শাদ্দাদ ইবন আউস (রা)

নাম শাদ্দাদ, কুণিয়াত বা ডাকনাম আবু ইয়া’লা আবু ’আবদির রহমান। মদীনার বিখ্যাত খাযরাজ গোত্রের বনু নাজ্জার শাখার সন্তান। এ গোত্রের বিখ্যাত কবি ’শায়িরুর রাসূল’  ও ’শায়িরুল মানজিরা নামে খ্যাত হযরত হাসসান ইবন সাবিতের (রা) ভাতিজা। কবি হাসসান ছিলেন শাদ্দাদের পিতা আউস ইবন সাবিতের ভাই।১ মাতা সুরাইমা বনু নাজ্জারের আদী উপগোত্রের কন্যা।২

শাদ্দাদের সম্মিিনত পিতা হযরত আউস ইবন সবিত (রা) আকাবার শেষ বাইয়াত  (শপথ) এবং বদর যুদ্ধে শরীক হওয়ার গৌরব অর্জন করে। তিনি উহুদ যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন।৩

হযরত শাদ্দাদ ছিলেন একজন সাহাবী এবং একজন আমীর। খলীফা হযরত উমার (রা) তাকে হিমসের আমীর নিয়োগ করেন। তৃতীয় খলীফা হযরত উসমান (রা) শাহাদাত বরণ করলে তিনি সকল দায়িত্ব  থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে ইবাদাতে আতœনিয়োগ করেন। তিনি ছিলেন একজন বিশুদ্ধ ভাষী, ধৈর্যশীল ও বিজ্ঞ ব্যক্তি।৪ মদীনায় ইসলাম প্রচারের প্রথম পর্বেই তাঁর  চাচা সহ গোত্রের প্রায়ং সকলেই ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনিও তাঁদের সাথে ঈমান আনেন।৫ যেহেতি যুদ্ধে যাওয়ার বয়স তভনও শাদ্দাদের হয়নি, একারলে হযরত রাসূলে কারীমের (সা) সাথে কোন যুদ্ধে যাননি বলে জানা যায়। ইমাম বুখারীর মতে তিনি বদরে শরীক ছিলেন। আর এটা সঠিক নয় বলে আল্লামা ইবন আসকির ও আরো অনেক মন্তব্য করেছেন।৬

হিজরী ৫৮,খ্রীঃ ৬৭৭ সনে ৭৫ বছর বয়সে তিরি ফিলিস্তীনে ইন্তিকাল করেন এবং তাকে বাইতুল মাকদাসের দাফন করা হয়।৭ তাবে হিজরী ৪১, ৫৪, ও  ৬৪ সনে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলেও ভিন্ন ভিন্ন মত আছে।৮

হাফেজ ও হাকেম বর্ণনা করেছের, হযরত শাদ্দাদ চার ছেলে ও এক মেয়ে রেখে যান। ছেরেরা হলেন : ইয়া’লা, মুহাম্মদ, আবদুল ওয়াহ্হাব ও আল মুনজির। ইয়া’লা নিঃসন্ত—ান অবস্থায় মারা যান। অন্যদের বংশধারার সন্ধান পাওয়া যায়। মেয়েটি আয্দ গোত্রে বিয়ে করেন এবং হিজরী ১৩০পর্যন্ত তার বংশধারার সন্ধান পাওয়া যায়। এ বছর আবু মুসলিম খুরাসীনর উথ্ন ও উমাইয়্যা রাজবংশের পতন হয়। আর এ বছরেই শাস ও বাইতুল মাকদাসে দারূণ এক ভূমিকম্প হয়। এ ঘটনায় এখানে বসাবাসরত আনসারদের বহু বংশদর নিহত হয়। শাদ্দাদের সন্তানরা বড়ী ধসে মারা যান। তবে তার ছেলে মুহাম্মাদ কোন রকম বেচে যান।তিনি পঙ্গু অবস্থায় খলীফা আল-মাহদীর সময় পর্যন্ত জীবিত ছিলেন।

