সততার পুরস্কার!

রাত প্রায় দুপুর গড়িয়ে চলছে। ঘুমন্ত মদীনা নগরী। এরই অলিগলি দিয়ে ধীরপদে প্রতিদিনের মত হেটে চলেছেন ছদ্মবেশী খলীফা হযরত ওমর। খোঁজ খবর নিচ্ছেন প্রজাদের।

হঠাৎ একটি কুঁড়েঘর থেকে ফিসফিস করে একটি কথোপকথন তাঁর কানে ভেসে এল। খলীফা দাঁড়িয়ে গেলেন পুরো কথোপকথন শুনতে। এক বৃদ্ধা মহিলা তার মেয়েকে বলছে, “দুধ বেঁচতে দেয়ার সময় একটু পানি মিশিয়ে দিসনা কেন? তুই তো জানিস, কি অভাব আমাদের।

ঐটুকু দুধে আর ক’টা পয়সা হবে। একটু পানি মেশালে কিছুটা স্বচ্ছলতার মুখ দেখা যেত।”

“কিন্তু তুমি খলীফার আদেশ ভুলে গেলে, আম্মী? তিনি যে বলেছেন কেউ যেন দুধের সাথে পানি না মেশায়।”

“বলেছেন, তাতে কী হয়েছে? খলীফা বা তার কোনো কর্মচারী তো আর দেখতে আসছেন না আমরা কী করছি।”

“কিন্তু আম্মী, তিনি বা তার কোনো কর্মচারী দেখুক বা না দেখুক, তার আদেশতো প্রত্যেক মুসলমানের মেনে চলা দরকার।

তা ছাড়া খলীফা যদি নাও জানেন, আল্লাহ তো জানবেন। তিনি তো সব কিছু দেখেন, শোনেন এবং জানেন।”

খলীফা নীরবে প্রস্থান করলেন। নিজের সঙ্গীকে জিজ্ঞেস করলেনঃ “শুনলে তো? এই মেয়েটাকে কী পুরস্কার দেয়া যায় তার সততার জন্য?”

“তাকে বড়সড় একটা পুরস্কার দেয়া উচিত। ধরুন, এক হাজার দিরহাম।”

“না, তা যথেষ্ট নয়। আমি তাকে সততার সর্বোচ্চ পুরস্কার দেব। আমি তাকে আপন করে নেব।”

খলীফার সঙ্গী অবাক হয়ে ভাবতে লাগলো, খলীফা কী পুরস্কার দিতে চান?”

পরদিন সকালে খলীফা মেয়েটিকে তার দরবারে ডেকে পাঠালেন। মেয়েটি ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে এসে হাজির হলো মুসলিম সাম্রাজ্যের মহাশক্তিধর শাসকের সামনে।

খলীফা তাঁর ছেলেদের ডাকলেন। তাদেরকে শোনালেন গতরাতে তার শোনা আলাপচারিতার কথা।

তারপর বললেনঃ “হে আমার ছেলেরা, আমি চাই তোমাদের কোন একজন এই মেয়েটিকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করুক।

কেননা এর চেয়ে ভালো কোনো পাত্রী আমি তোমাদের জন্য জোগাড় করতে পারবো বলে মনে হয় না।”

একটি ছেলে পিতার প্রস্তাবে রাজী হলো। মেয়েটিও সম্মতি দিল। আর সে খলীফার সম্মানিত পুত্রবধূতে পরিণত হলো।

বর্ণিত আছে যে, পরবর্তীকালে দ্বিতীয় ওমর নামে পরিচিত ও পঞ্চম খোলাফায়ে রাশেদ নামে আখ্যায়িত মহান শাসক ওমর বিন আবদুল আযীয এই মেয়েরই দৌহিত্র ছিলেন।

শিক্ষাঃ এই ঘটনাটি একদিকে যেমন প্রাথমিক যুগের মুসলমানদের সততার এক অত্যুজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তুলে ধরে, অপরদিকে তেমনি মুসলিম নেতৃবৃন্দ সততার কেমন মর্যাদা দিতেন ও কদর করতেন, তাও এ ঘটনা থেকে সুস্পষ্টভাবে জানা যায়।

মনে রাখতে হবে, গুণের কদর দিতে না পারলে সমাজে সদগুণের বিকাশ ঘটা সম্ভব নয়।

You may also like...

Skip to toolbar