সূরা আল মায়িদার আলোচ্য বিষয়সমূহ

নিম্নলিখিত তিনটি বড় বড় বিষয় এ সূরাটির অন্তর্ভুক্তঃ

১. মুসলমানদের ধর্মীয়, তামাদ্দুনিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কে আরো কিছু বিধি নির্দেশ।
এ প্রসংগে হজ্জ সফরের রীতি-পদ্ধতি নির্ধারিত হয়। ইসলামী নিদর্শনগুলোর
প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং কাবা যিয়ারতকারীদেরকে কোন প্রকার বাধা না দেবার হুকুম দেয়া হয়।
পানাহার দ্রব্য সামগ্রীর মধ্যে হালাল ও হারামের চূড়ান্ত সীমা প্রবর্তিত হয়।
জাহেলী যুগের মনগড়া বাধা নিষেধগুলো উঠিয়ে দেয়া হয়।
আহলী কিতাবদের সাথে পানাহার ও তাদের মেয়েদের বিয়ে করার অনুমতি দেয়া হয়।
অযু, গোসল ও তায়াম্মুম করার রীতি পদ্ধতি নির্ধারিত হয়।
বিদ্রোহ ও অরাজকতা সৃষ্টি এবং চুরি-ডাকাতির শাস্তি প্রবর্তিত হয়।
মদ ও জুয়াকে চূড়ান্তভাবে হারাম ও নিষিদ্ধ করা হয়।
কসম ভাঙার কাফ্‌ফারা নির্ধারিত হয়।
সাক্ষ প্রদান আইনের আরো কয়েকটি ধারা প্রবর্তন করা হয়।
২. মুসলমানদেরকে উপদেশ প্রদান।
এখন মুসলমানরা একটি শাসক গোষ্ঠীতে পরিণত হয়ে যাওয়ায় তাদের হাতে ছিল শাসন শক্তি।
এর নেশায় বহু জাতি পথভ্রষ্ট হয়।
মজলুমীর যুগের অবসান ঘটতে যাচ্ছিল এবং তার চাইতে অনেকে বেশী কঠিন
পরীক্ষার যুগে মুসলমানরা পদার্পণ করেছিল।
তাই তাদেরকে সম্বোধন করে বারবার উপদেশ দয়া হয়েছেঃ ন্যায়, ইনসাফ ও ভারসাম্যের নীতি অবলম্বন করো।
তোমাদের পূর্ববর্তী আহ্‌লী কিতাবদের মনোভাব ও নীতি পরিহার করো।
আল্লাহর আনুগত্য এবং তাঁর হুকুম ও আইন কানুন মেনে
চলার যে অংগীকার তোমরা করেছো তার ওপর অবিচল থাকো।
ইহুদী ও খৃস্টানদের মতো তার সীমালংঘন করে তাদের মতো
একই পরিণতির শিকার হয়ো না।
নিজেদের যাবতীয় বিষয়ের ফায়সালার জন্য কিতাবের অনুসরণ করো।
মুনাফিকী নীতি পরিহার করো।
৩. ইহুদী ও খৃস্টানদেরকে উপদেশ প্রদান।
এ সময় ইহুদীদের শক্তি খর্ব হয়ে গেছে।
উত্তর আরবের প্রায় সমস্ত ইহুদী জনপদ মুসলমানদের পদানত।
এ অবস্থায় তাদের অনুসৃত ভ্রান্ত নীতি সম্পর্কে তাদেরকে আর
একবার সর্তক করে দেয়া হয়। তাদেরকে সত্য-সঠিক
পথে আসার দাওয়াত দেয়া হয়।
এ ছাড়া যেহেতু হোদায়বিয়ার চুক্তির কারণে সমগ্র আরবে
ও আশপাশের দেশগুলোয় ইসলামের দাওয়াত প্রচারের সুযোগ
সৃষ্টি হয়ে গিয়েছিল তাই খৃস্টানদেরকেও ব্যাপকভাবে সম্বোধন
করে তাদের বিশ্বাসের ভ্রান্তিগুলো জানিয়ে দেয়া হয় এবং
শেষ নবীর প্রতি ঈমান আনার জন্য তাদেরকে আহবান জানানো হয়।
যেসব প্রতিবেশী দেশে মূর্তিপূজারী ও অগ্নি উপাসক জাতির বসবাস ছিল
সেসব দেশের অধিবাসীদেরকে সরাসরি সম্বোধন করা হয়নি।
কারণ ইতিপূর্বে তাদের সমমনা আরবের মুশরিকদেরকে সম্বোধন
করে মক্কায় যে হেদায়াত নাযিল হয়েছিল তা-ই তাদের জন্য যথেষ্ট ছিল।

সূরা আল-মায়িদার নামকরণ সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

You may also like...

Skip to toolbar