হযরত রাসূলে কারীমের (সা) এক জোড়া হযরত শাদ্দাদের হিফাজতে ছিল। তার একখানা তাঁর কন্যার মাদ্যমে তাঁর সন্তানদরে হাতে চলে যায়। খলীফা আল-মাহদী যখন বাইতুল মাকদাস সফর করেন তখন জুতোখানি তাদের নিকট থেকে এক হাজার দীনার ও বিপুল উপঢৌকনের বিনিময়ে হাতিয়া নেন। অবশিষ্ট জুতোখানি সম্পর্কে জানাতে পারেন যে, মুহাম্মাদ ইবন শাদ্দাদের হিফাজতে আছে। আল-মাহাদা তিনি উপস্থিত হলে তিনি জুতোখানি দাবী করেন। তিনি অনেক অনুনয় ও বিনয় সহকারে বলেন যে, রাসূল (সা) যে সাম্মান এ জুতোর মাধ্যমে তার সঙ্গীকে দান করে গেছেন, আপনি তার বংশধরদের নিজকট থেকে তা ছিনিয়ে নিবেন না। আল-মাহদী রাজঅ হন এবং জুতো খনি তাদের কাছেই রাখার অনুমতি দান করেন।৯

হযরত শাদ্দাদ ছিলেন বিজ্ঞ সাহাবীদের অন্যতম। হযরত উবাদা ইবনুস সামিত (রা) ছিলেন উম্মাতের একজন স্তম্ভরুপ এবং সাহাবা সমাজে জ্ঞানের একটি কেন্দ্রবিন্দু। তিনি বলতেন, মানুষ হয় দুই ধরনের। কিছু হয় জ্ঞানী, তবে তারা খুব বদমেজাজী। আর কিছু হয় ধৈর্যশীল। কিন্তু  তারা মূর্খ ও অজ্ঞ। শাদ্দাদের মদ্যে জ্ঞান ও ধৈর্যের সমন্বয় ঘটেছিল।১০ হযরত আবুদদারাত (রা) বলতেন: কিছু মানুষণকে তো ইলম (জ্ঞান) দেওয়া হয়েছে কিন্তু হিল্ম (ধৈর্য) দেওয়া হয়নি তবে আবু ইয়াল শাদ্দাদের মাধ্যে এ দুটি সমাবেশ ঘটেছিল।১১ তিনি আরো বলতেনঃ  প্রত্যেক  উম্মাতের থাকে একজন ফকীহ্ (ধর্ম বিষয়ে বিশেষজ্ঞ)। আর এ উম্মাতের ফকীহ হচ্ছেন শাদ্দাদ তাকে ইলম ও হিকমাত দান করা হয়েছে।১২

একবার মসজিদে জাবিয়ায় বসে কথা বলছেন হযরত ইবন গানাম, আবুদদারদা ও উবাদা ইবন সামিত। এমন সময় হযরত শাদ্দাদ এসে বরলেন: লোকেরা! আপনাদের নিয়ে আমার ভয় হয়। আর সে ভয়টা হচ্ছে, রাসূল (সা) বলেছেন, আমার উম্মাত প্রবৃত্তির অনুসারী হয়ে পড়বে এবং শিরকে লিপ্ত হবে। কথাটির শেষাংশ ছিল বিস্মিত হওয়ার মত। তাই  আবুদদারদা ও উবাদা প্রতবিাদ করলেন এবং নিজেদের বক্তব্যের সমর্থনে একটি হাদীস পেশ করলেন। হাদীসটি হলো, আরব উপদ্বীপে শয়তান তার উপাসন্যর ব্যাপারে নিরাশ হয়ে পড়েছে। তাহলে আমাদের মুশরিক হওয়ার অর্থ কি? এ প্রশ্নটি তারা রাখলেন।

