যায়িদ ইবন সাবিত (রা)।। ২য় অংশ

তৃতীয় অংশ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে। রাসূল (সা) আমাকে বললেনঃ যায়িদ তুমি কি সুরইয়ানী ভাষা ভালো জান? এ ভাষায় আমার কাছে টিঠি পত্র আসে। বললামঃ না। তিনি বললেনঃ তাহলে এ ভাষাটি লিখে ফেল। এরপর আমি মাত্র সতের দিনে ভাষাটি শিখে ফেললাম।৩৪

যায়িদের (রা) এই সীমাহীন মেধা ও জ্ঞানের কারণে হযরত রসূলে কারীম (সা) যাবতীয় লেখালেখির দায়িত্ব তাঁর ওপর অর্পণ করেন। মুহাম্মদ ইব উমার বলেনঃ যায়িদ আরবী ও ইবরানীÑদু ভাষাতেই লিখতেন।৩৫ বালাজুরী বলেনঃ সর্ব প্রথম রাসূলুল্লাহর (সা) সেক্রেটারীর দায়িত্ব পালন করেন উবাই ইবন কা’ব আলÑআনসারী। উবাই এর অনুপস্থিতিতে যায়িদ এ দায়িত্ব পালন করের। তাঁরা ওহী ছাড়াও রাসূলুল্লাহর (সা) চিঠি পত্র ও লিখতেন।৩৬  রাসূলুল্লাহর (সা) ইনতিকাল পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। হযরত আবু বকর (রা) ও উমারের (রা) খিলাফত কালেও এ দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন। তাবে তখন কাজের চাপ অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় মুয়াইকিব আদÑদাওসীকে তাঁর  সহকারী নিয়োগ করা হয়।৩৭

ইসলামী হুকুমাতের একটি অতি মর্যাদাপূর্ন দফতর হলো বিচার বা কাজা। প্রসিদ্ধ মতে এ দফতারটি সৃষ্টি হয় হযরত ফারুকে আজমের খিলাফতকালে। রাষূল (সা) ও আবু বকরের (রা) আমলে পৃথকভাবে এ দফতরটি ছিল না। খলীফা হযরত উমার (রা) এর সূচনা করেন এবং হযরত যায়িদ ইবন সাবিতকে (রা) মদীনায় কাজী নিয়োগ করেন। তাবাকাত ইবন সা’দ ও আথবারুল কুজাত গ্রন্থে এসেছেঃ উমার (রা) যায়িদকে কাজী নিয়োগ কেরন এবং তাঁর ভাতাও বির্ধারণ করেন।৩৮

তখনও বিচারকের জন্য পৃথক আদালত ভবন বাড়ি নির্মাণ হয়নি। হযরত যায়িদের (রা) বড়িই ছিল দারুল কাজা বা বিচারলয়। ঘরের মেঝেতে ফরাশ বিছানো থাকতো। তিনি তার ওপর মাঝখানে বসতেন। রাজধানী মদীনা ও তার আশে পামের যাবতীয় মামলা মোকদ্দামা হযরত যায়িদের (রা) এজলাসে উপস্থিত হতো। এমন কি তৎকালীন খলীফা খোদ উমারের (রা) বিরুদ্ধেও এখানে মামলা দায়ের হয়েছে এবং তার বিচারও চলেছে।

ইমাম শা’বী বর্ণনা করেছেন। একবার খলীফা হযরত উমার (রা) ও হযরত উবাই ইবর কাবের (রা) মধ্যে একটি বিবাদ দেখা দিল। হযরত যায়িদের (রা) এজলাশে মুকাদ্দামা পেশ হলে। বিবাদী হিসাবে খলীফা উমার (রা) আদালতে হাজির হরেন। আধুনিক যুগে যেমন আাদালতে প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপ্রধানে বসার জন্য চেয়ার দানের নিয়ম হয়েছে, হযরত যায়িদ ও তমেনী খলীফাকে নিচের আসনের পাশে বসার স্তানে করে দেন। কিন্তু ইসলাম যে সাম্য ও মসাতার বিধান কায়েম করেছিল, সাহাবায়ে কিরাম (রা) তা অত্যন্ত কঠোরভাবে মেনে চলতেন। বিশেষত হযরত উমার(রা) তো এ ব্যাপারে ছিরেন আপোষহীন। তিনি বিচারক হযরত যায়িদের (রা) এ আচরণে ক্ষুদ্ধ হয়ে বলেন, এ হলো আপনার প্রথম অবিচার। আমাকে আমার প্রতিপক্ষের সাথে বসা উচিত। অতঃপর বাদী বিবাদী উভয়ে আদালতের সাম্েন এক সাথে বসেন।

