সফল জীবন।। ২য় অংশ

প্রথম অংশ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

সাহাবীরা (রা) ছিলেন তার সামনে রাসূলের (সা) জীবন্ত প্রতিনিধি।

প্রকৃত অর্থে একজন ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত ব্যক্তির মতই তিনি সাহাবীদের (রা) কাছ থেকে আহরণ করেছেন জ্ঞান ও আত্মার খোরাক।

কী চমৎকার এক নিদর্শন!

যারা রাসূলকে (সা) দেখেনি, তারা ইবন মাসউদকে দেখেই রাসূলের স্বভাব ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা নিতে পারতো।

আবার যারা ইবন মাসউদকে দেখেনি, তারা আলকামাকে দেখে রাসূল (সা) ও ইবন মাসউদের চরিত্র-বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অনেক বেশি অবগত হতে পারতো। এটা নিশ্চয়ই কম কথা নয়।

আলকামার এই স্বভাব চরিত্র যেমন ছিল তার হৃদয়ে, তেমনি ছিল তার চাল-চলনে ও নৈমিত্তিক যাপিত জীবনে।

আলকামা আল কুরআনকে তার প্রতিটি কাজের বাহনে রূপ দিয়েছিলেন। ঠিক সেইভাবে রাসূলের (সা) আদর্শকেও জীবনের সকল ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতেন।

জ্ঞঅন চর্চার পাশাপাশি আলকামা ছিলেন জিহাদের ব্যাপারেও সমান সতর্ক। জিহাদের জন্য তিনি ছিলেন পিপাসায় কাতর।

তার ভেতরে ছিল এক সাহসের ফুলকি।

ছিল সমুদ্রে মত গর্জনমুখর।

সেই গর্জন কেবলি ফুঁসে উঠতো তার মধ্যে।

হিজরি বত্রিশ সন।

আমীর মুয়াবিয়ার  সময়কাল।

সামনে কনস্টান্টিনোপল অভিযান সম্পর্কে রাসূলের (সা) একটি ভবিষ্যৎ বাণী ছিল।

এই বাহিনীতে যোগ দিলেন আলকামা।

বাহিনীর সবাই বিজয়ের অংশীদার ও সাক্ষী হওয়ার জন্য শাহাদাতের প্রবল প্রেরণায় ছিলেন উজ্জীবিত।

আর আলকামা?

তিনি তো শহীদি জীবনকে কামনা করেন সর্বক্ষণ।

শুরু হলো জিহাদের যাত্রা। সে ছিল এক দুঃসাহসী অভিযান।

বাহিনীর সবাই প্রাণবন্ত।

একজন মুজাহিদ। নাম ‍মুদিদ। তিনি একটি কিল্লার ওপর আক্রমণের সময় মাথায় বাঁধার জন্য চেয়ে নিলেন আলকামার চাদরটি।

মুজাহিদটি শহীদ হলেন এক পর্যায়ে।

আলকামার চাদরটিও হয়ে উঠলো শহীদের রক্তে লালে লাল!

এই রক্তে রাঙা চাদরটিকে আলকামা অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে কাঁধে ঝুলিয়ে রাখতেন।

যেতেন জুমআর নামাজেও।

বলতেন, ‘আমি এই চাদরটি আমা কাঁধে এজন্য ঝুলিয়ে রাখি যে, এতে একজন শহীদের খুনের স্পর্শ আছে।’

আহ! কী মমতাভরা উচ্চারণ তার!

এত বড় একজন জ্ঞানী তাবেঈ। কত তার মর্যাদা!

অথচ তিনি খ্যাতি থেকে তিনি সর্বদা নিজেকে দূরে রাখতেন। গুটিয়ে রাখতেন নিজেকে। মনে-প্রাণে তিনি এটাকে ঘৃণা করতেন। এজন্য এড়িয়ে চলতেন সম্ভাব্য খ্যাতি ও প্রাচারণার পথগুলো।

হযরত আলকামা!

কী অসাধারণ ছিল তার শিক্ষা ও জ্ঞানের বহর!

কী অসাধারণ ছিল তার মানসিক ও নৈতিম শক্তি।

সন্দেহ নেই, এমন ব্যক্তিই তো আল্লাহর পছন্দ। পছন্দ রাসূলেরও (সা)। প্রকৃত অর্থে, আল্লাহ এবং রাসূলকে (সা) ভালবেসে সাহসের পর্বতে সুদৃঢ়ভাবে অবিচল থাকতে পারলেই কেবল অর্জন করা যায় হযরত আলকামা (রহ) মত সফল জীবন।

প্রথম অংশ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

You may also like...

Skip to toolbar