হজরত ওমরের চুমু!

হজরত ওমরের শাসন চলছে। শুরু হয়েছে রোম স¤্রাজের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। যুদ্ধে বন্দি হয়েছেন অনেক মুসলিম সৈনিক। সঙ্গে বন্দি একজন সাহাবিও। নবীর সাহাবিদের ব্যাপারে উঁচু ধারনা লালন করতো রোমানরা। রোমের বাদশাহ চমকে ওঠলেন সাহাবি বন্দির কথা শুনে। নবীর একজন সাহাবির আচরণ, চলাফেরা, কথাবার্তা কেমন হবে নানা প্রশ্ন বাদশাকে কৌতুহলি করে তুললো। বাদশার খুব আগ্রহ তৈরি হলো সাহাবির সাক্ষাতের। বন্দিশালা থেকে রোম সিংহাসনে ডেকে পাঠানো হলো আবদুল্লাহ ইবনে হুজাইফা রা. কে। বন্দি সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে হুজাইফা রা. কে দেখে সাদামাটাই মনে হলো বাদশার। বলা কওয়ার মতো তেমন কিছুই নেই। নেই জৌলস। তবে সাহাবির আত্মিক ছোঁয়ায় মুগ্ধ রোমের শাহী দরবার। হুজাইফার নূরানী ঝলকে বাদশার মনে বন্ধনের ঢেউ! আলাপচারিতা শেষে রোম রাজ্যের আবদার! সামান্য চাওয়া একজন সাহাবির কাছে। রোমের শাহী দরবার থেকে হুজাইফা রা.-এর কাছে মেয়ে বিয়ে প্রস্তাব আসে!
হে নবীর বন্দি সাহাবি, আমার মেয়েকে বিয়ে করতে হবে!
তবে শর্ত আছে!
কি শর্ত জনাব!
ইসলাম ছেড়ে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করতে হবে!
না জনাব! কখনই সম্ভব না!
কেন? সম্ভব না!
একজন নারীর চেয়ে; আমার ঈমান অনেক দামী!
ঠিক আছে নবীর বন্দি সাহাবি, তোমার ঈমানের দাম শোধ করে দিচ্ছি!
কিভাবে জনাব?
আমার রাজ্যের অর্ধেক তোমাকে দিয়ে দিবো? তবুও ঈমান ছাড়, বিয়ে করো!
শক্ত করে বললেন, ঈমান বেঁচেকেনা হয় না নির্বোধ বাদশাহ! একচুলোও ঈমান থেকে দূরে যেতে পারেবো না!
সাহাবির জোড় প্রতিবাদে ক্ষেপে গেলেন বাদশাহ! কেঁপে ওঠলো শাহী দরবার। বাদশাহ নির্দেশ দিলেন, বিশেষ রকমপাত্রে আগুন জ্বালাতে! তেল গরম করতে। প্রচ- উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে রাজ্যে। এভাবে রোমের বাদশাকে অপমানের নজির নেই। তেল জ্বালানো হচ্ছে। ফুটন্ত তেল রং বদল করছে। টগবট টগবগ করছে। বন্দিশালা থেকে একজন মুসলিমকে ধরে এনে উত্তপ্ত এই তেলে ছেড়ে দেওয়া হলো। আবদুল্লাহ ইবনে হুজাইফা রা. দেখলেন, মুসলিম বন্ধুর শরীর থেকে মুহূর্তে মাংস-হাড় আলাদা হয়ে গেছে। মাংস-হাড় খসে খসে তেলের ঢেউয়ে বাঁক নিচ্ছে। সাহাবি হুজাইফা সব দেখছেন। বাদশাহ এবার কঠোর কণ্ঠে বললেন, হে নবীর বন্দি সাহাবি, আমার মেয়েকে বিয়ে করো, ইসলাম ছাড়ো! না হয় উতপ্ত তেলে জ্বলতে হবে! সাহাবি হুজাইফা বললেন, শুধু তেলে কেন? আগুনে জ্বলতে হলেও হাসি মুখে রাজি আছি। তবুও ঈমান ছাড়তে পারবো না! বাদশাহ এবার হুকুম করলেন, সাহাবি হুজাইফা কে টগবগে তেলে নিক্ষেপ করতে। সাহাবি হুজাইফা তেলের কাছে ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সাহাবি কাঁদছেন। চোখ বেয়ে পানি নামছে। দরবারের বাহিনী বাদশাকে খবর পৌঁছালেন- সাহাবি হুজাইফা কাঁদছে। মনে হয় ভয় পেয়েছে, এবার ঈমানও ছাড়বে, বিয়েও করবে! বাদশাহ বললেন, আপনি কি ইসলাম ছাড়তে প্রস্তুত? সাহাবি হুজাইফ বললেন, এটা মনে করবেন না যে আমি মৃত্যুর ভয়ে কাঁদছি। আমি কাঁদছি এই ভেবে যে, আমার একটি জীবন আর তা এই মুহূর্তে শেষ হয়ে যাবে! যদি আল্লাহ তায়ালা আমাকে দেহের পশম পরিমাণ জীবনদান করেন! আর প্রতিবারই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তেলে জ্বলি; স্বাদের মৃত্যুকে আলিঙ্গন করি! তাহলেই আমি সফল হই! অবাক রোম বাদশাহ! নির্বিকার। এমন প্রচীরতম আত্মবিশ্বাস আর ইসলামের প্রতি গভীর ভালবাসা দেখে বাদশার লজ্জা হলো! ফিরে পেল অনুভূতি। পাথর গলে পানি হয়ে গেল। যাও নবীর সাহাবি তোমাকে মুক্ত করে দিবো! তবে আমার কপালে চুমু খেতে হবে। সাহাবি হুজাইফা বললেন, চুমু এঁকে দেবো! তবে আমাকে একা নয় সকল বন্দিকে মুক্ত করতে হবে! বাদশা রাজি হয়ে গেলেন। বাদশার কপালে এক চুমুতে মুক্ত হলেন হাজারজন। মদিনায় ফিরে পুরো ঘটনা শোনালেন, অর্ধপৃথিবীর বাদশা হজরত ওমরকে। হজরত ওমর রা. মসজিদে নববীতে এ বিষয়ে ভাষণ দিলেন। বললেন, তোমরা সবাই আব্দুল্লাহ বিন হুজাইফার রা-এর কপালে একটি করে চুমু দিবে। কারণ সে তার মুসলিম ভাইদের জীবন বাঁচিয়েছে। আর আমি নিজেই চুমু দিয়ে শুরু করছি! হজরত ওমরের চুমু উপহারে মুগ্ধ হুজাইফা।

You may also like...

Skip to toolbar