সূরা আল মায়িদাহ-নামকরণ ও নাযিলের সময়কাল

 নামকরণ 

এ সূরার ১৫ রুকূর একটি আয়াতে উল্লেখিত ‘মায়িদাহ’ শব্দ থেকে এ নামকরণ করা হয়েছে।

মায়িদাহ শব্দের অর্থ ‘খাবার টেবিল’ বা ‘এমন একটি টেবিল যাতে খাবার পরিবেশিত আছে’।

কুরআনের অধিকাংশ সূরার নামের মতো এ সূরার নামের সাথেও এর আলোচ্য

বিষয়বস্তুর তেমন কোন সম্পর্ক নেই।

নিছক অন্যান্য সূরা থেকে আলাদা হিসেবে চিহ্নিত করার জন্যই একে এ নামে অভিহিত করা হয়েছে।

নাযিলের সময়-কাল

হুদাইবিয়ার সন্ধির পর ৬ হিজরীর শেষের দিকে অথবা ৭ হিজরীর প্রথম দিকে এ সূরাটি নাযিল হয়।

সূরায় আলোচ্য বিষয় থেকে একথা সুস্পষ্ট হয় এবং হাদীসের বিভিন্ন বর্ণনাও এর সত্যতা প্রমাণ করে।

ষষ্ঠ হিজরীর যিলকদ মাসের ঘটনা ।

চৌদ্দশ, মুসলমানকে সাথে নিয়ে নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) উমরাহ সম্পন্ন করার জন্য মক্কায় উপস্থিত হয়েছেন।

কিন্তু কুরাইশ কাফেররা শক্রতার বশবর্তী হয়ে আরবের প্রাচীনতম ধর্মীঁয় ঐতিহ্যের সম্পূর্ণ

বিরুদ্ধাচরণ করে তাঁকে উমরাহ করতে দিল না।

অনেক তর্ক বিতর্ক ও বাদানুবাদের পর তারা এতটুকু মেনে নিল যে,

আগামী বছর আপনারা আল্লাহর ঘর যিয়ারত করার জন্য্য আসতে পারেন।

এ সময় একদিকে মুসলমানদেরকে কাবাঘর যিয়ারত করার উদ্দেশ্যে সফর করার নিয়ম

কানুন বাতলে দেবার প্রয়োজন ছিল, যাতে পরবর্তী বছর পূর্ণ ইসলামী শান

শওকতের সাথে উমরাহর সফর করা যায় এবং অন্য দিকে

তাদেরকে এ মর্মে ভালভাবে তাকীদ করারও প্রয়োজন ছিল যে,

কাফের শক্র দল তাদের উমরাহ করতে না দিয়ে যে বাড়াবাড়ি করেছে তার জবাবে তারা

নিজেরা অগ্রবর্তী হয়ে যেন আবার কাফেরদের ওপর কোন অন্যায় বাড়াবাড়ি ও জুলুম না করে বসে।

কারণ অনেক কাফের গোত্রকে হজ্জ সফরের জন্য মুসলিম অধিকারভুক্ত এলাকার মধ্য দিয়ে যাওয়া আসা করতে হতো।

মুসলমানদেরকে যেভাবে কাবা যিয়ারত করতে দেয়া হয়নি সেভাবে তারাও এ ক্ষেত্রে

জোর পূর্বক এসব কাফের গোত্রের কাবা যিয়ারতের পথ বন্ধ করে দিতে পারতো।

এ সূরার শুরুতে ভূমিকাস্বরূপ যে ভাষণটির অবতারণা করা হয়েছে সেখানে এ প্রসংগই আলোচিত হয়েছে।

সামনের দিকে তের রুকূতে আবার এ প্রসংগটি উত্থাপিত হয়েছে।

এ থেকে প্রমাণ হয় যে, প্রথম রুকূ থেকে নিয়ে চৌদ্দ রুকূ পর্যন্ত একই ভাষণের ধারাবাহিকতা চলছে।

এ ছাড়াও এ সূরার মধ্যে আর যে সমস্ত বিষয়বস্তু আমরা পাই তা সবই একই সময়কার বলে মনে হয়।

বর্ণনার ধারাবাহিকতা দেখে মনে হয় এ সমগ্র সূরাটি একটি মাত্র ভাষণের অন্তরভুক্ত

এবং সম্ভবত এটি একই সংঙ্গে নাযিল হয়েছে।

আবার এর কোন কোন আয়াত পরবর্তীকালে পৃথক পৃথকভাবে নাযিল

হতেও পারে এবং বিষয়বস্তুর একাত্মতার কারণে সেগুলোকে এ সূরার

বিভিন্ন স্থানে জায়গা মতো জুড়ে দেয়া হয়েছে।

কিন্তু বর্ণনার ধারাবাহিকতার মধ্যে কোথাও সামান্যতম শূন্যতাও অনুভূত হয় না।

ফলে একে দুটি বা তিনটি ভাষণের সমষ্টি মনে করার কোন অবকাশ নেই।

সূরা আল মায়িদার নাযিলের উপলক্ষ জানতে এখানে ক্লিক করুন

You may also like...

Skip to toolbar