শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নামায পড়ার নিয়ম-মাওলানা মুহাম্মদ হেমায়েত উদ্দিন

(নামাযের মধ্যে যা যা করতে হবে এবং যেভাবে করতে হবে তার ধারাবাহিক বর্ণনা)

১। নামায পড়ার জন্য পবিত্র স্থানে দাঁড়ানো ফরয।

২। কেবলামুখী হয়ে দাঁড়ানো ফরয।

৩। পা দুটো সোজা কেবলামুখী করে রাখা সুন্নত।

৪। পায়ের মাঝখানে সামনে পিছনে ফাঁক রাখবে যাতে পা সোজা কেবলামুখী থাকে।

৫। দুই পায়ের মাঝখানে হাতের মিলিত চার আঙ্গুলের পরিমান ফাঁক রাখা মোস্তাহাব।

৬। নামাযের নিয়ত বাঁধার পূর্ব পর্যন্ত হাত ছাড়া অবস্থায় রাখবে। (হাত বাঁধা মাকরুহ।)

৭। উভয় পায়ের উপর সমান ভর করে দাঁড়াবে। এক পায়ের উপর সম্পূর্ণ ভর করে দাঁড়ানো মাকরুহ।

৮। নিয়ত করার ফরয। নিয়তের ক্ষেত্রে প্রচলিত লম্বা-চওড়া বাক্য বলা নিষ্প্রয়োজনীয়। ফরযের ক্ষেত্রে শুধু কোন ওয়াক্তের ফরয তার উল্লেখ এবং সুন্নাত নফলের ক্ষেত্রে শুধু নামাযের উল্লেখ করার যথেষ্ট।

৯। নিয়তের ক্ষেত্রে হৃদয়ের অনুভূতি দ্বারা অমুক নামায পড়ছি বলে ইচ্ছে করলে এতেই যথেষ্ট হবে। নিয়ত মূলত ইরাদা বা ইচ্ছার নাম। তাই মনে মনে নিয়ত করলেই যথেষ্ট হবে। তবে মুখে নিয়ত উচ্চারন করাকে এই অর্থে উত্তম যে এতে, মনের খটকা দূর হয় এবং হৃদয়ের আকর্ষণ বেড়ে যায়।

১০। নিয়ত মুখে উচ্চারন করলে আরবীতেও করা যায়। আরবীতে করা ফরয, ওয়াজিব বা মোস্তাহাব কিছুই নয়।

১১। নিয়ত বাঁধার ক্ষেত্রে কান পর্যন্ত হাত উঠানো সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। হাত উঠানোর সময় পুরুষগণ চাদর পরিহিত থাকলে তার মধ্য থেকে হাত বের করবে। মহিলাগণ কাপড়ের মধ্য থেকে হাত বের করবে না। মহিলাগণ সিনা পর্যন্ত হাত উঠাবে যেন আঙ্গুলের অগ্রভাগ কাঁধ পর্যন্ত ওঠে।

১২। পুরূষ মহিলা উভয়ের জন্য হাতের তালু আঙ্গুলের পেটসহ কেবলামুখি রাখা (উপরের দিকে নয়) সুন্নত।

১৩। হাতের আঙ্গুলসমূহকে মিলাবে না বরং আঙ্গুলসমূহের মাঝে স্বাভাবিকভাবে যেমন ফাঁক থাকবে তেমনই থাকবে। এটিই সুন্নত।

১৪। পুরূষের জন্য দুই বৃদ্ধ আঙ্গুলের অগ্রভাগ কানের লতির সাথে লাগানো মোস্তাহাব।

১৫। আল্লাহু আকবার বলে নিয়ত বাঁধবে। এই তাকবীর ফরয। এটাকে তাকবীরে তাহরীমা বলে।

১৬। “আল্লাহু” “আকবার” শব্দ দুটোর আলিফে জোর দিয়ে উচ্চারণ করা এবং হা কে সামান্য টানের আভাস দিয়ে উচ্চারণ করা উত্তম।

১৭। হাত উঠিয়ে কানের লতির সঙ্গে বৃদ্ধ আঙ্গুল স্পর্শ করার পর আল্লাহু আকবার বলতে শুরু করা উত্তম। হাত উঠাতে উঠাতেবা হাত উঠানো শুরু করার পূর্বেও আল্লাহু আকবার বলে নেয়া যায়।

