সোনার মখমল।। ১ম অংশ

দ্বিতীয় অংশ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

এক দুঃসাহসী সাহাবীর নাম- আবু লুবাবা।

রাসূলের (সা) সাথে অধিকাংশ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন আবু লুবাবা। বদর যুদ্ধের সময় তিনি বিশেষভাবে সম্মানও লাভ করেন। বদর যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত মুসলিম বাহিনী।

যুদ্ধের মহান সেনাপতি স্বয়ং রাসূলে করীম (সা)। সৈনিকের চেয়ে বাহনের সংখ্যা কম।

রাসূল (সা) এখানেও দেখালেন সমত ও মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

রাসূলের (সা) উটের ওপরও তিনজন সওয়ারী।

রাসূল (সা) ছাড়াও তাঁর উটে হওয়ার হলেন আবু লুবাবা ও আলী (রা)।

তাঁরা পালা করে উটের পিঠে ওঠানাম করছিলেন। রাসূল (সা) ও আলী যখন উটের পিঠে, তখন রশি হাতে হেঁটে চলছেন আবু লুবাবা।

এইভাবেই চলছে।

পথ অতিক্রম করছেন সত্যের মুজাহিদ।

এক সময় পালা এলো রাসূলের (সা)। উটের পিঠে বসবেন আবু লুবাবা এবং আলী (রা)।

আর রশি হাতে হেঁটে চলবেন স্বয়ং সেনাপতি রাসূল (সা)।

এতে রাসূল (সা) খুশি হলেও কেঁদে উঠলো আবু লুবাবার কোমল হৃদয়। কেঁদে উঠলো তার বিবেক। তিনি আরজ করে বিনয়ের সাথে বললেন, হে রাসূল (সা)! দয়ার নবীজী আমার! দয়া করে আপনি উটের পিঠে বসুন। আমি রশি হাতে হেঁটে চলি।

রাসুল (সা) শুনলেন আবু লুবাবার কথা। একটু হাসলেণ। তারপর বললেন, তোমরা আমার চেয়েও বেশি শক্তিশালী নও। আর এমনও নয় যে, তোমাদের চেয়ে আমার বেশি সওয়াবের প্রয়োজন নেই। অতএব তোমরা দু’জন উটের পিঠে বসো। আর আমি রশি হাতে হেঁটে চলি।

এই হলো দয়ার নবীজীর (সা) সাম্য ও ভ্রতৃত্বের নমুনা।

এই হলো রাসূলের (সা) মানবতাবোধ। পৃথিবীর এমন কোনো শাসক, সেনাপতি কিংবা নেতা নেই, যিনি রাসূলের (সা) চেয়ে বেশি মানবতা প্রদর্শনে সক্ষম হয়েছেন।

আবু লুবাবা নিজের জীবনের চেয়েও অধিক ভালোবাসতেন রাসূলকে (সা)। তাঁকে ভালবাসতেন পৃথিবর সকল কিছুর বিনিময়ে। রাসূল (সা) ঠিক তেমনি মহব্বত করতেন আবু লুবাবা- এই সত্যের সৈনিককে।

এজন্য হিজরি দ্বিতীয় সনের শাওয়াল মাসে মদিনার ইহুদি গোত্র বনু কায়নুকার সাথে সংঘটিত যুদ্ধে এবং একই সনের জিলহজ্জ মাসে সংঘটিত ‘সাবীক’ যুদ্ধে আবু লূবাবা যোগদান করতে পারেননি।

কারণ এই সময় রাসূল (সা) তাকে মদিনায় স্থলাভিষিক্ত করেন।

রাসূল (সা) পনের দিন যাবত বনু কায়নুকা অবরোধ করে রাখেন।

এই সময় আবু লূবাবা মদিনায় ইমারাত বা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেন।

রাসূলের (সা) পক্ষ থেকে এই বিরল সম্মানের অধিকারী হলেন আবু লুবাবা।

আবু লুবাবার ঈমান ছিল পর্বতের মত অটুট। শক্ত। সামন্য ভুলের কারণেও তিনি মহান বারী তায়ালার কাছে এমনভাবে মাগফিরাত কামনা করতেন, যা ছিল সত্যিই বিরল।

একবার এমনি একটি ভুলের  কারণে নিজে অনুতপ্ত হয়ে ছুটে গেলেন মসজিদে নববীতে।

এরপর একটি মোটা ও ভারী বেড়ি দিয়ে নিজেই ঘোষণা দিলেন: যতক্ষণ আল্লাহপাক আমার তওবা কবুল না করেন, ততোক্ষণই এভাবে বাঁধা অবস্থায় থাকবো।

এভাবে কতদিন বাঁধা ছিলেন আবু লূবাবা?

কারো মতে দশ, আবারো কারো মতে বিশ দিন-রাত।

এসময়ে জরুরি প্রয়োজনে যেমন নামায ও অন্যান্য প্রয়োজনে তার স্ত্রী তাকে বেড়ি খুলে দিতেন। আবার প্রয়োজন মিটে গেলেই বেড়ি বেধে নিতেন।

এই অবস্থায় আবু লূবাবা আহার-পানাহার প্রায় ছেড়েই দিলেন। এতে করে তার শ্রবণ শক্তি কমে যায়।  দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হয়ে পড়ে। আর দুর্বলতায় শরীর ভেঙ্গে যায়। দুর্বলতার কারণে একদিন তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

তবুও নিজেকে মুক্ত করলেন না আবু লুবাবা।

দ্বিতীয় অংশ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

You may also like...

Skip to toolbar