সোনার মখমল।। ২য় অংশ

প্রথম অংশ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

রাসূল (সা) জানেন সবকিছু। তিনিও অপেক্ষায় আছেন মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নির্দেশের। রাসূলে করীম (সা) আছেন উম্মুল মুমিনীন হযরত উম্মু সালামার (রা) ঘরে।

তখন শেষ রাত।

প্রভাতের আগেই নাযিল হলো আয়াত।

রাসূল (সা) হেসে উঠলেন।

রাসূলের (সা) হাসি দেখে উম্মু সালাম জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহ আপনাকে সকল সময় খুশি রাকুন। বলবেন কি আপনার হাসির কারণ কী?

রাসূর (সা) বললেন, আবু লুবাবার তওবা কবুল হয়েছে।

উম্মু সালামা জানতে চাইলেন, আমি কি এই সুসংবাদটি মানুষকে জানাতে পারি?

তখনো হেজাব বা পর্দার আয়াত নাযিল হয়নি। রাসূল (সা) বললেন, হ্যাঁ উম্মু সালামা, তুমি এই সুসংবাদটি সবাইকে জানাতে পারো।

রাসূলের (সা) সম্মতি পেয়ে তিনি হুজরার দরোজায় দাঁড়িয়ে সকলকে বিষয়টি জানালেন।

উপস্থিত সবাই ছুটে গেলেন আবু লূবাবাকে মুক্ত করার জন্য।

আবু লুবাবা তার সিদ্ধান্তে অটল। বললেন, না কক্ষনো নয়। রাসূল (সা) নিজে এসে যতক্ষণ আমার বেড়ি খুলে না দেবেন, ততোক্ষণই এভাবে থাকবো।

রাসূল (সা) ফজরের নামাজের জন্য এলেন মসজিদে। আর তখনই তিনি নিজে হাতে বেড়ি খুলে দিলেন আবু লুবাবার।

তওবা কবুল হওয়ায় দারুণ খুশি হলেন আবু লূবাবা।

হিজরী ৮ম শনে মক্কা বিজয় অভিযানে বনু আমর ইবন আওফের ঝান্ডা ছিল হযরত আবু লুবাবার হাতে।

এছাড়াও, রাসূলে (সা) সময়ে সংঘটিত প্রতিটি যুদ্ধেই অংশ নিয়েছিলেন আবু লুবাবা।

যুদ্ধের ময়দানে তিনি ছিলেন সকল সময়ই দুঃসাহসী এবং দুর্বার।

আবার যুদ্ধের বাইরেতিনি ছিলেন একজন বড় আবেদ।

আল্লাহ এবং রাসূলের (সা) মহব্বতে তিনি তার জীবনটি উৎসর্গ করে দেন। আবু লুবাবা ছিলেন ইসলামের পূর্ণ অণুসারী।

কুরআন ও সুন্নাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলতেন পূর্ণভাবে। সেখানে কোনোরকম দুর্বলতার স্থান ছিল না।

কম কথা নয়, আবু লূবাবার তওবা কবুল হওয়ার ঘোষণা সম্বলিত আয়াত নাযিল করেছেন মহান রাব্বুল আলামীন।

এমন সৌভাগ্য কয়জনের হয়?

যাদের হয় তারা সবাই জ্যোতির অধিক।

হযরত আবু লুবাবা (রা)।

সারাটি জীবন যিনি মিথ্যার শেকল গলিয়েছেন সত্যের শিখায়।

আর শেষ পর্যন্ত যিনি হয়ে উঠেছেন কাঁটি সোনা। সোনার মখমল।

প্রথম অংশ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

You may also like...

Skip to toolbar