১৮। হাত বাঁধা সম্পূর্ণ হবে, আল্লাহু আকবার বলাও শেষ হবে- এরূপ করা উত্তম।

১৯। কান থেকে হাত সোজা বাঁধার দিকে নিয়ে যাবে, হাত সোজা নিচের দিকে ছেড়ে দিবে না বা পিছনের দিকে ঝাড়া দিবে না।

২০। তাকবীরে তাহরীমা বলার সময় স্বাভাবিকভাবে সোজা দাঁড়ানো থাকবে-মাথা নিচের দিকে ঝঁকাবে না।

২১। নাভের নিচে হাত বাঁধা সুন্নাত (নাভির পরেও বাধা যায়।)।

২২। ডান হাতের তালু বাম হাতের পিঠের উপর রাখবে।

২৩। ডান হাতের বৃদ্ধ ও কনিষ্ঠ আঙ্গুল দিয়ে বাম হাতের কবজি ধরা সুন্নাত।

২৪। ডান হাতের অবশিষ্ট তিন আঙ্গুল বাম হাতের পিঠের উপর স্বাভাবিক ভাবে রাখা থাকবে। (মহিলাগণ সিনার উপর ডান হাতের তালু বাম হাতের পিঠের উপর রেখে নিয়ত বাঁধবে। এটা সুন্নাত।)

২৫। সানা পড়া সুন্নাত।

সানা হলোঃ- “সুবহানাকা আল্লাহুমা অবিহামদিকা অতাবারা কাসমুকা অতাআলা জাদদুকা অলাইলাহা গাইরুক।“

২৬। আউযূ বিল্লাহি মিনাশ শাইওতানির রাজীম পড়া সুন্নাত।

২৭। বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম পড়া সুন্নাত।

২৮। সূরা ফাতেহার প্রত্যেক আয়াতে ওয়াকফ করে পড়া সুন্নাত।

২৯। সূরা ফাতিহার শেষে “আমিন” পড়া সুন্নাত।

৩০। একাকী নামায পড়লে “আমিন” আস্তে বলবে। ইমাম এবং মুক্তাদী হলে আমীন আস্তে বলা উত্তম।

৩১। সূরা/কিরাত মিলানোর পূর্বে বিসমিল্লাহ পড়া মোস্তাহাব।

৩২। তারপর সূরা/কিরাত মিলানো ওয়াজিব।

৩৩। প্রতি পরবর্তী রাকয়াতের সূরা/কিরাত তারতীব অনুযায়ী পড়া অর্থাৎ, সামনের থেকে কোনো সূরা/কিরাত পড়া, পিছন দিক থেকে না পড়া। এই তারতীব রক্ষা করা ওয়াজিব। এর বিপরীত করলে নামায মাকরূহ হবে তবে সাজদায়ে সহো ওয়াজিব হবে না।

৩৪। অধিক সহীহ মতানুসারে এতটুকু শব্দে কিরাত পড়া যেন নিজে শব্দ শুনতে পায়। তাকবীর ইত্যাদির ক্ষেত্রেও এই মাসয়ালা প্রযোজ্য।

৩৫। সূরা যিলযাল থেকে নাস পর্যন্ত-এই ছোট সূরাগুলোর ক্ষেত্রে পূর্ববর্তি রাকয়াতে যেটা পড়া হয়েছে পরবর্তী রাকয়াতে একটা বাদ দিয়ে তার পরেরটা পড়বে না। ফরয এবং ওয়াজিব নামাযে এরূপ করা মাকরূহ। বাদ দিয়ে পড়তে হলে কমপক্ষে দুটো বাদ দিয়ে পরেরটা পড়া যাবে।

৩৬। সূরা/কিরাত শেষ করার পর একটু বিরতি যোগে দম নিয়ে রুকুতে যাওয়ার তাকবীর বলা সুন্নাত।

৩৭। আল্লাহু আকবার বলে হাত রুকুতে হাঁটুর দিকে নিয়ে যাবে। হাত সোজা ছেড়ে দিবে না বা পিছনের দিকে ঝাড়া দিবে না।

৩৮। রুকুর জন্য ঝোঁকার সাথে সাথে আল্লাহু আকবার বলা শুরু করবে এবং রুকুতে সোজা স্থির হওয়ার সাথে বলা শেষ হবে। এটা সুন্নাত তরিকা।

