সতী নারীর ইজ্জত হরনের চেষ্টা অত:পর যা ঘটল।। ২য় অংশ

তৃতীয় অংশ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

সমুদ্রপথে যাত্রার সময় জাহাজের একটি কক্ষে উভয়ে অবস্থান করে । হঠাৎ একদিন লোকটি মহিলার লাবণ্যময় চেহারা দেখে তার উপর আসক্ত হয়ে পড়ে এবং মহিলাকে কুকর্মে লিপ্ত করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালায় । কিন্তু মহিলা কিছুতেই তার প্রস্তাবে রাজি হয়নি । ঐ জাহাজের পাশের একটি কক্ষে অপর একজন বণিক সফরের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলো । গোলামটি মহিলাকে রাজি করতে না পেরে ক্ষোভে জ্বলে উঠে এবং চক্রান্ত করে লোকটি বলে যে, তার নিকট একজন অপূর্ব সুন্দরী দাসী মজুদ আছে, সে ঐ দাসীকে বিক্রি করবে । বণিক লোকটি মহিলার রূপলাবণ্য দেখে তার উপর আসক্ত হয়ে তাকে খরিদ করে নেয় এবং তার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার জন্য চেষ্টা করে । মহিলা অনেক অনুনয় বিনয় করে বলল যে, আমি তার বাঁদী নই , বরং যে লোক আমাকে বাঁদী বলে বিক্রি করেছে সে-ই আমার কৃতদাস । সে তার মালিকের ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পারায়, তাকে সাজা দিচ্ছিল । আমি ঐ টাকা পরিশোধ করে তাকে মুক্ত করে এনেছি । লোকটি মহিলার কথায় কর্ণপাত না করে পাশবিক অত্যাচার করার জন্য তার উপর ঝাপিয়ে পড়ে ।
আল্লাহর কুদরত বোঝা বড় দায় । এমন সময় সমুদ্র থেকে এমন প্রবল ঘূর্ণিঝড় উঠে ফলে জাহাজ ডুবে যায় । মহিলাটি একটি কাঠের উপর ভাসতে থাকে । কাঠের উপর বসে আল্লাহ তায়ালার ধ্যানে মগ্ন হয়ে যায় এবং সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় আস্তে আস্তে করে সমুদ্রের ওপারে গিয়ে লাগে । যেখানে পৌঁছল সেটি অন্য একটি শহর । এ দুর্ঘটনায় বহুলোক মারা যায় । অনেকের খোঁজও পাওয়া যায়নি । কিন্তু জাহাজের ঐ বণিক লোকটিও কোন রকমে প্রাণে রক্ষা পায় ।

মহিলাটি লোকালয়ে এসে জানতে পারে যে , ঐ দেশের বাদশাহ অত্যন্ত সৎলোক ও আল্লাহভীরু । তখন মহিলাটি মনের মাঝে শান্তি পায় । মহিলাটি বাদশাহর নিকট এসে বলতে থাকে তার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সকল বিপদের কথা । বাদশাহ মনোযোগ সহকারে শুনেন ও তার কষ্টে নিজেও ব্যথিত হন এবং তাকে সান্ত্বনা দেন । মহিলাটিকে নেককার মনে করে শহরের উপকন্ঠে তার জন্য আলাদা করে পর্দা সহকারে একটি ঘর তৈরি করে দেন । মহিলা ঐ গৃহে কায়মনোবাক্যে আল্লাহর ইবাদত- বন্দেগীতে নিয়োজিত রইল ।
কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পর মহিলার দরবেশীর কথা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ল । দুঃখ- দুর্দশায় এবং বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা তার নিকট দল বেঁধে আসতে লাগল । যে কেউ তার নিকট দোয়া চেয়েছে সেই সফলকাম হয়েছে । সে এখন ভাল বুযুর্গ মহিলা হিসাবে সবার কাছে আলোচিত ও প্রশংসিত । এদিকে মহিলার স্বামী হজ্বব্রত পালন করে দেশে প্রত্যাবর্তন করে ঘরে তার স্ত্রীকে না পেয়ে ভাইকে জিজ্ঞাসা করে । ভাই উত্তরে বলল, তুমি হজ্বে চলে যাওয়ার পর তোমার স্ত্রী ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছিল । তাই যিনার অপরাধে তাকে দন্ডিত করে পাথর মেয়ে হত্যা করা হয়েছে । তার সাথে মহল্লার একদল লোকও সাক্ষী দিল । হাজী সাহেব ভাইয়ের কথায় চুপ রইল । কোন রকম প্রতি উত্তর করল না । যে যত কিছুই করুক না কেন , মহান স্রষ্টা আল্লাহ তায়ালা সবকিছুই দেখেন । অত্যাচারীর অত্যাচার , মজলুমের কান্না সবকিছুই দেখেন ও সু-বিচার করে আজাব গজব দিয়ে থাকেন । তেমনি ভাবে ঐ মজলুম মহিলার বিচার আল্লাহ রাব্বুল আলামীন শুরু করে দিয়েছেন । বিভিন্ন গজব তাদেরকে ঘেরাও করতে লাগল । কিছুদিন পর হাজী সাহেবের অত্যাচারী ভাইয়ের চক্ষু অন্ধ হয়ে যায় । তার সাথে যারা সাক্ষী দিয়েছিল তারাও দৃষ্টিহীন হয়ে পড়ে । দেশের খ্যাতিসম্পন্ন ডাক্তার দিয়ে তাদের চিকিৎসা করায়, কিন্তু কোন কাজ হচ্ছে না । তাদেরকে বিদেশে নিয়েও বিখ্যাত ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করানো হয় । তাতেও তারা ব্যর্থ হয়, রোগীর কোন উন্নতি হয়নি দেখতে পায়নি দুনিয়ার কোন কিছুই । আসলে পাপের গজবের রোগী কি ঔষধে ভাল হয় । অবশেষে তারা হতাশ হয়ে দেশে ফিরে আসে । এই অবস্থায়ই তাদের দিনগুলো কাটতে থাকে ।

তৃতীয় অংশ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

You may also like...

Skip to toolbar