যায়িদ ইবন সাবিত (রা)।। ৩য় অংশ

চতুর্থ অংশ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

ইসলাম যে সকল জ্ঞানÑবিজ্ঞানের ভিত্তিস্থাপন করেছে ইলমে কিরাআত তার মেধ্য বিশেষ উল্লেখ যোগ্য। এ শাস্ত্রে হযরত যায়িদের পন্ডিত্য সাহাবায়ে কিরম ও তাবেঈনের প্রতিটি ব্যক্তি স্বীকার করতেন।

ইমাম শী’বীর মত শেষ্ট বিদ্বান তাবেঈ বলেনঃ যায়িদ ইলমে ফারায়েজের মত ইলমে কুরআতে ও সকল সাহাবীর ওপর শ্রেষ্টত্ব অর্জন করেছিলেন।৫৭

পবিত্র কুরআনের সাথে হযরত যায়িদের (রা) যে গভীর সম্পর্ক ছিল তার প্রমাণ  পাওয়া যায় তাঁর ইসলাম গ্রহণের সময়ের ঘটনা দ্বারা। মাত্র এগারো বছর বয়সে ১৭টি সূরা হিফজ করেন। অবশিষ্ট সূরা হিফজ করেন। জীবনে কুরআরন লেখালেখির মধ্যেই অতিবাহিত হয়। রাসূলুল্লাহর (সা) নিকট যখন যতটুকু ওহী নাযিল হতো তিনি জেনে লিখে নিতেন ও মুখস্থ করে ফেলতেন। এভাবে রাসূলুল্লাহর (সা) জীবদ্দশায় গোটা কুরআন তাঁর মুখস্থ হয়ে যায়।৫৮ কাতাদাহ্ বলেনঃ চারজন তাঁদের সবাই আনাসার উবাই ইবন কা’ব মুয়াজ ইবন জাবাল, যায়িদ ইবন সাবিত ও আবু যায়িদ।৫৯ এ কারণে খলীফা আবু বকর (রা) যখন কুরআন সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত নেনতখন এ দাযিত্ব পালনের জন্য যায়িদকে নির্বাচিত করেন। আর খলীফা উসমান যখন কুরআনের কপি তৈরী করান তখনও এ কাজে যায়িদের (রা) সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য মনে করেন।

হযরত উবাই ইবন কা’ব (রা) ছিলেন কুরার বা কুরআন পঠকদের নেতা। হযরত উমার (র) যায়িদকে তাঁরও ওপর প্রাধান্য দিতেন। আবদুর রহমান আসসুলামী একবার খলীফা উসমানকে কুরআন পাঠ করে শুনাতে চাইলে তিনি বললেন তাহলে তো তুমি আমাকে মানুষের কাজ থেকে বিরত রাখবে। তুমি বরং যায়িদ ইবন সাবিতের কাছে যাও। এ কাজের জন্য তাঁর হাতে বেশী সময় আছে। তাঁকে  শুনাও তাঁর ও আমার পাঠ একই। দু জনের পাঠে কোন ভিন্নতা নেই।৬০

হযরত যায়িদের কিরাআতের সিলসিলা বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত চিল। সেহেতু তিনি কুরাইশদের মত পাঠ করতেন এ কারণে মানুষের ঝোঁক ছিল তাঁরই দিকে। হযরত উবাই ইবন কাবের জীবদ্দশায় যদিও তিনি এক্ষেত্রে সকলের কেন্দ্রবিন্দু হতে পারেননি,  তবে তাঁর মৃত্যুর পর গোটা মুসলিম বিশ্বের একক কেন্দ্রে পরিণত হন। বিভিন্ন অঞ্চলের মাসুষ মদীনায় তাঁর নিকট ছুটে আসতো।

গযরদ যায়িদ (রা) কুরআন মাজীদের যে কিরআত বা পাঠ প্রতিষ্টা করেন তা আজও বেঁচে আছে। ইবন আব্বাস, আবু আবদির রহমান, আসÑসুলামী, আবুল আলিয়া রাইয়্যাহী, আবু জাফর প্রমুখ ছিলেন কিরআত শাস্ত্রে তাঁর ছাত্র।৬১