৩৯। রুকুতে পিঠ সোজা রাখা সুন্নাত।

৪০। কোমর এবং মাথা এক বরাবর রাখবে-সামনে বা পিছনে ঝঁকবে না।

৪১। পাঁজর থেকে বাহুকে পৃথক রাখবে।

৪২। রুকুতে উভয় হাতের আঙ্গুলসমূহ ফাঁক করে রাখা সুন্নাত।

৪৩। শক্তভাবে হাঁটু ধরা সুন্নাত।

৪৪। উভয় হাতের কনুই সোজা রাখবে-ভাজ করে রাখবে না। মহিলাগণ উভয় হাতের আঙ্গুলসমূহ মিলিত রেখে হাঁটুর উপর হাত রাখবে, হাঁটু ধরবে না এবং হাতের বাহু পাজরের সাথে মিলিত রেখে অল্প ঝুঁকে রুকু করবে এবং হাঁটু সামনের দিকে ঝঁকিয়ে রাখবে আর পিঠ সামান্য বাঁকা রাখবে।

৪৫। রুকুতে নজর উভয় পায়ের পাতা বা পায়ের আঙ্গুলের প্রতি নিবদ্ধ রাখা আদব।

৪৬। পুরুষগন রুকুতে দুই টাখনুকে দাঁড়ানোর অবস্থার মত পৃথক রাখবে এবং নারীগণ মিলিয়ে রাখবে।

৪৭। রুকুতে  “সুবহানা রব্বিয়াল আযীম’ পড়া সুন্নাত। এই তাসবীহ তিন/পাঁচ/সাত এরূপ বেজোড় সংখ্যায় পড়া সুন্নাত। এই তাসবীহের অর্থ হল আমার মহান রবের পবিত্রতা বর্ণনা করছি।

৪৮। “সামিয়াল্লাহুলিমান হামিদা” (অর্থাৎ, আল্লাহ শোনেন, যে তাঁর প্রশংসা করে।) বলে রুকু থেকে উঠা সুন্নাত।

৪৯। সোজা হওয়ার সঙ্গে “হামিদা” বলা শেষ হবে-এটা সুন্নাত।

৫০। রুকুর থেকে সোজা স্থির হয়ে দাঁড়ানো ওয়াজিব।

৫১। সোজা হয়ে দাঁড়ানোর পর “ রব্বানা লাকাল হামদ” (অর্থাৎ, হে আমাদের রব! সকল প্রশংসা তোমার জন্য। ) বলা সুন্নাত। “রব্বানা ওলাকাল হামদ”-বলা আরও উত্তম। তার চেয়ে উত্তম “আল্লাহুমা রব্বানা লাকাল হামদ”-বলা এবং তার চেয়েও উত্তম হল “আল্লাহুমা রব্বানা ওলাকাল হামদ” বলা।

৫২। সাজদায় যাওয়ার সময় আল্লাহু আকবার বলা সুন্নাত।

৫৩। সাজদায় জমীনে কপাল লাগানোর সঙ্গে সঙ্গে “আকবার” বলা শেষ করবে-এটা সুন্নাত তরীকা।

৫৪। সাজদায় যাওয়ার সময় উভয় হাঁটুর একত্রে, তারপর উভয় হাত একত্রে, তারপর নাক এবং তারপর কপাল জমিনে রাখবে। এই তারতীব সুন্নাত। ওজরের সময় হাঁটুর পূর্বে হাত রাখতে হলে প্রথমে ডান হাত, তারপর বাম হাত, তারপর উভয় হাঁটু একত্রে রাখবে।

৫৫। হাঁটু জমিনে লাগার পূর্বে কোমর মাথা সামনের দিকে ঝূকানো মাকরূহ; বরং কোমর সোজা রাখবে।

৫৬। সাজদায় যাওয়ার সময় হাঁটুর উপর হাত দিয়ে ভর না করা, এতে হাঁটু মাটিতে পূর্বেই কোমর ও মাথা সামনের দিকে ঝুঁকে যায়। তদুপরি অনেকে এটাকে সুন্নাত মনে করে বিধায় এ থেকে বিরত থাকা উচিত।

