সালামের প্রচলন ।। বুখারী হাদিস (২৪-২৬)

আরো বুখারী শরীফের হাদিস পড়তে এখানে ক্লিক করুন

হাদিস ২৭

কুতায়বা (রঃ) ……… আবদুল্লাহ ইব্ন ‘আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)কে জিজ্ঞাসা করল, ‘ইসলামের কোন্ কাজ সবচাইতে উত্তম?’ তিনি বললেনঃ তুমি লোকদের আহার করাবে এবং পরিচিত-অপরিচিত নির্বিশেষে সকলকে সালাম করবে।

হাদিস ২৮

আবদুল্লাহ ইব্ন মাসলামা (রঃ) ……….. ইব্ন ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ আমাকে জাহান্নাম দেখানো হয়। (আমি দেখি), তার অধিবাসীদের অধিকাংশই স্ত্রীলোক; (কারন) তারা কুফরী করে। জিজ্ঞাসা করা হল, ‘তারা কি আল্লাহর সঙ্গে কুফরী করে?’ তিনি বললেনঃ ‘তারা স্বামীর অবাধ্য হয় এবং ইহসান অস্বীকার করে।’ তুমি যদি দীর্ঘকাল তাদের কারো প্রতি ইহসান করতে থাক, এরপর সে তোমার সামান্য অবহেলা দেখলেই বলে, ‘আমি কখনো তোমার কাছ থেকে ভালো ব্যবহার পাইনি।’

হাদিস ২৯

‘আবদুর রহমান ইব্নুল মুবারক (রঃ) ………. আহনাফ ইব্ন কায়স (রঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি (সিফফীনের যুদ্ধে) এ ব্যক্তিকে [আলী (রাঃ)-কে] সাহায্য করতে যাচ্ছিলাম। আবূ বাকরা (রা)-এর সাথে আমার সাক্ষাত হলে তিনি বললেনঃ ‘তুমি কোথায় যাচ্ছে?’ আমি বললাম, ‘আমি এ ব্যক্তিকে সাহায্য করতে যাচ্ছি।’ তিনি বললেনঃ ‘ফিরে যাও। কারন আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)কে বলতে শুনেছি যে, দু’জন মুসলমান তাদের তরবারি নিয়ে মুখোমুখি হলে হত্যাকারী এবং নিহত ব্যক্তি উভয়ে জাহান্নামে যাবে।’ আমি বললাম, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ! এ হত্যাকারী (তো অপরাধী), কিন্তু নিহত ব্যক্তির কি অপরাধ? তিনি বললেন, (নিশ্চয়ই) সে তার সঙ্গীকে হত্যা করার জন্য উদগ্রীব ছিল।’

হাদিস ৩০

সুলায়মান ইব্ন হারব (রঃ) …….. মা’রূর (রঃ) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ আমি একবার রাবাযা নামক স্থানে আবূ যর (রাঃ) এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম। তখন তাঁর পরনে ছিল এক জোড়া কাপড় (লুঙ্গি ও চদর) আর তাঁর চাকরের পরনেও ছিল ঠিক একই ধরনের এক জোড়া কাপড়। আমি তাঁকে এর (সমতার) কারন জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেনঃ একবার আমি এক ব্যক্তিকে গালি দিয়েছিলাম এবং আমি তাকে তার মা সম্পর্কে লজ্জা দিয়েছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ ‘আবু যর! তুমি তাকে তার মা সম্পর্কে লজ্জা দিয়েছ? তুমি তো এমন ব্যক্তি, তোমার মধ্যে এখনো জাহিলী যুগের স্বাভাব রয়েছে। জেনে রেখো, তোমাদের দাস-দাসী তোমাদেরই ভাই। আল্লাহ তা’আলা তাদের তোমাদের অধীনস্থ করে দিয়েছেন। তাই যার ভাই তার অধীনে থাকবে, সে যেন নিজে যা খায় তাকে তা-ই খাওয়ায় এবং নিজে যা পরে, তাকে তা-ই পরায়। তাদের উপর এমন কাজ চাপিয়ে দিও না, যা তাদের জন্য খুব কষ্টকর। যদি এমন কষ্টকর কাজ করতে দাও, তাহলে তোমরাও তাদের সে কাজে সাহায্য করবে।

আরো বুখারী শরীফের হাদিস পড়তে এখানে ক্লিক করুন

You may also like...

Skip to toolbar