মামলার শুনানী শুরু হলো। হযরত উবাই (রা) ছিলেন বাদী। তিনি ছিলেন একটি বিষয়ের দাবীদার; পক্ষান্তরে উমার (রা) চিলৈলন অস্বীকারী। ইসলামী বিচার বিধি অনুাযায়ি অস্বীকারকরীর ওপর বসম বাশপথ দেওয়া ওয়াজিব। কিন্তু হযরত যায়িদ (রা)খিলাফতের সম্মান ও মর্যাদার প্রতিলক্ষরেখে বাদীকে বলেন, যদিও নিয়ম নয় তবুও আমি বলছি আপনি আমীরুল মুমিনীনকে কসম দানের বিষয়টি মাফ করেদিন। একথা শুনে আমীরুল মুমিনীন ক্ষোভের সাথে বললেনঃ যায়িদ ন্যায় বিচারক হতে পারবেন, যতক্ষন না উমাও সাধারন একজন মুসলমান তাঁর নিকট সমান হয়।৩৯

তৎকালীন খিলাফতের বিভিন্ন স্থানে যদিও একাধিক স্থানীয় বাইতুল মাল ছিল, তবুও দারুল খিলাফা মদীনায় ছিল কেন্দ্রীয় বাইতুলমাল। হযরত যায়িদ (রা) ছিরেন এই কেন্দ্রীয় বাইতুলামলের দায়িত্বশীল। হিজরী ৩১ সনে খলীফা উসমান (রা) তাঁকে এ দায়িত্বে নিয়োগ কেরন। এই বাইতুলামলের কর্মচারীদের মধ্যে ওহাইব নামে যায়িদের (রা) একজন দাসও ছিলেন। তিনি চিরৈন খুবই বুদ্ধিমান। নানা কাজে যায়িদকে (রা) সাহায্য করতেন।

একদিন তিনি বাইতুল মালে কাজ করছেন। এমন সময় খলীফা উসমান (রা) সেখানে উপস্থিত হন। তিনি জিজ্ঞেসা করেনঃ এ কে? যায়েদ বলেনঃ আমার দাস। উসমান (রা) বলেনঃ আমাদের নিকট তার অধিকার আছে। কারণ সে মুসলমানদের সাহয্য করছে। মূলত তিনি বাইতুলমালের কাজের  প্রতি ইঙ্গিত  কারেন। তারপর তিনি দু হাজার দিরহাম তাঁর বেতন নির্ধারনের ইচ্ছা করেন। কিন্তু হযরত যায়িদ এক হাজার করার প্রস্তাব রাখেন। খলীফা তাতে রাজী হন। এভাবে তাঁর বেতন এক হাজার নির্ধারিত হয়।৪০ খলীফা হযরত আবু বকরের (রা) আমালে মুহাজির ও আনসারদের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সমন্বেয়ে গঠিত মজলিসে শূরার একজন সম্মনিত সদস্য ছিলেন যায়িদ (রা)। খলীফা উমার (রা) উক্ত শূলাকে একটি উপদেষ্ট কাউন্সিলের রুপ দান করেন। যায়িদ (রা) তারও সদস্য ছিলেন।

হযরত যায়িদেরও (রা) মধ্যে ইল্ম ও দ্বীনের পূর্র্ণতার সাথে প্রশাসনিক যোগ্যতাও ছিল। তাঁর ওপর খলীফা উমারের (রা) এতখানি আস্তা ছিল যে, যখনি তিনি মদীনার বাইরে সফরে যেতেন, তাঁকেই স্থালাভিষিক্ত করে যেতেন। খলীফা উসমানও (রা) একই পন্থা অনুসারণ করেন। ইবন উমারের থেকে নাফে বর্ণনা করেছেন। উমার (রা) যখন হজ্জে যেতেন, যায়িদকে স্থলাভিষিক্ত করে যেতেন। উসমানও তাই করতেন।৪১