৫৭। সাজদায় যাওয়ার সময় কাপড় নাড়াচাড়া বা টানাটানি করবে না। এরুপ করা মাকরুহ।

৫৮। সাজদায় উভয় হাতের মাঝে চেহারার চওড়া পরিমাণ ফাঁক রাখবে।

৫৯। উভয় হাতের সমস্ত আঙ্গুল খুব মিলিয়ে রাখা সুন্নাত।

৬০ উভয় হাতের সমস্ত আঙ্গুলের অগ্রভাগ কেবলামুখী রাখা সুন্নাত।

৬১। উভয় হাতের মধ্যখানে বৃদ্ধ আঙ্গুলদ্বয়ের নখ বরাবর নাক রাখবে।

৬২। নজর নাকের উপর রাখা আদব।

৬৩। দুই পায়ের টাখনু কাছাকাছি রাখবে, মিলাবে না। সাজদাতে টাখনু মিলানো বা পৃথক রাখা সম্পর্কে হাদীছে উভয় রকমের বর্ণনা পাওয়া যায়। এতদুভয়ের মাঝে সমন্বয় হল কাছাকাছি রাখবে।

৬৪। উভয় পা খাড়া রাখবে।

৬৫। পায়ের আঙ্গুলসমূহ জমিনের সাথে চেপে ধরে যথাসম্ভব আঙ্গুলের অগ্রভাগ কেবলামুখী করে রাখবে।

৬৬। কপালের অধিকাংশ ও নাক জমিনের সংঙ্গে লাগিয়ে রাখা ওয়াজিব।

৬৭। পুরুষগণ পেট রান থেকে, বাহু পাজর থেকে এবং কনুই জমিন থেকে পৃথক রাখা অবস্থায় সাজদা করবে।

৬৮। মহিলাগণ উভয় পা ডান দিকে বের করে দিবে এবং পেট দুই রানের সঙ্গে এবং বাহু পাঁজরের সঙ্গে মিলিয়ে ও কনুই পর্যন্ত হাত জমিনের সঙ্গে লাগিয়ে খুব চেপে সাজদা করবে।

৬৯। সাজদায় “সুবহানা রব্বিয়াল আলা”- (আমার মহান রবের পবিত্রতা বর্ণনা করছি) পড়া সুন্নাত। এই তাসবিহ তিন/পাঁচ/সাত-এরুপ বেজোড় সংখ্যায় পড়া সুন্নাত।

৭০। আল্লাহু আকবার বলে সেজদা থেকে উঠা সুন্নাত। উঠার সময় প্রথমে কপাল, তারপর নাক, তারপর হাত জমিন থেকে উঠানো সুন্নাত।

৭১। সোজা হয়ে বসার সাথে সাথে আকবার বলা শেষ করবে। এটাই সুন্নাত তরীকা।

৭২। বাম পা বিছিয়ে তার উপর বসা সুন্নাত। মহিলাগণ দুই নিতম্বের উপর বসবে।

৭৩। বসার সময় পুরুষের জন্য ডান পা সোজা খাড়া রাখা সুন্নাত।

৭৪। ডান পা জমিনের সঙ্গে চেপে ধরে যথাসম্ভব ডান পায়ের আঙ্গুলগুলো কেবলামুখী করে রাখা সুন্নাত। মহিলাগণ উভয় পা ডান দিকে বের করে দিবে।

৭৫। বসার সময় হাতের আঙ্গুলগুলোর মাঝে সামান্য ফাঁক রাখা মোস্তাহাব, মহিলাগণ আঙ্গুল মিলিয়ে রাখবে।

৭৬। হাতের আঙ্গুলগুলো সোজা কেবলামুখী করে রাখা মোস্তাহাব।

৭৭। হাতের আঙ্গুলগুলোর অগ্রভাগ হাঁটুর কিনারা বরাবর রাখবে।

৭৮। বসার সময় নজর কোলের উপর নিবদ্ধ রাখা আদব।

৭৯। দুই সিজদার মাঝখানে স্থির হয়ে বসা ওয়াজিব।

৮০। দ্বিতীয় সাজদা থেকেও আল্লাহু আকবার বলে উঠা সুন্নাত। উঠার সময় প্রথমে কপাল, তারপর নাক, তারপর হাত এবং তারপর হাঁটু জমিন থেকে উঠানো সুন্নাত।

