সম্পদ সঞ্চয় ও সংরক্ষণের মাসায়েল-মাওলানা মুহাম্মদ হেমায়েত উদ্দিন

• জরূরি দায়িত্ব আদায় করার পর সাধারন অবস্থায় নিজের এবং নিজের সন্তানাদি ও পরিবারের জন্য কিছুটা সঞ্চয় রাখা উত্তম, যাতে পরে নিজেকে ও নিজের সন্তানাদিকে অন্যের কাছে হাত পাততে না হয়।
• সুদভিত্তিক ব্যাংকে টাকা রাখা জায়েয নয়। কারন, এতে সুদভিত্তিক কারবারের অন্যায়ে সহযোগিতা করা হয়। তবে আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকলে বা অনন্যাপায় অবস্থায় সম্পদ সংরক্ষণের স্বার্থে রাখার অনুমতি রয়েছে।
• ব্যাংকের সুদের টাকা ব্যাংকে ছেড়ে দিয়ে আসা অন্যায়। কেননা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এটাকে সঠিক খাতে এবং মাসআলা অনুযায়ী ব্যয় করবে না। বরং নিয়ম হল এ টাকা তুলে এনে গরীব মিসকীনদের মধ্যে ছওয়াবের নিয়ত ছাড়া বন্টন করে দেয়া।
• ব্যাংকের সুদের টাকা জনকল্যানমূলক কাজে ব্যয় করা যায় না। (যেমনঃ রাস্তা-ঘাট নির্মান, মুসাফিরখানা নির্মান ইত্যাদি) বরং গরীব-মিসকীনকে প্রদান করতে হবে।
• বর্তমানে প্রচলিত ‘বীমা’ সুদ ও জুয়ার সমষ্টি বিধায় তা করানো জায়েয নয়। তবে আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকলে ভিন্ন কথা। জীবন বীমা করানো হলে বীমার মূল অর্থ মালিক বা তার ওয়ারিছগণ ভোগ করবে। বাকিটা সুদের অর্থের ন্যায় সদকা করে দেয়া ওয়াজিক।
• সম্পদ সংরক্ষনের স্বার্থে চোর, ডাকাত প্রভৃতির নিকট সম্পদের কথা অস্বীকার করা জায়েয, এতে মিথ্যার আশ্রয় নিলে গোনাহ হবে না। তবে এরূপ ক্ষেত্রে সরাসরি মিথ্যা না বলে ঘুরিয়া ফিরিয়ে বলাই শ্রেয়।
• সম্পদ রক্ষার স্বার্থে কেউ নিহত হলে সে শাহাদাতের ছওয়াব লাভ করবে।
আল্লাহ আমাদেরকে আমল করার তৌফিক দান করুন।
সূত্রঃ আহকামে যিন্দেগী

You may also like...

Skip to toolbar