শাদ্দাদ বললেন, এক ব্যক্তি মানুষকে দেখানোর উদ্দেশ্য নামায পড়ে, যাকাত আদায় করে,ÑÑÑ তার সম্পর্কে আপনার কি ধারণা পোষণ করেন? তাঁরা জবাব দিলেন, সে মুশরিক (অংশীবাদী)। এর পর তিনি বলেন, আমি তার সম্পর্কে রাসূল (সা) নিকট থেকে শুনেছি, এ সকল কাজ যার লোক দেখেনোর উদ্দেশ্য করবে, সে হবে মুশরিক। হযরত আউফ হবন মালিকও ছিলেন তাদের সাথে। তিনি বললেন যতটুকু কর্ম রিয়া কর্ম যাতে শিরকের মিশ্রণ আছে  তা কবুল হবে না। এ  হিসেবে আমদের নিজেদের কর্মের উপর আস্থাবান হওয়া উচিত। হযরত শাদ্দাদ  উত্তরে বলেন: হাদীসে কুদসীতে  এসেছে মুশরিকদের যাবতীয় আমল তার উপাস্য বা মাবুদকে দেওয়া হবে। আল্লাহ তার মুহতাজ বা মুখাপেক্ষী নন।১৩ হযরত শাদ্দাদের এ অভিমত হুবহু কুরআনের বাণীর অনুরুপ। কুরআনে বলছে আল্লাহ কোন অবস্থাতেই শিরকের গুনাহ মাফ করবেন না। হাদীস শাস্ত্রে তার গভীর জ্ঞান ও বিচক্ষণতা ছিল। এ ক্ষেত্রে তিনি দরিায়াত ও নাকদ এর মূলনীতি অনুসরণ করতেন হযরত আবুজার আল- গিফারী (রা) ছিলেন যুহ্দ কিনায়াত (বৈরাগ্য ও অল্পেতুষ্টি) এর জন্য প্রসিদ্ধ। ভোগবাদী জীবনের বিরুদ্ধে তিনি গোটা শামে এক প্রচন্ড  আন্দোলন গড়ে তোলেন। তার মত ও আন্দোলনের সপক্ষে তিনি বহু হাদীস বর্ণনা করেন। এতে হৈ চৈ পড়ে যায়। তার সম্পর্কে হযরত শাদ্দাদ (রা) বলেনঃ আবুজার রাসূলুল্লাহর (সা) মুখ থেকে কোন হাদীস যাতে কোন কঠোরাত থাকতো শুনতেন। তারপর নিজ গোত্রে ফিরে গিয়ে তা প্রচার করতেন। রাসূল (সা) আবার এই কঠোরতায় কিছুটা শিথিলতা প্রদান করতেন। কিন্তু আবুজার তা জানতেন না। তিনি সেই কঠোরতার ওপর অটল থকেন।১৪ হযরত শাদ্দাদের (রা) সুত্রে বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা ৫০(পঞ্চাস)। আল্লামা যিরকলী বলেছেন এর সবগুলিই সাহীহাইনে বর্ণিত হয়েছে।১৫ এ সকল হাদীস তিনি রাসূল (সা) থেকে এবং কিছু কা’ব আল আহবার (রা) থেকে শুনেছেন।১৬ তাঁর থেকে হাদিীস বর্ণনা কারীদের আনেকেই ছিলেন শামের আধিবাসী। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজনের নাম নিম্নে দেওয়া হলোঃ মাহমুদ ইবন লাবীদ, তাঁর দুই পুত্র মুহাম্মদ ও ইয়ালা, আবু আশ’য়াস সাফীন, দামরা ইবন হাবীব আবু ইদরীস খাওলানী, মুহামুদ ইবন রাবী, আবদুর রহমান ইবন গানামা, বাশীর ইবন কা’ব জুবাইর ইবন নুফাইর, আবু আসমা রাহবী, হাস্সান ইবন আতিয়্যা, উবাদা ইবন বাসানী হানজলী প্রমুখ।