পবিত্র কুরআনের পরেই মাহানবীর স্থান। তিনি অন্যদের মত বেশী হাদীস বর্ণনা করেননি। তবে তাঁর বৈশিষ্ট এই ছিল যে তিনি দিরায়াত বা যুক্তিকে কাজে লাগাতেন।  হযরত রাফে  ইবন খাদীজা (রা) বর্ণনা করলেন, রাসূল (সা) ভূমি ইজারা দিতে নিষেধ করেছেন। এ কথা যায়িদের (রা) কানে গেলে বললেনঃ  আল্লাহ রাফেকে ক্ষা করুন! তাঁর এত বেশি হাদীস বর্ণনার রহস্য আমর জানা আছে। আসল ঘটনা হলো। দু ব্যক্তি ঝগড়া করছিল। রাসূল (সা) তা দেখে বলেন এই যে যদি অবস্থা হয় তাহলে ইজারার ভিত্তিতে ভূমি চাষ করা উচিত নয়। রাফে শুধু শেষের অংশটুকু শুনেছেন।৬২

হযরত আয়িশা (রা) যুবইরের (রা) সন্তনাদের নিকট বর্ণনা করেন, যে রাসূল (সা) আসরের পরে তাঁর ঘরে দু রাকাত নামায আদায় করেছিলেন। তাঁরা এ দু’ রাকায়াতকে সুন্নাত মনে করে আদায় করা শুরু করেন। এ কথা যায়িদ (রা) জানতে পেরে বললেনঃ আল্লাহ আয়িশাকে ক্ষমা করুন! হাদীসের জ্ঞান তাঁর চেয়ে আমরা বেশী আছে। আসরের পরে নামায আদায়ের কারণ হলো, দুপুরে কয়েকজন বেদুঈন রাসূলুল্লাহর (সা) সাথেঞ সাক্ষাৎ করতে আসে। তারা প্রশ্ন করছিল, আর রাসূল (সা) উত্তর দিচ্ছিলেন। এভাবে জুহরের নামাজের সময হলে তা আদায় করেন। ঘরে ফেরার পর স্মরণ হয় যে, জুহরের ফরজের পরের দু’রাকা’য়াত সুন্নাত আদায় করেননি।তখন সেখানেই দু’রাকা’ য়েত নামায আদায় করেন। আল্লাহ আয়িশাকে ক্ষমা করুন। তাঁর চেয়ে আমর বেশী জানা আছে যে, রাসূল (সা) আসরে পরে নামায পড়তে নিষেধ করেছেন।৬৩

কোন হাদীস সহীহ হলে এবং সে সম্পর্কে তাঁর নিকট কেউ জিজ্ঞেসা করলে তিনি সমর্থন জানাতেন। একবার হযরত আবু সা’ঈদ খুদরী (রা) স্বৈরাচারী উমাইয়্যা শাসক মারওয়ানের সামনে সাহাবীদের মর্যদাবিষয়ক একটি হাদীস বর্ণনা করেন। মারওয়ানত বললেনঃ আপনি অসত্য বলছেন। যায়িদ ইবন সাবিত ও রাফে ইবন খাদীজা (রা) মারওয়ানের পাশে মঞ্চে বসে ছিলেন। আবু সা’ঈদ মারওয়ানকে বললেন, আপনি তাঁদের কাছে জিজ্ঞেসা করতে পারেন। মারওয়ান তা না করে আবু সা’ঈদকে মারার জন্য ছুড়ি তুলে ধরেন। তখন এ দুই মাহান সাহাবী আবু সা’ঈদের কথা সত্য বরে সামর্থন করেন।৬৪

হযরত যায়িদের (রা) অধিকাংশ হাদীস সরাসরি রাসূলুল্লাহ (সা) থেকে বর্ণিত। তাছাড়া আবু বকর উমার ও উসমান (রা) থেকে বর্ণিত হাদীস বর্ণনা করেছেন।৬৫

হাদীস শাস্ত্রে তাঁর ছাত্রদের তালিকা অনেক দীঘ। তাঁর কাছে যাঁরা হাদীস শুনেছেরন এবং তাঁঁর সুত্রে বর্ণনা করেছেন, এমন কয়েকজন বিখ্যাত সাহাবী ও তাবেঈর নাম এখানে উল্লেখ করা হলো।৬৬