হযরত উমারের (রা) খিলাফতকালে মোট তিনবার খলীফার স্থলভিষিক্ত হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।  হিজরী ১৬ ও ১৭ সনে দু’বার। বালাজুরী বলেনঃ হিজরী ২৩ সনে রাসূলুল্লাহর (সা) সহধমির্নীদের সাথে নিয়ে উমার হজ্জ করেন। তখনও যায়িদ ইবন সাবিতকে মদীনায় স্থলাভিষিক্ত করে যান।৪২ খলীফা উমার (রা) যখন শাম সফর করেন তখনও যায়িদকে (রা) দায়িত্ব দিয়ে যান। শামে পৌঁছে তিনি যায়িদের নিকট ওয পত্র লেখেন তাতে যায়িদরে সামটি খলীফার নিজের নামের আগেই উল্লেখ করেন। তিনি লেখেনঃ

-যায়িদ ইবন সাবিতের প্রতি উমার ইবনুল খাত্তাবের নিকট থেকে।৪৩

হযরত যায়িদ (র) অত্যন্ত সসতর্কতা ও যোগ্যতার সাথে তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেন। হযরত উমার (রা) তাঁর দায়িত্ব পালনে খুশী হতেন এবং ফিরে এসে তাঁকে রাষ্টের পক্ষ থেকে কিছু না কিছু দান করতেন।

হাদীসে এসেছে, ঈমানের সত্তরটিও বেশী শাখা আছে। তার মধ্যে আমানদারী বা বিশ্বস্তাতা একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ শাখা। এমন কি রাসূলে (সা) বলেছেনঃ যার আমানতদারী নেই তার ঈমানও নেই। হযরত যায়িদ (রা) মধ্যে এ আমানাদতদারীর পূর্ণ বিকাশ ঘটেছিল। তাই রাষ্ট্রের অর্থ বিষয়ক অনেক  গুরুত্বপূর্ন দায়িত্ব বিভিন্ন সময় তাঁর ওপর অর্পিত হয়েছে।

হযরত রাসূলে করীমের (সা) সময়কালে যে গনীমাতের মাল আসতো তার বেশীর ভাগ তিনি নিজ হাতে বন্টন করতেন। এতে একাজটি গুরুত্ব কত খানি তা বুঝা যায়। হযরত উমারের (রা) খিলাফতকালে ইযারমুকের যুদ্ধটি অতি প্রসিদ্ধ ও গুরুত্বপূর্ণ। এ যুদ্ধে প্রাপ্ত গনীামতের বিপুল পরিমান সম্পদ বন্টনের ভার খলঅফা অর্পন করেছিলেন যায়িদের  ওপর। তাছাড়া খলীফা উমার (রা) যখন সাহাবাদের ভাতা নির্ধারণ করেন তখন আনাসাদের ভাতা বন্টনের দায়িত্ব তাঁকেই দেন। তিনি আয়ালী থেকে শুরু করেন। তারপর যাথাক্রমে আবদুল আশহাল, আউস, খাযরাজ প্রভৃতি গোত্রে বন্টন করে সব শেষে নিজের ভাতা গ্রহণ করেন।৪৪

হযরত যায়িদ (রা) ছিলেন খলীফার দরবারের অতি ঘনিষ্টজন। হযরত উমারের (রা) নিকটতম ব্যক্তিগেদর মধ্যে তাঁর স্থান ছিল শীর্ষে। খলীফা উসমানেরও (রা) তিনি বিশ্বাসভাজন ছিলেন। তাঁর খিলাফতের শেষ দিকে যখন চতুর্র্দিকে বিদ্রোহ ও অশান্তি ধূমায়িত হয়ে ওঠে তখনও যায়িদ (রা) ছিলেন খলীফার পক্ষে। সেই হাঙ্গামা ও বিশৃংখলার মধ্যে তিনি একদিন আনসারদের সম্বোধনরা করে বলেনঃ  ওহে আনসার সম্প্রদায়! তোমারা আরো একবার আল্লাহর আনাসার হও। দুঃখের বিষয় হযরত যায়িদের(রা) মত ব্যক্তির সে দিন ইতিহার সেই চরম ট্রাজেডী রুখতে পারেননি।

