। তোমাদের যা আছে তা যদি তোমরা তাদেরকে ভাগ কর দিয়েছো। আল্লাহর কসম, তোমাদের মাতৃভুমি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হবে। মুনাফিক ইবন উবা এভাবে তার গোত্রীয় লোকদের সুপ্ত অনুভুতিেিত আঘঅত করে মুহাজিরদের বিরুদ্ধে ক্ষেপেয়ি তুলতে চেষ্টার ক্রটি করলো না। যায়িদ ইবন আরকাম (রা) চুপ করে তার সব কথা শুনলেন। তাঁর ঈমানী চেতনা তাঁকে এ মুনাফিকের কথাগুলি চেপে রাখতে দিলোনা। যদিও ইবন উবাই ছিল তাঁর স্বগোত্রীয় লোক। হযরত রাসূলে কারীম (সা) যুদ্ধের ব্যস্ততা শেস করে একটু বিশ্রামে আছেন। উমার ইবনুল খাত্তাব (রা) তখন তাঁর কাছে বসা। এ সময় যায়িদ (রা) উপস্থিত হলেন এবং সব কথা খুলে বললেন। উমার (রা) রাগে ফেটে  পড়লেন এবং রাসূলকে (সা) পরামর্শ দিলেনঃ আপনি ইবন উবাইকে হত্যা করার জন্য  আব্বাদ ইবন বিশরকে নির্দেশ দিন। রাসূল (সা) বললেনঃ উমার লোকে যখন বলাবলি করবে মুহাম্মাত তাঁর সঙ্গীদের হত্যা করেন। তখন কি হবে? না তা হয়না। তুমি বরং লোকদেরকে এখান থেকে চলার কথা জানিয়ে দাও। সাধারণত রসূল (সা) এমন সময় যাত্রা শুরু করতেন না ঘোষনা অনুযায়ী লোকদের যাত্রা শুরু করলো।

এ দিকে মুনাফিক আবদুল্লাহ ইবন উবাই যখন জানালো যায়িাদ ইন আরকাম তার সব কথা রাসূলুলালাহর (সা) কানে পৌঁছে দিয়েছে তখন সে রাসূূলুল্লাহ (সা) কাছে ছুটে এসে হলফ করে বললোঃ যায়িদ যা বলেছে তার কিছুই আমি বলিনি। এমন কোন কথঅি আমি উচ্চারণল করিনি। েিস ছিল তার গোত্রেরে একজন অতি সম্মানিত ব্যক্তি।  তাই যে সকল আনসার সাহাবী তখন উপস্থিত ছিলেন তাঁরা বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ সম্ভবত এ তরুণ ইন উবাইয়ের কথা বুঝতে ভুল করেছে এবং তার মূল বক্তব্য মনে রাখতে পারেনি। এভাবে তাঁরা আবদুল্লাহ ইবন উবাইয়ের কথ বিশ্বাস করে তার পক্ষে সাফাই গাইলেন। যায়িদ (রা) চাচা আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহাও (রা) তাকে তিরস্কার করলেন।

ইবন ইসহাক বলেনঃ রাসূল (সা) আলÑমুরাইসী থেকে যাত্রা করলেন। উসাইদ ইবন হুদাইর এসে বললেনঃ তোমাদের সাথী যে কথা বলেছে তা কি তোমর কানে পৌঁছেনি? উবই। সে কি বলেছে? এ প্রশ্নের উত্তরে রাসূল (সা) যা শুনেছিলেন তাই তাঁকে বললেন। উসাইদ তখন বললেনঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ! আল্লাহর কসম, আপনি তো সম্মানিত ও শক্তিশালী। এরপর তিনি আবদুলআহ ইবন উবারি প্রতি রকরুণা করার জন্য রাসূলকে (সা) আনুরোধ করেন।

এরপর রাসূল (সা) হিজাযের বাকায়া নামাক উঁচু ভূমিতে যাত্রা বিরতি করেন। আর সেখানেই সূরা আলÑমুনফিকুন নাযিল হয়। এতে আবদুল্লাহ ইবন উবাই ও তার মত আন্য মুনাফিকদের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছিল। আর সেই সাথে ঘোষিত হয়েছে হযরত যায়িদের (রা) নিষ্ঠা ও সত্যবাদিতা। সূরাটি যেভাবে শুরু হয়েছে তা বুঝার জন্য এখানে প্রথম দুটি আয়াত অনুবাদ দেওয়া হলো:

‘মুনাফিকরা তোমার কাছে  এসে বলেঃ আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি নিশ্চয় আল্লাহর রাসূল। আল্লাহ জানেন যে তুমি অবশ্যই আল্লাহর রাসূল এংব আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, মুনাফিকরা অবশ্যই মিথ্যাবাদী। তারা তাদের শপথসমূ বে ঢালরুপে ব্যবহার করে। অতঃপর তারা আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করে। তারা যা করছে তা খুবই মন্দ।” সূরা আলÑমুনাফিকুন নাযিল হওয়ার পর রাসূল (সা) হযরত যায়িদের (রা) কান ধরে বলেন, এ সইে ব্যক্তি যার কান আল্লাহর হক পূর্ণরুপে আদায় করেছে।

অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে, আল মুরইসী থেকে সফর শুরু করার র হযরত যায়িদ (রা) বারবার রাসূললুল্লাহর  (সা) কাছে  আসতেন। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে, এই মুনাফিক লোকটি আমাকে মিথ্যাবদী বলে গোটা সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে হেয় প্রতিপন্ন করেছে। অতএব আমার সত্যায়ন ও এই ব্যাক্তির মিথ্যার মুখোশ উন্মোচন সম্পর্কে অবশ্যই কুরআন নাযিল হবে। হঠৎ যায়িদ ইবন আরকাম দেখলেন যে, রাসূলুল্লাহর (সা) মধ্যে ওহী নাযিলের সময়ের লক্ষণাদি ফুটে উঠেছে। তিনি আশবাদী হলেন যে, এখন এ সম্পকের্ কোন  বোর ওজী রাযিল হবে। আবশেষে রাসূলুল্লাহ (সা) এই অবস্থা দূর হয়ে গেল। যায়িদ (রা) বলেনঃ আমার সাওয়ারী রাসূলুল্লাহ (সা) কাছ থেকে ঘোঁষে যাচ্ছিল। তিনি নিজের সাওয়ারীর ওপর থেকেই আমার কান ধরলেন এবং বললেন: হে বালক, আল্লাহ তোমার কথার সত্যায়ন করেছেন।

এ বর্ণনা দ্বারা জানা যায়, সূরা মুনাফিকুন সফরের মধ্যেই নাযিল হয়েছে। কিন্তু ইমাম বাগাভীর (রহ) বর্ণনায় এসেছে রাসূলুল্লাহ (সা) যখন মদীনায় পৌঁছে যান এবং যায়িদ ইবন আরকাম (রা) অপমানের ভয়ে ঘরে আতœগোপন করেন তখন এই সূরা নাযিল হয়।১৫

তিনি সুন্নতে নাবাবীর অনুসারণে বিন্দুমাত্র হরেফের করতেন না। জানাযার নামাযে তিনি চারতারবী বলতেন। একবার পাঁচ তাকবীর বললেন। এক ব্যক্তি হাত পেনে ধরে জিঞ্জাসা করলেন, বুল করেননি তো? বললেনঃএটাও রাসূলুল্লাহর  (সা) সুন্নাত। আমি একেবারেই ছেড়ে দিই কিভাবে?১৬

তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহর (রা) অতি ঘনিষ্ট জন। ে কান এক সময় অস্স্থু হলে রাসূল (সা) তাকে দেখতে যেতেন।১৭ একবার তিনি চোখের রোগে আক্রান্ত হলেন। রাসূল (সা) দেখতে গেলেন। সেরে ওঠার পর রাসূল  (সা) জিজ্ঞাসা করলেনঃ সবর করতাম এবং সাওয়াবের প্রত্যাশঅয় থাকতাম। রাসূল (সা) বললেনঃ এমন করল পাপমুক্ত  অবস্থায় আল্লাহর সান্নিধ্যে যেতে।১৮ অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে, রাসূল (সা) তাঁকে বললেনঃ এ রোগে তোমার কোন ক্ষতি হবেনা। কিন্তু আমার মৃত্যুর পর যদি তুমি বেচে থাক এবং অন্ধ হযে যাও তাহলে কি করবে? তিনি জবাবে দিলেনঃ আমি তখন সবর করবো এবং  সাওয়াবের প্রত্যাশায় থাকবো। রসূল (সা) বললেনঃ তাহলে তুমি বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে। রাসূললু­হর (সা) মৃত্যুর পর হযরত যায়িদ (রা) অন্ধ হয়ে যান।১৯