ইবন আব্বাস, ইবন উমার, আনাস ইবন মালিক, আবু হুরাইরা, আবু সা’ঈদ খুদরী, সাহ্ল ইবন হুনাইফ, সাহ্ল ইবন সা’দ, আবদুল্লাহ ইবন ইয়াযীদ আলÑখুতামী। এরা সকলে সাহাবী। সা’ঈদ ইবন মুসাইয়্যাব, কাসেম ইবন মুহাম্মদ, আবান ইবন উসমান, খারেজা ইবন যায়িদ (যায়িদের ছেলে এবং মীনার সপ্ত ফুকাহার এরকজন), সাহ্ল ইবন আবী হাসামা আবু আমার, মারওয়ান ইবন হাজম, ইবাইদ ইবন সাব্বাক, আতা ইবন ইয়াসার বুসর ইবন সা’ঈদ, হাজার আলÑমুদরী, তাউস, উরওয়া ইবন যুবাইর, সালমান ইবন যায়িদ, সাবিত ইবন উবাইদ, উম্মু সা’দ (যায়িদের স্ত্রী)। এছাড়া আরো আনেক। হযরত যায়িদের (রা) থেকে বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা তুলনামূলকভবে অনেক কম। মাত্র ৯২ (বিরানব্বই) টি। তারমধ্যে পাঁচটি মুত্তফাক আলাইহি হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে অতিমাত্রায় সতর্কতা অবলম্বনের কারণে তাঁর হাদীসের সংখ্যা এত কম হয়েছে। অন্যথায় তাঁর অধিকাংশ সময় রাসূলুল্লাহর (সা) দরবারে থাকা পড়েছে, বহু হাদীস শোনা এবং বহু ঘটনা প্রত্যক্ষ করার সৌভাগ্যও হয়েছে। এত কম হাদীস বর্ণনার কারণ হলো, রাসূলুল্লাহর (সা) একটি সতর্কবাণী। আর সে বানীই তাঁর মত আরও অনেককে বেশী হাদীস বর্ণনার ব্যাপারে সংযমী করে তুলেছে। মুহাম্মদ ইবন সা’দ তাঁর তাবাকাতে আনসারদের তৃতীয় তাবকায় তাঁকে উল্লেখ করেছেন। আল্লামা জাহাবী তাজকিরাতুর হাফ্ফজ গ্রন্থে প্রথম তাবারয় তাঁর আলোচনা এনেছেন।

ফিকাহ্ শাস্ত্রে হযরত যায়িদ (রা) দারুণ পারদর্শী ছিলেন। রাসূলুল্লাহর (সা) জীবদ্দশায় ইফতার আসনে অধিষ্টিত হন। সাহ্ল ইবন আবী খায়সামা বলেনঃ রাসূলুল্লাহর (সা) জীবদ্দশায় মুহাজীরদের তিন ব্যক্তি ও আনসারদের তিন ব্যক্তি ফাতওয়া দিতেন। আনসারদের সেই তিন জনের একজন হলেন যায়িদ ইবন সাবিত (রা)।৬৭ ইমাম শা’বী ও প্রখ্যাত তাবে’ঈ মাসরুক একই ধরনের কথা বর্ণনা করেছেন।৬৮ হযরত আবু বকর (রা) ও উমারের (রা) খিলাফতকালেও তিনি মদীনায় ইফতার মসনতেদ আসীন ছিলেন। শুধু তাই নয় হিজরী ৪৫ সন পর্যন্ত আমারণ এ পদে অধিষ্টিত থাকেন। ইবন সা’দ বর্ণণা করেছেন। খলীফা আবু বকর (রা) কোন জটিল সমস্যার সম্মুখীন হলে কতিপয়  চিন্তাশীল ও ফিকাহবিদ আনাসার ও মুহজির সাহাবীর সাথে পরামর্শ করতেন। তাঁদের  মধ্যে যায়িদ ইবন সাবিতও একজন। আর তাঁরই আবু বকর, উমার ও উসমানের (রা) যুদে ফাতওয়া দিতেন।৬৯

কাবীস ইবন জুওয়াইব বর্ণনা করেছেন যে উমার, উসমান,আলীর (রা) আমলে এমনকি হিজরী ৪০ সনে মু’য়াবিয়ার (রা) খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণের পর হিজরী ৪৫ সনে মৃত্যু পর্যন্ত যায়িদ (রা) মদীনার বিচার ও ফাতওয়া, কিরাআত ও ফারায়েজ শাস্ত্রের প্রধান ছিলেন।৭০ তাঁর যোগ্যতার পূর্ণ স্বীকৃতি খলীফা উমার (রা) দিয়েছেনভ তিনি যায়িদকে (রা) এত গুরুত্ব দিতেন যে তাঁকে মদীনার বাইরে কোথাও যাওয়ার অনুমতি দিতেন না। মদীনার বইরে বিভিন্ন স্থানে অতি গরুত্বপূর্ণ পদ শূণ্য হতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলী সম্পদনের জন্য উপযুক্ত লোকের প্রয়োজন দেখা দিত, আর সেজন্য খলীফার নিকট বিভিন্ন ব্যক্তির নাম প্রস্তাব করা হতো। তিনি তাঁদের কাউকে মনোনীত করতেন। কিন্তু যায়িদের নামাটি প্রস্তাব করা হেলই তিনি বলতেন, যায়িদ আমার হিসাবের বাইরে নেই। কিন্তু আমি কি করবো? মদীনাবাসী তাঁর মুখাপেক্ষী বেশী। কারণ তাঁর কাছে যা পারে অন্যার কাছে তা তারা পারে না।৭১