এই ব্যর্থতার কারণও ছিল। কিছু সাহাবায়ে কিরাম (রা) কেন যে হযরত উসমানের (রা) প্রতি সেদিন ক্ষুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে হযরত আবু আইউব আল-আনসারীর (রা) মত বিশিষ্ট সাহাবীও ছিলেন। তিনি হযরত যায়িদের (রা) কথার প্রতিবাদ করে বললেনঃ উসমানের সাহায্যের জন্য তুমি মানুষকে এজন্য উৎসাহিত করছে যে, তিনি তোমাকে বহু দাস দিয়েছেন। হযরত আবু আইউব (রা) ছিলেন বিশাল মর্যদার অধিকারী একজন আনসারী সাহাবী। তাঁর সামনে হযরত যায়িদের (রা) চুপ করে যাওয়া ছাড়া কোন উপায় ছিলনা।

তাহজীবুল কামাল গ্রন্থাকার হযরত যায়িদের (রা) একাধিক স্ত্রী ও ঊনত্রিশজন ছেলে-মেয়ের নাম উল্লেখ করেছেন। তাঁর স্ত্রীদের মধ্যে প্রখ্যাত শহীদ সাহাবী হযরত সা’দ ইবন রাবী’ আল-আনাসারীর কণ্যা একজন।৪৫

হযরত সা’দ  ইবন রাবী ’ (রা) উহুদে শহাদাত বরণ করেন। দু’কন্যা ও স্ত্রী ও রেখে যান। স্ত্রী তখন গর্ভবর্তী। গর্ভের এই সন্তটিই উম্মু সা’দ বা উম্মুল আলা। ভালো নামস জামীলা। পরবর্তীকালে তিনিই যায়িদের (রা) সম্মানিত স্ত্রী। সা’দ (রা) যখন মারা যান তভন মীরামের আয়াতনাযিন হয়নি। এ কারণ জাহিলী প্রথা অনুযায়ী সাদের ভাই গোটা মীরাস আতœাসাৎ করে। তখনই রাসূলুল্লাহর (সা) নিকট মীরাসের আয়াত নাযিল হয়। তিনি সাদের (রা) ভাইকে ডেকে ২/৩ অংশ দু’ কন্যা এবং ১/২ অংশ স্ত্রীকে দিয়ে বাকী অংশ গ্রহণের নির্দেশ দেন। তখনও গর্ভের সন্তানকে মীরাস দানের বিধান চালু হয়নি। পরবর্তীকালের খলীফা উমার (রা) গর্ভের সন্তানকে মীরস দানের বিধান চালু করলে হযরত যাযিদ স্ত্রীকে বললেনঃ তুমি যদি চাও তাহলে তোমার পিতার মীরাসের ব্যাপারে তোমার বোনদের সাথে কথা বলতে পার। কারণ, এখন আমীরুল মুমিনীন গর্ভের সন্তানদের মীরস ঘোষনা করেছেন। উম্মু সা’দ বললেনঃ না, আমি আমার বোনদের কাছে কিছুই চাইবো না।৪৬

হযরত যায়িদের (রা) সন্তানদের মধ্যে খারিজ ছিলেন সর্বাধিক প্রসিদ্ধ। তিনি বিখ্যাত সাতজন ফক্হীর অন্যত এবং উম্মু সা’ দের গর্ভজাত সন্তান। তাঁর দ্বিতীয় সন্তান এবং একজন পৌত্রও নিজেদের যুগের বিখ্যাত ব্যক্তি ছিলেন। তাঁরা হাদীস শাস্ত্রের ইমাম হিসাবে খ্যাতি লাভ করেন। তাঁর আযাদকৃত দাসের সংখ্যাও ছিল অনেক। তাদের মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ছিলেন সাবিত ইবন উবাইদ ও ওহাইব।