১৭ তিনি ছিলেন একজন আতি খোদাভীরু ‘আবেদ ব্যক্তি। আল্লাহর ভয়ে সব সময় কম্পিত থাকতেন। আধিকাংশ সময় রাতে আরাম করার জন্য শুয়ে যেতেন। কিছুক্ষন পর আবার  উঠে বসতেন এবং সারা রাত নামাযে দাঁড়িযে কাটিয়ে দিতেন। কখনো কখনো শোনা যেত, তিনি উচ্চারণ করছেন: আল্লাহুম্মা আন্নান নারা কাদ হালত বায়নী ওয়া বায়নান নাওম. হে খোদা! জাহান্নামের আগুন আমার এবং ঘুমের মাঝে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাহান্নাম আমার ঘুম দূর করে দিয়েছে। এখানে আসাদ ইবন বিদা‘য়ার একটি মন্তব্য উল্লেখযোগ্যঃ শাদ্দাদ যখন রাতে বিছানায় যেতেন তখন আল্লাহর বয়্যে অত্যন্ত অশান্ত ও ভীত থাকতেন।১৮ রাসূলুল্লাহর (সা) ও খিলাফাতে রাশেদার পর মুসলমানদের মধ্যে যে পরিবর্তন হচ্ছিল তিনি তীব্রভাবে অনুভব করতেন। উবাদা ইবন নাসী বলেনঃ একবার শাদ্দাদ ইবন আউস আমরা পাশ দিয়ে যাওয়া সময় আমার হাতটি ধরে তাঁর গৃহে  নিয়ে গেলেন তারপর বসে কাদতে শুরু করলেন। তা দেখে আমরাও কাঁদা শুরু করলাম। তিনি জিজ্ঞেসা করলেন: কাঁদছেন কেন? বললাম: আপনার কান্না দেখে আমরা কান্না পেয়েছে। তিনি বললেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহর একটি হাদীস মনে পড়েছে। তিনি বলেনছিলেন আমরা সবচেয়ে বেশী ভয় হয়  আমরা উম্মাতের প্রবৃত্তির গোটন কামনা বাসানার পূজারী ও শিরকে লিপ্ত হওয়ার। আম বললামঃ আপনার উম্ম্াত মুরিক হয়ে যাবেঃ বললেন হাঁ। তবে এমন নয় যে তারা চন্দ্র, সূর্য, মূর্র্তি, পাথরের পূজা করবে। তাদের মধ্যে রিয়া ও প্রবৃত্তির পূূজার প্রভাব দেখা দেবে। সকল মানুণ রোয়া রাখবে কিন্তু যখন তারা প্রবৃত্তি চাইবে সে নিঃসংকোচন তা ভেঙ্গে ফেলবে।১৯  বন্ধু বান্ধব, আন্তীয় ¯ব্জন রোগগ্রস্ত হলে তাদের দেখতে যাওয়া ও খোঁজ খবর নেওয়া তাঁর অভ্যাস ছিল। আবু আশ’য়াস সাগানী শামের  নিকটবর্তী দিমাশক মসজিদে থাকতেন। একবার শাদ্দাদ (রা) সানাবাহিনী সাথে পথ তার দেখা হলে। তিনি জিজ্ঞেসা করলেন: কোন দেিক যাচ্ছেন? শাদ্দাদ জবাব দিলেন, আমাদের এক ভাই অসুস্থ তাকে দেখতে যাচ্ছি। তিনিও সংগী হলেন। ভিতরে ঢুকে তিনি রোগিকে জিজ্ঞাসা করলেন: কি আবস্থা? জরাব এলো: ভালো আছি। হযরত শাদ্দাদ বললেনঃ আমি তোমাকে রোগ-ব্যধি গুনাহর কাফফারা হওয়ার সুসংবাদ শুনচ্ছি। হদীসে এসেছেঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর পরীক্ষায় তাঁর প্রশংসা করে এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্টি থাকে সে মায়ের পেটে থেকে ভুমিষ্ট হওয়া সদ্যাজাত শিশুর মত পাক পবিত্র হয়ে যায়।২০ মাক্কা বিজয়ের সময়কালে একদিন রাসূল (সা) মদীনার বাকী গোরস্তানে যান। হযরত শাদ্দাদ তখন সঙ্গে ছিলেন এবং রাসূল (সা) তার একটি হাত ধরেছিলেন।২১ এ ঘটনা দ্বারা রাসূলের (সা) সাথে তার সম্পর্ক অনুমান করা যায়।