হযরত আবদুল্লাহ ইবন উমার বলতেন, যায়িদ ছিলেন ফারুকী খিলাফতের একজন বড় আলীম। উমার (রা) সকল মানুষকে নানা দেশে ও শহরে ছড়িযে দিয়েছিলেন। ফাতওয়া ও সিন্ধন্ত দানের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। কিন্তু যায়িদ মদীনায় বসে বসে মদীনাবাসী এবং সেখানে আগত লোকদের নিকট ফাতওয়া দিতেন।৭২

সুলায়মান ইবন ইয়াসার বলেনঃ ফাতওয়া, ফারায়েজ ও কিরাআতে উমার ও উসমান (রা) যায়িদের (রা) ওপর কাউকে প্রাধান্য দিতেন না।৭৩ প্রখ্যাত তাবেঈ হযরত সা’ঈদ ইবন মুসায়্যাব একজন মস্তবড় মুজতাহিদ হওয়া সত্বেও ফাতওয়া বিচারে হযরত যায়িদের (রা) অনুসারী ছিলেন। তাঁর সামনে যখন কোন মাসয়ালা বা প্রশ্ন আসতো এবং মানুষ অন্যান্য সাহাবীর ইজতিহাদসমূহ বর্ণনা করতো তখন তিনি তাদেরকে প্রশ্ন করতেন, এ ব্যাপারে যায়িদ কি বলেছেন? বিচার ফায়সালায় যায়িদ ছিলেন সবচেয় বেশী জ্ঞানী। আর যে সকল বিষয়ে কোন হাদীস পাওয়া যায় না সে সম্পর্কে মাতাত দানের ব্যাপারে তিনি ছিলেন বেশী অন্তদৃষ্টির অধিকারী। তাঁর কোন কথা থাকলে তাই বল।৭৪

ইমাম মালিক (রহ) ছিলেন মদীনার ইমাম। আজও তিনি ফিকাহ ও হাদীস শাস্ত্রে অগাণিত মানুষের ইমাম। তিনি বলতেন, উমারে (রা) পরে যায়িদ ইবন সাবিত ছিলেন মদীনার ইমাম। ইমাম শাফেঈও (রহ) ফারায়েজ শাস্ত্রের সকল মাসয়ালা হযরত যায়িদের তাকলীদ করেছেন।৭৫

ফকীহ সাহাবীদের তিনিটি তাবকা বা স্তর ছিল। এর প্রথম তাবকায় ছিল হযরত যায়িদের (রা) স্থান। তিনি জীবনে বিপুল পমিাণ ফতওয়া দিয়েছেন। সবগুলি একত্রে সংগ্রহ করা হলে বিরট আকারে একটি  বই হবে।৭৬

হযরত যায়িদের (রা) ফিকাহ্ তাঁর জীবনকালে জনগণের নিকট ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়। হযরত সা’ঈদ ইবন মুসায়্যাব বলতেন, যায়িদ ইবন সাবিতের এমনস কোন কথা নেই যার ওপর মানুষ সর্বসম্মতভাবেব  আমল করেনি। সাহাবাদের মধ্যে বহু ব্যক্তি এমন ছিলেন  যাঁদের কথার ওপর কেউই আমল করেননি। কিন্তু হযরত যায়িদের (রা) ফাতওয়ার ওপর তাঁর জীবনকালেই পূর্ব Ñপশ্চিমে সকল মানুষ আমল করেছে।

মানুষের ধারণা  ফিক্হা শাস্ত্রের প্রসিদ্ধ ও প্রসারের নিমিত্ত হচ্ছেন চারজন সাহবী ব্যক্তিত্ব। যায়িদ ইবন সাবিত, আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ আবদুল্লাহ ইবন উমার ও আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা)। তাঁদের শিষ্য শ্গারিদদের মাধ্যমে গোটা মুসলিম জাহনে ইলমে দীনের ্রসার ঘওর। কিন্তু মদীনা ছিল ইসলামের উৎস ও নবীর (সা) আবাস স্থল। এ ঘটনা যায়িদ ও তাঁর ছাত্রদের বদৌলতে জ্ঞান চর্চার কেন্দ্র পরিণত হয়।