কারও সম্মান ও মর্যাদ ক্ষুন্ন হয় এমন আচারল ও মন্তব্য থেকে তিনি সব সময় বিরত থাকতেন। আর কারও মধ্যে এ ক্রটি দেখতে পেলে তার প্রতিবাদ করতেন। একবার হযরত আলী (রা) সম্পর্কে হযরত  মুগীর ইবন শুবা (রা) একটি আশোভন উক্তি করেন। সাথে সাথে হযরত যায়িদ (রা) বলেনঃ রসূল (সা) মৃতদেরকে খারাপ বলতে নিষেধ করেছেন। আলী (রা) মারা গেছেন। এখন তাকে খারাপ বলছেন কেন?

মানুষের বিপদ মুসীবতে খোঁজ-খবর নেওয়া এবং সমবেদনা ও সহানুভূতি প্রকা করা ছিল তাঁর স্বভাব। হাররার ঘটনায় হযরত আনাসের এক চেলৈ এবং তার কিছু আতœীয় বন্ধু মারা যান। হযরত যায়িদ (রা) সববেদনাও সহমর্মিতা প্রকাশ করে আনাসের (রা) কাছে একটি চিঠি লেখেন। তাতে তিনি বলেনঃ আমি আপনাকে আল্লাহর সুসংবাদ শুনাচ্ছি। রাসূল (সা) বলেছেঃ হে আল্লাহ আনাসার তাদর সন্তান-সন্তুতি অধঃস্তন পুরুষ, তাদের নাতী-নাতনী এবং তাদের সকল ছেলে মেয়েদেরকে আপনি ক্ষমা করে দিন।২০

তিনি তাঁর সমকালীন ব্যক্তিদের যোগ্যতা ও গুণাবালীকে অত্যন্ত উদার চিত্তে স্বীকৃতি দিতেন। একারণে কেউ কোন বিষয়ে কিছু জিজ্ঞেসা করতে এলে তাকে সেই বিষযে অভিঙ্গ ব্যক্তির কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিতেন। একবার আবুল মিনহাল আসলেন তাঁর কাছে ব্যায় সারফ সম্পর্কে জিঞ্জাসা করো। এ ব্যাপারে তিনি আমার চেয়ে ভলো এবড় বড় আলিমঃ আবুল মিনহাল বারা এর কাছে গেলেন। তিনি মাসায়ালার জবাব দিয়ে বললেনঃ আামি যা বলেছি এর সত্যতা যাচাই করে নিবে। যায়িদ ইবন আরকামের  নিকট থেকে। তিনি আমার চেয়ে বেশি এবং ভালো জানেন।

আমীর- উমারদের সাথে তাঁর উঠা বসা ছিল। রাসূলুল্লাহর (সা) জীবনকালে ব্যবাসেয়র দ্বারা জীবিবা নির্বাহ করতেন।

হযরত যায়িদ ইবন আরাকাম ইসলামের বিভিন্ন মৌলিক বিশ্বাস এবং ইবাদাত সম্পর্কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। হাদীস ও সীরাতের গ্রন্থাবলীতে তা ছাড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। যেমন তিনি বলেছেনঃ য়ে ব্যক্তি  নিষ্টার সাথে লা ইলাহা ইল্লাহল্লাহ পাঠ করবে, সে জান্নাতে যাবে। জিঞ্জাসা করা হলোঃ নিষ্ঠার সাথে পাঠ করার অর্থ কি? বললেনঃ আল্লাহর নিষেধ থেকে বিরত থাকা।২১

একাবর কিছু লোক কুবার মসজিদে চাশতের নামায পড়ছিলো। ঐ পথে কোথাও যাচ্ছিলেন। লোকদের নামায পড়তে দেখে বললেন, সম্ববত তাদের জানা নেই যে এ নামাযের জন্য এর চেয়ে ভালো সময় আছে।

You may also like...

Skip to toolbar