সতী নারীর ইজ্জত হরনের চেষ্টা অত:পর যা ঘটল।। ১ম অংশ

দ্বিতীয় অংশ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

বর্ণিত আছে যে, বনী ইসরাঈলের একজন বণিক লোক হজ্জ্বে যাওয়ার সময় তার স্ত্রীকে ভাইয়ের গৃহে রেখে যায় । ক’দিন পর সে মহিলাকে তার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার জন্য প্রস্তাব দেয়। মহিলা তার এ প্রস্তাবে অসম্মতি জানায় । সে অনেক জবরদস্তি করেও মহিলাকে অপকর্মে রাজি করতে পারেনি । এ দিকে শয়তানও বসে নেই । একদিন শয়তান মানুষ বেশে সেই লোকের কাছে এসে কু-কর্মে প্রলুব্ধ করে এবং তাকে এই পরামর্শ দেয় যে ‘‘ যদি মহিলা তার মনের চাহিদা মেটাতে অসম্মতি জানায়, তবে তার উপর যিনার অপবাদ দিয়ে যেন প্রস্তরঘাত করে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করে ।’’
শয়তানের প্রলোভনে সে পুনরায় মহিলার নিকট কুকর্মের প্রস্তাব দেয় এবং তার প্রস্তাবে সম্মতি না দিলে তার পরিণতি যে ভয়াবহ হবে,সে কথাও তাকে জানিয়ে দেয় । কিন্তু তাতেও মহিলা রাজি হল না । সুতরাং পাষন্ড লোকটি মহিলার উপর ব্যভিচারের অপবাদ আরোপ করে পাথর মেরে হত্যা করার জন্য মহল্লার লোকদের কে নির্দেশ দেয় । লোকজনেরা মহিলাকে নিয়ে দূরে এক জঙ্গলে প্রস্তরঘাত করে এবং মহিলার মৃত্যু নিশ্চিত মনে করে জঙ্গলে এক পাশে ফেলে চলে আসে ।

কিছুক্ষণ পর এক পথিক জঙ্গলের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল । সে জঙ্গল থেকে মানুষের কান্নার আওয়াজ শুনতে পেয়ে নিকটে গিয়ে সেই মহিলার হাত – পা খুলে মহিলাকে তার গৃহে নিয়ে আসে । ঐ রাতে লোকটির ঘরে একজন মেহমানের আগমন হয় । মেহমান ঐ সুন্দরী মহিলাকে দেখা মাত্রই তার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে । রাত যখন গভীর হয় এবং পাশের লোকেরা গভীর নিদ্রায় বিভোর হয় , তখন আগন্তক মেহমান গৃহস্বামীর যুবতী কন্যাকে ঐ মহিলা মনে করে তার উপর অপকর্মের জন্য চড়াও হয় । কিন্তু অনেক চেষ্টার পরও যখন কুকর্মে রাজি করতে না পেরে মেয়েটিকে হত্যা করে ।

প্রত্যুষে ঘুম থেকে উঠে গৃহস্বামী ও তার স্ত্রী মনে করল , এ জঘন্যতম হত্যাকান্ডটি ঐ মহিলাই ঘটিয়েছে । সুতরাং তার স্ত্রী মহিলার উপর ক্রোধান্বিত হয়ে তার উপর শুরুকরে মারপিটের ঘূর্ণিঝড় । আধমরা করে ঘর থেকে তাড়িয়ে দেয় । মহিলাটি ঘর থেকে বের হয়ে অজানা পথের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয় ।

সে এখন বিষন্ন মনে হেঁটে চলছিল আর নিজের অসহায়ত্বের কথা ভেবে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছিল । কিছুদূর পথ অতিক্রম করার পর হঠাৎ সে দেখল , জনৈক লোককে তার ঋণের টাকা পরিশোধ করতে অপরাগ হওয়ায় মালিক তাকে শুলিতে চড়িয়ে হত্যা করতে প্রস্তুত । মহিলা লোকটির অসহায়ত্ব দেখে লোকটির প্রতি তার করুণা হল , তার কাছে কিছু টাকা ছিল তা দিয়ে লোকটির ঋণের টাকা পরিশোধ করে তাকে মালিক থেকে মুক্ত করে দেয় । এতে লোকটি মহিলার নিকট অতিশয় কৃতজ্ঞ হয়ে পড়ে এবং তার বিনিময়ে সে মহিলার নিকট গোলাম হয়ে থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে । তবে শয়তান ঘাড়ে সাওয়ার হলে সব উপকার প্রতিশ্রুতি ভুলে যায় । তেমনি হয়েছিল তার বেলায়ও । মহিলা তার প্রতিশ্রুতিতে রাজি হয়ে পথের সফরে লোকটিকে সাথে নিয়ে চলে ।

দ্বিতীয় অংশ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

You may also like...

Skip to toolbar