ফকীহ সাহাবীদের দুটি মজলিস ছিল। একটির সভাপতি ছিলেন হযরত উমার (রা) আর অন্যটির হযরত আলী (রা)। হযরত যায়িদ (রা) ছিলেন উমারের (রা) মজলিসের সদস্য। এখানে জ্ঞানগর্ভ আলোচনা হতো এবং জটিল ও গুরুত্বপূর্ন মাসয়ালা সম্পর্কে সিন্ধান্ত গৃৃহীত হতো।

যে সকল বিষয় এখনো বাস্তবে ঘটেনি সে সম্পর্কে কোন প্রশ্নের জবাব তিনি দিতেন না খারেজা ইবন যায়িদ বর্ণনা করেন, কোন বিষয়ে প্রশ্ন করা হলেÑ এটা কি ঘটেছে, না ঘটেনি?  এ রকম প্রশ্ন না কে র তিনি কোন মতামত দিতেন না। বিষয়টি যদি বাস্তবে না ঘটতো তাহলে সে সম্পর্কে কিছুই বলতেন না।আর ঘটলে বলতেন।৭৭

হযরত যায়িদ (রা) সাধারণতঃ সব সময়ে জ্ঞান বিতরণে নিয়োজিত থাকতেন। তা সত্বেও সর্ব সাধারণের সুবিধার্যে মসজিদে নববীতে একটি নিদিষ্ট সময়ে ফাতওয়া ও মাসায়ালার জবাব দিতে বসতেন।

হযরত যায়িদের (রা) মাসায়ালাসমূহ ফিকাহর সকলের অধ্যায়ে পরিব্যাপ্ত।তার বিস্তারিত আলোচনা সংক্ষিপ্ত পরিসরে সম্ভব নয়। এখানে সংক্ষেপে কয়েকটি মাসায়ালা তুলে ধরছি।

১. তিনি বলেছেন, ফরজ নামায ছাড়া অন্য নামায ঘর আদায় করা উত্তম।৭৮ তিনি বলেছেন, কাড়ীদে পরুশের সামায আদায় একটি নূর বা জ্যোতি বিশেষ। পুরুষ যখন ঘরে নামায়ে দাঁড়ায় তখন তার পাপসমূহ মাথার ওপর ঝুরন্ত অবস্থায় থাকে। একটি সিজদা দেওয়ার সাথে সাথে আল্লাহ তার পাপ মুছে দেন।৭৯

২. এক ব্যক্তি প্রশ্ন করলো জুহর ও আসরে কি কিরআত আছে? বললেনঃ হ্যাঁ। রাসূল (সা) দীর্ঘ সময় ধরে এ দুটি নামায কিয়াম (দাড়িয়ে থাকা) করতেন এবং এ সমং তার ঠোঁট ও নাড়াচাড়া করতো।৮০ এর অর্থ এ নয় যে ইমামের পিছনে মুকতাদিরও কিরাআত করা উচিত। মূলতঃ প্রশ্নটি  ছিল ইমাম সম্পর্কে, মুকতাদি সম্পর্কে নয়। প্রশ্নের উদ্দেশ্যে হলো জুহর ও আসর নামাযে কি কিছু পড়া  হয়? যায়িদ ইবন সাবিত, আবু কাতাদাহ ও সা’দ ইবন আবী ওয়াক্কাস (রা) থেকে যে সব বর্ণনা এসেছে তার কোনটি দ্বারা প্রমাণিত হয় না যে. সাহাবায়ে কিরাম (রা) রাসূলুল্লাহর (সা) পিছনে কিরআত করেছেন।

৩. কোন ব্যক্তি যদি নিজের বাসগৃহে নজের জীবদ্দশা পর্যন্ত কাউকে থাকার জন্য দান করে তাহলে তার মৃত্যুর পর তার ছেলেরা তার ওয়ারিস হবে। হযরত যায়িদের বর্ণনায় এর বিবরণ এসেছে। তিনি বলেছেনঃ

৪. হযরত যায়িদের মতে, যতদিন পর্যন্ত বাগানে ফল ভালো মত না আসে অথবা গাছে খেচুর  পরিপক্ক না হয় ততদিন তা আন্দাজে বেচাকেনা নাজায়েজ।৮১

ইসলাম পূর্ব আমলে মদীনায় গাছে  ফল পরিপক্ক হওয়ার আগেই বিক্রির প্রথা ছিল। এরত যকন ক্রেতার  লোকসান হতো তখন দু পক্ষের মধ্যে বিবাদ শুরু হতো। রাসূল (সা) মদীনায় এসে এর অবস্থা দেখে এ ধরনের কেনাবেচা করতে নিষেধ করেন।

চতুর্থ অংশ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

You may also like...

Skip to toolbar