সীমাহীন বৈরিতার সীমিত শাস্তি

মদীনায় হিজরতের পর মুসলমানদের বিরুদ্ধে ইহুদীরা বার বার বিশ্বাসঘাতকতা করছে।

নানরকম ষড়যন্ত্র তারা অবিরাম করে গেছে। খন্দক যুদ্ধের আয়োজন প্রকৃতপক্ষে তারাই করেছিল।

আরবের দশ হাজার সৈন্য তার ডেকে এনেছিল মুসলমানদের ধ্বংসের জন্যেই।

সে আয়োজন যখন ব্যর্থ হলো, তখন খায়বরকে কেন্দ্র করে অন্যান্য গোত্রের সাহায্য নিয়ে নিজেরাই মদীনা থেকে মুসলমানদের মুছে ফেলার আয়োজন করেছিল।

কিন্তু খায়বর যুদ্ধেও তার পরাজিত হলো। জাগতিক নিয়মে এবং তদানীন্তন করা, তাদের সক্ষম পুরুষদের হত্যা করা এবং অন্যান্যদের দাসে পরিণত করা।

কিন্তু মহানবী (সাঃ) ইহুদীদের সাথে যে ব্যবহার করলেন তখন পর্যন্ত জগতের ইতিহাসে তার কোন তুলনা ছিল না।

যুদ্ধ শেষে মহানবী (সাঃ) ঘোষণা করলেন:

(ক) ইহুদীরা আগের মতই স্বাধীনভাবেই ধর্ম-কর্ম পালন করতে পারবে। কেউ কোন প্রকার বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারবে না।

(খ) তাদেরকে কোন যাকাত, ওশর দিতে হবে না, যা মুসলমানরা দিয়ে থাকে।

(গ) তাদেরকে মুসলমানদের পক্ষে যুদ্ধে যেতে বাধ্য করা হবে না।

(ঘ) তাদের কতকগুলো দুর্গের স্বর্ণ ও রৌপ্য স্পর্শ কর হবে না।

(ঙ) তাদের কতকগুলো দুর্গের স্বর্ণ ও রৌপ্য স্পর্শ করা হবে না।

(চ) তবে দেশের সমস্ত জমির মালিকানা মদীনা রাষ্ট্রের অধীন থাকবে। জনগণ জমির শস্যের একটা ভাগ মদীনার সরকারকে দেবে এবং

(ছ) ভাগ আগের মতই অর্ধাংশ হবে।

এই ঘোষণা যখন হলো, তখন ইহুদীদেরই চোখ বিস্ময়ে বিস্ফারিত হল।

তাদের সীমাহীন বৈরিতার বিনিময়ে এই বদন্যতা পাবে, কল্পনাও করতে পারেনি তারা।

You may also like...

Skip to toolbar