হযরত যায়িদের (রা) মৃত্যু সন সম্পর্কে প্রচুর মতভেদ আছে। ওয়াকিদীর মতে হিজরী ৪৫ সন। আলী-আল মদীনীর মতে হিঃ ৫১ আহমাদ ইবন হাম্বল ও আবু হাফ্স আলÑফাল্লাসের মতে হিঃ ৫১ এবং আলÑহায়সাম ইবন আদী ও অইয়াহইয়া ইবন মুঈেনের মতে হিঃ ৫৫ সনে তিনি মারা যান।৪৭ ইবন হাজার (রহ) বলেনঃ অধিকাংশের মতে হিজরী ৪৫ সনে তিনি মারা গেছেন।৪৮ মৃত্যাকলে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৪/৫৫ বছর। মারওয়ান ইবন হাকাম তখন মদীনার আমীর। তাঁর সাথে যায়িদের (র) অন্তরঙ্গ সম্পর্ক ছিল। তিনিই জানাযান নামায পড়ান।৪৯ তাঁর মৃত্যুর সংবাদ শুনে জনগন শোকভিত হয়ে পড়েন। তাঁর মৃত্যুর সংবাদ শুনে জনগন শোকাভূত হয়ে পড়েন। হযরত আবু হুরাইরা (রা) তাঁর মৃত্যুর দিন মন্তব্য করেনঃ আজ হাবরুল উম্মাহ’ উম্মাতের ধর্মীয় নেতা চলে গেলেন।৫০ সালেম ইব আবদুল্লাহ বলেনঃ যায়িদ ইবন সাবিত যে দিন মারা যান সেদিন আমারা আবদুল্লাহ ইবন উমারের (রা) সংগে ছিলাম। আমি বললামঃ আজ  জনগণের শিক্ষক মারা গেলেন। ইবন উমার (রা) বললেনঃ আল্লাহ তাখে রহম করুন। উমারের (রা) খিলাফতকালে তিনি ছিলেন জনগণের শিক্ষক ও হাবর (ধর্মীয় নেতা)।৫১

প্রখ্যাত তাবেঈ ইবনুল মুসায়্যাব বলেনঃ আমি যায়িদ ইবন সাবিতের (রা) জানাযায় শরীক ছিলাম যখন তাঁকে কবরে নামানো হলো ইবন আব্বাস (রা) তোমারা যারা ইলম কিভাবে উঠে যায়  তা জানতে চাও তারা জেনে নাও এভবে ইলম উঠে যায়। আজ বহু ইলম চলে গলে। অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে তিনি বলেনঃ আজ অনেক ইলম দাফন হয়ে গেল। হাত দিয়ে কবরের দিকে ইঙ্গিত করে বলেনঃ এভাবে ইলম চলে যায়। একজন মানুষ মারা যায় এবং সে জানতে তা যদি অন্যরা না জানে তাহলে সে তার জ্ঞান নিয়েই কবরে চলে যায়।৫২ কবি হাসনাস ইÍ সাবিত (রা) একটি শোকাগাঁধা রচনা করেন। তাঁর একটি পংক্তি নিম্নরুপঃ৫৩

-হাস্সান ও তার পুত্রের পর কবিতার ছন্দ কে আর রচনা করবে?

বিরাআত, ফারেয়েজ, বিচার ও ফাতাওয় শাস্ত্রে হযরত যায়িদ (রা) ছিলেন একজন বিশেষজ্ঞ। পবিত্র কুরআনের ভাষায় তিনি রাসখ ফিল ইলম (জ্ঞানে সুগভীর)। হযরত আবদ্ল্লুাহ ইবন আব্বাস (রা) যাকে সাহাবাদের মধ্যে ইলমের সাগর গণ্য করা হতো তিনিও যায়িদকে রাসেখ ফিল ইলম গন্য করতেন।৫৪ ইবনুল আসীরের মতে তিনি সাহাবা সমাজের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী ব্যক্তি ছিলেন।৫৫ হযরত আবদুল্লাহ ইবন মাসউদের (রা) অন্যতম শ্রেষ্ট ছাত্র মাসরুক ইবন আজাদা বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহর (সা) সাহাবাদের মধ্যে ইলম জ্ঞান পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখেছি। তাঁদের সকালের জ্ঞানের সমাবেশ ঘটেছে উমার, আলী আবদুল্লাহ মুয়াজ আবুদ দারদা ও যায়িদ ইবন সাবিত এই ছয়জনের মধ্যে। তিনি আরো বলেনঃ আমি দীনায় গিয়ে রাসূলুল্লহার (সা) সাহাবীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারলাম,যায়িদ ইবন সাবিত আর রাসেখুনা ফিল ইলম এর অন্যতম ব্যক্তি।

তৃতীয় অংশ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

You may also like...

Skip to toolbar