৮১। ২য় সেজদা থেকে উঠে বসা ছাড়াই দাঁড়িয়ে যাওয়া সুন্নাত।

৮২। হাঁটুর উপর হাতে ভর করে উঠা মোস্তাহাব।

৮৩। সোজা হয়ে দাঁড়ানোর সাথে আকবার শব্দের উচ্চারণ শেষ করবে।

৮৪। ২য় রাকাআতে ২য় সাজদা থেকে উঠে বসে তাশাহহুদ পড়া ওয়াজিব।

৮৫। তাশাহহুদ-এর মধ্যে (আশাহাদু আল) বলতে বলতে হাতের হলকা বাঁধা অর্থাৎ, ডান হাতের বৃদ্ধ আঙ্গুলের এবং মধ্যমার অগ্রভাগকে মিলানো এবং কনিষ্ঠ ও অনামিকাকে হাতের তালুর সঙ্গে মিলানো। এটা মোস্তাহাব। “লা ইলাহা” বলতে বলতে শাহাদাত আঙ্গুলকে উপর দিকে উঠানো, এতটুকু উঠানো যেন তা অগ্রভাগ কেবলামুখী হয়ে যায়। “ইল্লাল্লাহু” বলার সময় নিচের দিকে নামানো। তবে বৈঠকের শেষ পর্যন্ত রানের সাথে না মিলিয়ে উঁচু করে রাখা নিয়ম। এই হালকা বৈঠকের শেষ পর্যন্ত রাখবে।

৮৬। তাশাহহুদের পর দুরুদ শরীফ পড়া সুন্নাত।

৮৭। তারপর দুয়ায়ে মাছুরা পড়া মোস্তাহাব।

৮৮। তারপর “আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ”- বলে উভয় দিকে সালাম ফিরানো ওয়াজিব।

৮৯। সালাম ফিরানোর সময় নজর কাঁধের উপর রাখা মোস্তাহাব।

৯০। ডান দিকে সালাম ফিরানোর সময় ডান দিকের ফিরিশতাকে সালাম করার নিয়ত করবে। অনুরুপ বাম দিকে সালাম ফিরানোর সময় বাম দিকের ফিরিশতাকে সালামের নিয়ত করবে।

৯১। উভয় সালাম চেহারা কেবলামুখী থাকা অবস্থায় শুরু করবে। এবং কাঁধে নজর করে শেষ করবে।

৯২। দ্বিতীয় সালামকে কম দীর্ঘ করা এবং আওয়াজ নিচু করা সুন্নাত।

৯৩। সালামের সময় ঘাড় এতটুকু ফিরানো যেন (পিছনে কেউ থাকলে) তার চেহারার উক্ত পাশ দেখতে পারে।

  • এতক্ষণে দুই রাকয়াত নামাযের বিবরণ পেশ করা হল। তিন/চার রাকয়াত বিশিষ্ট নামায হলে দ্বিতীয় রাকায়াতের বৈঠকে শুধু তাশাহহুদ পড়ে তৃতীয় রাকায়াতের জন্য আল্লাহু আকবার বলে উঠবে। আর সুন্নাতে গায়রে মুয়াক্কাদা বা নফল নামায হলে প্রথম বৈঠকে দুরুদ এবং দুয়ায়ে মাছুরাও পড়ে তারপর উঠা উত্তম। উল্লেখ্য যে, এ নিয়ম অনুযায়ি প্রথম বৈঠকে দুরুদ এবং দুয়ায়ে মাছুরা পড়ে উঠলে তৃতীয় রাকয়াতে ছানা এবং সূরা ফাতেহার পূর্বে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম এর পূর্বে আউযুবিল্লাহ— ও পড়া উত্তম।
  • তিন/চার রাকয়াত বিশিষ্ট নামায ফরয হলে তৃতীয়/চতুর্থ রাকয়াতে শুধু সুরা ফাতিহা পড়া উত্তম। আর ফরয ব্যতীত অন্যান্য নামাযে ৩য়/৪র্থ রাকয়াতে সূরা/কিরাত মিলানো ওয়াজিব।
  • শেষ বৈঠকে তাশাহহুদের পর দুরুদ শরীফ পড়া সুন্নাত এবং দুআয়ে মাছুরা পড়া মোস্তাহাব।

আল্লাহ আমাদেরকে আমল করার তৌফিক দান করুন।

সূত্রঃ আহকামে যিন্দেগী

 

You may also like...

Skip to toolbar