কবার তিনি রাসূলুল্লাহর (সা) খিদমতে হাজির হন। তাঁর চেহারায় বিমর্ষতার ছাপ দেখে রাসূল (সা) জিজ্ঞেসা করলেনঃ কি হয়েছে? বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! তোমার জন্য পৃথিবী সংকীর্ণ। রাসূল (সা) বললেনঃ পৃথিবী তোমার জন্য সংকীর্ণ হবে না। শাম ও বাইতুল মাকদাস বিজিত হবে। তুমি ও তোমর সন্তানরা তাথাকর ইমাম হবে।২২ অক্ষরে অক্ষরে ও ভবিষ্যদ্বাণী সত্যে পরিনত হয়। পরবর্তীকালে তিনি তাঁর ছেলেমেয়েদের সহ বাইতুল মাকদাসে বসতি স্থাপন করেন এবং গোটা শামের জ্ঞানও আধ্যতিœকতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন।

একাবার শাদ্দাদ জিহাদে গমনকারী একদল মুজাহিদকে বিদায় জানাচ্ছিলেন। ারা তাকে তাদের সাথে আহার করার আমরন্ত্র জানালে তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহর (সা) হাতে বাইয়াতের পর থেকে খাবারটি কোথা থেকে এসেছে তা না জেনে যদি খাওয়ার অভ্যাস থাকতো তাহলে তোমাদের সাথে অবশ্যাই খেতাম।২৩ ইবন সা’দ খালিদ ইবন মা’দান থেকে বর্ণনা করেছেন, খালিদ বলেছেনঃ উবাদা ইবন সামিত ও শাদ্দাদ ইবন আউস অপেক্ষা অধিকতর বিশ্বস্ত, চিন্তাবিদ ও সন্তুষ্টচিত্ত ব্যক্তি  রাসূলুল্লাহর (সা) সাহাবীদের মধ্যে আর কেউ শামে জীবিত নেই।২৪

ল্ম উঠে যাওয়া ও ভুলে যাওয়া সম্পর্কে ও একটি হাদীস আওফ ইবন মালিক আল- আশাজাঈ (রা) রাসূল (সা) থেকে বর্ণনা করেন। এ সম্পর্কে এক ব্যক্তি শাদ্দাদকে (রা) প্রশ্ন করলে তিনি বলেনঃ আওফ সত্য বলেছে তারপর তিনি বলেনঃ সর্বপ্রথম কোন্ ‘ইলমটি উঠবে তাকি তোমাকে বলবো? সে বললো  হাঁ। বলেনঃ আল্লাহভীতি। এমন কি একজন আল্লাহ ভীরু লোকও তুমি দেখবে না।২৫ শাদ্দাদ ইবন আওস বলতেনঃ তোমরা কল্যাস ও মঙ্গলের সাবব বা কারণ ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাও না। তেমনিভাবে অকল্যান ও অমঙ্গল কারণ ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাওনা। কল্যানের  সবকিছু জান্নাতের এবং আকল্যাসের সবকিছু জাহান্নামের। আর এই দুনিয়া একটি উপস্থিত ভোগের বস্তু। সৎ ও অসৎ সকলেই তা ভোগ করে থাকে। আর  আখিরাত হচ্ছে সত্য অঙ্গীকার যেখানে রাজত্ব করেন মহাপরপাক্রমশালী রাজা। প্রত্যেকেরই আছে সন্তাননাদি তোমরা আখিরাতের সন্তান হও, দুনিয়ার সন্তান হয়োনা।২৬

তিনি ছিলেন খুবই ধৈর্যশীল ও স্বল্পভাষী। তাবে মানুষের সাথে যখন কথা বলতেন, তখন তা হতো খুবই মধুর ও চিত্তাকর্ষক। সাঈদ ইবন আবদিল আযীয বলেনঃ শাদ্দাদ দুইটি অভ্যাসে আমাদের থেকে এগিয়ে গেছে। বলার সময় বাগিন্তাতায় এবং ক্রোধের সময় ধৈর্য, সহনশীলাতা ও মহানুভাবতায়।২৭ তিনি যে কত স্বল্পভাষী ছিরেন তার প্রমাণ মেল তার একটি মন্তব্য দ্বারা। একবার তিনি তার এক সঙ্গীকে বললেন, পথেয়টুকু নিয়ে এসো একটু খেলি। সঙ্গীটি বললোঃ এমন কথা তো আপনার মুখে কখনো শুনিনি! তিনি বলেনঃ আমি ইসলাম গ্রহণের পর থেকেই মুখে রাগাম পরে নিযেছি। আজ অকস্মাৎ মুখ থেকে একথাটি বেরিয়ে গেল, তোমরা এটা ভুলে যাও। আর  কখনো এমনটি হবে না।২৮

একাবার হযরত মু’ য়াবিয়া (রা) হযরত শাদ্দাদকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ শাদ্দাদ বলুন তো আমি বলো না আলী ইবন আবী তালিব ভালো? আমাদের দুজনের মধ্যে কে আপনার নিকট সর্বধিক প্রিয়?শাদ্দাদ বললেনঃ আলী আগে হিজরাত করেছেন, রাসূলুল্লাহর (সা) সাথে বেশি ভালো কাজ করেছেন, আপনার চেয়ে বেশি সাহসী, আর তিনি আপনার চেয়ে বেশি প্রশস্ত হূদয়ের মানুষভ আর ভোলোবাসার কথা বলেছেন? আলী চলে গেছেন। আজ মানুষ আপনার কাছেবেশি আশা করে।

You may also like...

Skip to toolbar