সতী নারীর ইজ্জত হরনের চেষ্টা অত:পর যা ঘটল।। ৩য় অংশ

প্রথম অংশ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

এদিকে হাজী সাহেব পার্শ্ববর্তী দেশের জনৈক মহিলার দরবেশীর কথা ও দোয়া কবুল হওয়ার সংবাদ জানতে পারে । তাই কালবিলম্ব না করে তার ভাই ও সকল অন্ধ লোকদের সাথে নিয়ে ঐ দরবেশ মহিলার নিকট যাওয়ার জন্য যাত্রা করে ।

পথে সাক্ষাত হল ঐ লোকের সাথে যে গৃহস্বামীর যুবতী কন্যাকে ঐ সুন্দরী মহিলা মনে করে হত্যা করেছিল । সেও অর্ধাঙ্গ রোগে মুমূর্ষ অবস্থায় পৌঁছেছিল । সেও দেশের ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করতে কোন রকম ত্রুটি করেনি । কিন্তু তাদের মতই ব্যর্থ হয়েছে । সেতো একই পাপের পাপী । সেও এখন দোয়ার জন্য মহিলা দরবেশ-এর কাছে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল । সুতরাং হাজী সাহেব তাকেও সাথে নিয়ে নেয় । আরো কিছুদূর যাওয়ার পর দেখা গেল আরেকটি লোকের সাথে । জানেন পাঠক মন্ডলী সেই ব্যক্তি কে ? সে আর কে হবে , যে লোকটির শুলীবিদ্ধ হয়ে জীবনের সমাপ্তি ঘটেছিল । সে ঐ বিশ্বাসঘাতক অত্যাচারী লোক । সে ক্যান্সার রোগের গজবে ভুগছে। সেও মহিলার নিকট রোগমুক্তির দোয়ার জন্য গমনের অপেক্ষা করছিল । তখন হাজী সাহেবকে বলল- আপনাদের সাথে আমিও যাব দোয়ার জন্য । হাজী সাহেব তাকেও সাথে নিলেন । দরবেশ মহিলার দেশে যাওয়ার জন্য একটি সমুদ্র পাড় হচ্ছে । জাহাজের মধ্যে যে বণিক লোকটি ঐ মহিলার সাথে কুকর্ম করতে চেয়েছিল । ঐ বণিক লোকটিও এখন বেঁচে আছে পঙ্গু অবস্থায় । সমুদ্র পাড় হয়ে হাজী সাহেবদের সাক্ষাৎ হল ঐ পঙ্গু লোকটির সাথে । তাদের যাত্রার উদ্দেশ্যের কথা জিজ্ঞেস করলে তারা বলে, আমরা দোয়ার জন্য যাচ্ছি আপনাদের দেশের দরবেশ মহিলার কাছে । পঙ্গু লোকটি বলল-আমিও দোয়ার জন্য মহিলার নিকট যাওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি ।
হাজী সাহেব সবাইকে সাথে নিয়ে গন্তব্যস্থানে পৌঁছে গেল । মহিলা সেই রোগাক্রান্ত লোকদেরকে দেখে চিনে ফেলল এবং মহিলা পর্দার ভিতর থেকে বলল-তোমরা চিন্তা করে দেখেছ তোমাদের এমন অবস্থা কেন হয়েছে ? সত্যি কি রোগ, না আল্লাহর গজব ? তোমরা গভীরভাবে খেয়াল করে দেখ অতীতের পাপের কথা । তোমরা সকলে নিজ নিজ অপরাধের কথা আমার সামনে স্বীকার কর । তাহলে তোমাদের জন্য দোয়া করা হবে । এখানে রোগাক্রান্ত লোকেরা মহিলাকে দেখেনি বিধায় তাকে চিনতেও পারেনি । তাই মহিলার এ প্রস্তাবে তারা অসম্মতি জানায় । কিন্তু মহিলাও আরো দৃঢ়ভাবে জানিয়ে দিল যে যতক্ষণ নিজ নিজ অপরাধের কথা স্বীকার না করবে , ততক্ষণ দোয়াও করা হবে না । এখন তো তারা উপায়হীন । কাজেই তারা মহিলার কাছে কৃত অপরাধের কথা একের পর এক স্বীকার করতে লাগল । এদিকে মহিলা তার স্বামী হাজী সাহেবকে দেখামাত্রই চিনতে পারল । তাই সে পর্দার আড়াল থেকে বের হয়ে তার স্বামীর সাথে সাক্ষাৎ করল । হাজী সাহেব তাকে দেখামাত্রই অবাক হয়ে বলল- তুমি বেঁচে আছ ? মহিলাটি বলল- হ্যাঁ, আমি বেঁচে আছি বলে শুরু করল তার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া লোমহর্শক ঘটনাগুলোর বর্ণনা। হাজী সাহেবের চক্ষু দিয়ে তখন তপ্তঅশ্রু ঝরছে। মহিলা সাথে সাথে একথাও জানিয়ে দিল যে, ঐ রোগাক্রান্ত লোকেরাই তার শ্লীতাহানির অপচেশটা চালায়। তখন হাজী সাহেব তাদের প্রতি ক্ষেপে যায়। মহিলা হাজী সাহেবকে সান্ত্বনা দেয় যে তাদের পাপের জন্য নিজেরাই এখন ভুগছে, আমাদের কিছু করতে হবে না। আল্লাহ তায়ালা নিজেই তাদের বিচার করেছেন। উপযুক্ত শ্বাস্তি দিয়েছেন। যা হোক, মহিলাআ লোকদেরকে বলল, তোমরাআ প্রত্যেকে নিজ নিজ কৃত অপরাধের জন্য তওবা কর এবং আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাও। আল্লাহ হয়তো তোমাদের ক্ষমা করে দিবেন। আমার পক্ষ থেকে তোমাদেরকে মাফ করে দিলাম। একথা বলে মহিলা তাদের জন্য দোয়া করলেন। তারা আল্লাহ তায়ালের মেহেরবানীতে রোগ থেকে মুক্তি পেল।

প্রথম অংশ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

You may also like...

Skip to toolbar